অশনি সংকেত চলচ্চিত্র

অশনি সংকেত চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা-অশনি সংকেত হল ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। বিশিষ্ট ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় এই ছায়াছবিটি পরিচালনা করেন। ছায়াছবিটি নির্মিত হয়েছিল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একই নামের একটি উপন্যাস অবলম্বনে।অশনি সংকেত সত্যজিৎ রায় পরিচালিত প্রথম রঙিন ছায়াছবি।

অশনি সংকেত ছায়াছবিটির পটভূমি ১৯৪৩-৪৪ সালের দুর্ভিক্ষপীড়িত বৃহত্তর বাংলা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার সেনাবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত খাদ্য সংগ্রহ করলে বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলে তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ফলে ৫০ লাখ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হন। এই দুর্ভিক্ষ কীভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছিল তা-ই এই ছায়াছবির মূল উপজীব্য।

 

 

 

অশনি সংকেত চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা – বলাকা মুভিজ প্রাঃ লিঃ
  • কাহিনি—বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • চিত্রনাট্য, সংগীত ও পরিচালনা—সত্যজিৎ রায়।
  • চিত্রগ্রহণ—সৌমেন্দু রায়।
  • শিল্প নির্দেশনা—অশোক বিসু।
  • সম্পাদনা – দুলাল দত্ত।
  • শব্দগ্রহণ – জে.ডি. ইরানী, দুর্গাদাস মিত্র, মঙ্গেশ দেশাই।

অশনি সংকেত চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ববিতা, সন্ধ্যা রায়, গোবিন্দ চক্রবর্তী, রমেশ মুখোপাধ্যায়, শেলী পাল, চিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভ্রা নাথ, শুচিতা রায়, ননী গঙ্গোপাধ্যায়, দেবতোষ ঘোষ, সন্তোষ মিত্র, সুনীল সরকার, অনিল গঙ্গোপাধ্যায়, পরিতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজকুমার লাহিড়ী, অরুণ রায় ও আরও অনেকে।

 

Google News অশনি সংকেত চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

অশনি সংকেত চলচ্চিত্রের কাহিনি—

১৯৪২-৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মানুষের তৈরি দুর্ভিক্ষের কারণে মন্বন্তরের পটভূমিকায় তৈরি এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র গঙ্গাচরণ (সৌমিত্র)। চাষি সম্প্রদায় এবং তথাকথিত নীচু জাতের মানুষ অধ্যুষিত বাংলার একটি গ্রামে বিশ্বাস মশাই (রমেশ)এর তৈরি পাঠশালায় মাস্টার হিসাবে কাজ করতে আসে গঙ্গা। তার পরিবারে আছে তার স্ত্রী অনঙ্গ (ববিতা)। বিশ্বাস মশাই অবস্থাপন্ন চাষি। মাস্টারের সব খরচ তিনিই চালান। গ্রামের ব্রাহ্মণ পরিবারের কর্তা হিসাবে গঙ্গাকে সকলেই শ্রদ্ধা করে, গঙ্গা স্কুলের কাজ ছাড়াও পুরোহিতের এবং চিকিৎসকের কাজও করে থাকে। গ্রামের মানুষরা গঙ্গা ও তার স্ত্রীকে নিজেদের করে নিয়েছে।

হঠাৎই যুদ্ধের কারণে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। গরিব চাষিরা বাড়তি দাম পেয়ে চাল বিক্রি করে দেয়, চালের জন্য শুরু হয় হাহাকার। এক শ্রেণির মজুতদার কৃত্রিম অভাব সৃষ্টিতে মনত দেয়, গ্রামে গ্রামে চালের দোকান লুট হয়। প্রথমে গঙ্গা বিষয়টিতে আমল দেয় নি, পরে বুঝতে পেরে বিশ্বাস মশায়ের সাথে দেখা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে।

 

অশনি সংকেত চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

গ্রামের চাষি বৌ ছুটকি (সন্ধ্যা) ছিল অনঙ্গর বন্ধুস্থানীয়। এক মুঠো চালের জন্য যদু (ননী)র কাছে দেহ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। জঙ্গলে মেটে আলু খুঁজতে গিয়ে অনঙ্গ প্রায় ধর্ষিতা হতে হতে কোনো মতে রক্ষা পায়। হরিজন তরুণী মতি (চিত্রা) অনাহারে মারা যায়। এই সর্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের সময়ে অনঙ্গ তার স্বামীকে জানায় সে মা হতে যাচ্ছে।

এই দুর্ভিক্ষের কারণে ঐ সময় কয়েক লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, কোনো অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি এই দুর্ভিক্ষ তৈরি করে নি। করেছিল এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এবং মজুতদারের লোভ। বিভূতিভূষণের কাহিনিতে এই পরিসংখ্যান না থাকলেও সত্যজিৎ তাঁর ছবিতে সেটি রেখেছেন।

 

Google News অশনি সংকেত চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

পুরস্কার :

বাংলা ভাষায় নির্মিত সেরা ছবি হিসাবে ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার ছাড়াও এই ছবির চিত্রগ্রাহক সৌমেন্দু রায় সেরা চিত্রগ্রাহকের জাতীয় সম্মান এবং সত্যজিৎ রায় সেরা পরিচালকের জাতীয় সম্মান লাভ করেন; ১৯৭২ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি সেরা ছবি হিসাবে স্বর্ণ ভল্লুক পায়।

প্রকাশনা :

এই ছবির চিত্রনাট্য ১৯৭৩ সালে এক্ষণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

Leave a Comment