অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশনঃ অনাদি বসু প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান এক সময় প্রধানত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সাথেই যুক্ত ছিল। ১৯০৮ সালের অরোরা বায়োস্কোপের ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী থেকে শুরু করে ১৯১১র অরোরা ফিল্ম কোম্পানি এবং ১৯২৯ সালের অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশনের যাত্রা অনাদি বসুর উদ্যোগেই হয়েছিল।
১০০ বছর অতিক্রম করেও এই প্রতিষ্ঠানটি এখনও চলচ্চিত্র ব্যবসার সাথে যুক্ত আছে। প্রথম দিকে বিভিন্ন নাটকের খণ্ডদৃশ্য গ্রহণ এবং তথ্যচিত্র ও সংবাদচিত্র নির্মাণের সাথে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মধ্যে নিজেদের কাজ সীমাবদ্ধ রাখলেও নির্বাক যুগেই অরোরা ফিল্ম কোম্পানি কাহিনিচিত্র নির্মাণ শুরু করে।

অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশন
অরোরা প্রযোজিত প্রথম কাহিনিচিত্র রত্নাকর (১৯২১) সুরেন্দ্রনারায়ণ রায়ের পরিচালনায় তৈরি হয়। নির্বাক যুগে অরোরা আরও ৬টি কাহিনিচিত্র নির্মাণ করে। সবাক যুগে প্রথম ছবি পতিব্রতা (১৯৪২)। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত অরোরা ১৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র নির্মাণের পাশাপাশি শিশু ও কিশোরদের উপযোগী ৬টি খণ্ডচিত্র নির্মাণ করে। এর সাথে সাথে এই সময়কালেই তারা ৮১টি তথ্যচিত্র এবং ৫২টি সংবাদচিত্রও নির্মাণ করেছে।
বিভিন্ন সময়ে যে সব পরিচালক এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নিরঞ্জন পাল, দেবকী বসু, বিজয় বসু, চিত্ত বসু, প্রেমের মিত্র, অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়, নরেশ মিত্র, সুকুমার দাশগুপ্ত, ফণী বর্মা প্রভৃতি।
অরোরা প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে তাঁরা চলচ্চিত্র প্রদর্শনে অংশ নিলেও পরবর্তীকালে চলচ্চিত্র পরিবেশনার দায়িত্ব নেন। ক্রমশ এই পরিবেশনার কাজেই তাঁরা অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত অরোরা বহু দেশীয় চলচ্চিত্র উৎপাদকদের পাশাপাশি বিদেশি কোম্পানির তৈরি ছবিও পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছিল।
নির্বাক যুগে তারা অন্তত ২৮টি দেশীয় কাহিনিচিত্রের সঙ্গে বহু বিদেশি ছবির প্রদর্শনের দায়িত্ব নিয়েছিল। নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত ২৫টি বাংলা কাহিনিচিত্র আরোরার মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রদর্শনশালায় দেখানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রযোজিত এবং সত্যজিৎ রায় পরিচালিত প্রথম কাহিনিচিত্র পথের পাঁচালী (১৯৫৫) পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছিল অরোরা।
১৯৪৫ সালে অনাদি বসুর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র অজিত বসু এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেন, যদিও পিতার জীবদ্দশাতেই অজিত বাবু কাহিনিচিত্র নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। এবং শিশু ও কিশোরদের উপযোগী খণ্ডচিত্রগুলি তাঁর উদ্যোগেই নির্মিত হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে অজিত বসুর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র অঞ্জন বসু প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে এই সংস্থা সল্টলেকে তাঁদের স্টুডিও পুনর্নির্মাণ করেছেন এবং কিছু তথ্যচিত্র প্রযোজনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

চলচ্চিত্র পঞ্জি—
- ১৯২১ রত্নাকর, দাদুর কেলেংকারী;
- ১৯২২। বিদ্যাসুন্দর:
- ১৯২৭ কৃষ্ণসখা
- ১৯২৮ কেলোর কীর্তি;
- ১৯৩১ পূজারী;
- ১৯৩৪ : নিয়তি;
- ১৯৩৯ : হাতেখড়ি:
- ১৯৪০: দ্বিতীয় পাঠ, অভিনব,
- ১৯৪২ পতিব্রতা,
- ১৯৪৪: সন্ধ্যা;
- ১৯৪৬: পথের সাথী:
- ১৯৪৯ : বন্ধুর পথ;
- ১৯৫১ খেলাঘর, বোধোদয়, ছুটির দিনে;
- ১৯৫২ প্রহ্লাদ:
- ১৯৫৩ : মুস্কিল আসান;
- ১৯৫৪ জয়দেব,
- ১৯৫৫ রাইকমল, প্রতিশোধ,
- ১৯৫৬ মহানিশা
- ১৯৫৭ : হরিশ্চন্দ্র;
- ১৯৬২ ভগিনী নিবেদিতা;
- ১৯৬৪ রাধাকৃষ্ণ;
- ১৯৬৫ : রাজা রামমোহন;
- ১৯৬৮ : চুপি চুপি আসে;
- ১৯৬৯ : আরোগ্য নিকেতন;
- ১৯৭৩ দুরন্ত জয়।
প্রকাশনা :
বারিদবরণ ঘোষ সম্পাদিত অরোরা শতবর্ষপণী ইতিকথা, এম.সি. সরকার, ২০১০।