অঞ্জনগড় চলচ্চিত্র

অঞ্জনগড় চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা-  চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন বিমল রায়। সংগীত পরিচালনা করেছেন রাইচাঁদ বড়াল। এতে মুখ্য ভুমিকায় অভিনয় করেছেন সুনন্দা দেবী, অমিতা বসু, ফাল্গুনী রায়, পারুল কর।

অঞ্জনগড়ে রাজার হুকুমই শেষ কথা। দীর্ঘদিন ধরেই প্রজারাও এই হুকুম মেনে চলতেই অভ্যস্ত ছিল।  কয়েকজন ব্যবসায়ী রাজ্যের খনিজ সম্পদ লিজ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে।  প্রজারা আর আগের মতো রাজকাজে বেগার খাটতে রাজি নয়, তারা এখন দৈনিক মজুরিতে খনিতে কাজ করে। প্রজারা দীর্ঘদিনের বেগার প্রথা এবং সিন্ডিকেটের নির্দিষ্ট করা দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির জন্য প্রজামণ্ডল প্রতিষ্ঠা করেছে দুলাল মাহাতোর নেতৃত্বে ।

রাজা ও সিন্ডিকেটের মধ্যে বোঝাপড়া হয় এবং প্রজামঙ্গলকে শায়েস্তা করতে দুপক্ষই উৎসাহী। কিন্তু রাজার বিশ্বস্ত মিঃ মুখার্জী প্রজামঙ্গলের সংস্পর্শে এসে শুভার প্রেমে পড়েন, এবং মিঃ মুখার্জীর সাহায্যে প্রজারা রাজ্য শাসনের বিষয়ে নিজেদের ক্ষমতা আদায় করতে সক্ষম হয়।

 

 

অঞ্জনগড় চলচ্চিত্র

  •  প্রযোজনা—নিউ থিয়েটার্স।
  • কাহিনি ও সংলাপ — সুবোধ ঘোষ।
  • চিত্রনাট্য ও পরিচালনা— বিমল রায়।
  • সংগীত পরিচালনা —রাইচাঁদ বড়াল।
  • চিত্রগ্রহণ—কমল বসু।
  • শিল্প নির্দেশনা— অনিল ভট্টাচার্য, সুধেন্দু রায়।
  • শব্দগ্রহণ—বাণী দত্ত।
  • সম্পাদনা—হরিদাস মহলানবীশ।
  • গীতিকার—শৈলেন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • নৃত্য পরিচালনা —রেবা রায়।

 

অঞ্জনগড় চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —

সুনন্দা দেবী, অমিতা বসু, ফাল্গুনী রায়, পারুল কর, মনোরমা দেবী (ছোট), ছবি রায়, শঙ্কর সেন, রাজা গঙ্গোপাধ্যায়, কালীপদ সরকার, বিপিন গুপ্ত, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ইন্দু মুখোপাধ্যায়, তুলসী চক্রবর্তী, জীবেন বসু, ভাস্কর দেব, অনিল মিত্র, বলীন সোম, জহর রায়। নেপথ্য সংগীত—হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, উৎপলা সেন।

অঞ্জনগড় চলচ্চিত্রের কাহিনি—

করদ রাজ্য অঞ্জনগড়ে রাজার হুকুমই শেষ কথা, তাঁর কথার কোনো প্রতিবাদ চলে না। দীর্ঘদিন ধরেই প্রজারাও এই হুকুম মেনে চলতেই অভ্যস্ত ছিল। সম্প্রতি কয়েকজন ব্যবসায়ী রাজ্যের খনিজ সম্পদ লিজ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। মোটা টাকা রয়্যালটি পেয়ে রাজকোষ ফুলে ফেঁপে উঠলেও একটা অসুবিধা দেখা দিয়েছে। প্রজারা আর আগের মতো রাজকাজে বেগার খাটতে রাজি নয়, তারা এখন দৈনিক মজুরিতে খনিতে কাজ করে।

 

Google News অঞ্জনগড় চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

রাজা প্রথমে ভেবেছিলেন ব্যবসায়ীদের তৈরি সিন্ডিকেটের উস্কানিতেই এই ঘটনা ঘটছে, তিনি সিন্ডিকেটের উপর ক্ষিপ্ত হন। প্রজারা দীর্ঘদিনের বেগার প্রথা এবং সিন্ডিকেটের নির্দিষ্ট করা দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির জন্য প্রজামণ্ডল প্রতিষ্ঠা করেছে দুলাল মাহাতোর (কালীপদ) নেতৃত্বে ।

পেছন থেকে তাদের চালনা করেন ড. চৌধুরী ও তাঁর কন্যা শুভা (সুনন্দা) । রাজা ছোট দেওয়ান হিসাবে মিঃ মুখার্জীকে (রাজা) নিয়োগ করেন। প্রথম দিকে মুখার্জী সিন্ডিকেট ও বেয়াড়া প্রজাদের জব্দ করার চেষ্টা করেন, পরে তিনি প্রজামঙ্গল সংস্থার খবর পান ।

রাজা ও সিন্ডিকেটের মধ্যে বোঝাপড়া হয় এবং প্রজামঙ্গলকে শায়েস্তা করতে দুপক্ষই উৎসাহী। কিন্তু তাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।রাজার বিশ্বস্ত মিঃ মুখার্জী প্রজামঙ্গলের সংস্পর্শে এসে শুভার প্রেমে পড়েন, চাকরি ছেড়ে তাদেরই একজন হয়ে ওঠেন এবং মিঃ মুখার্জীর সাহায্যে প্রজারা রাজ্য শাসনের বিষয়ে নিজেদের ক্ষমতা আদায় করতে সক্ষম হয়। সুবোধ ঘোষের লেখা ফসিল অবলম্বনে এই ছবি তৎকালীন সময়ে আগ্রহী দর্শকের প্রশংসা অর্জন করলেও মূল গল্পের বক্তব্য থেকে সরে যাওয়ার জন্য কিছুটা সমালোচিত হয়েছিল।

 

Leave a Comment