অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায় বিহার প্রদেশের ভাগলপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন। জন্মকালীন তিনি কুমুদলাল গঙ্গোপাধ্যায় নামে পরিচিত ছিলেন ও নিজ বাড়িতে মজা করে তাকে দাদামণি নামে ডাকা হতো। ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে অশোক কুমার নিজেকে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছেন। তরুণ বয়স থেকেই চলচ্চিত্র জীবনে অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখতেন।

অশোক কুমার
অশোক কুমার জব্বলপুরের রবার্টসন কলেজ থেকে স্নাতক হয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় আসেন। কিছুদিন কলকাতায় কাটিয়ে বোম্বেতে যান এবং শশধর মুখোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় বোম্বে টকীজের রসায়নাগারে সহকারী হিসাবে যোগ দেন। পরবর্তীকালে বোম্বে টকীজের জীবন নাইয়া (১৯৩৯) এবং অদ্ভুতকন্যা (১৯৩৬) ছবিতে অভিনয় করেন। এই ছবিগুলির জনপ্রিয়তা অশোককুমারকে নায়ক হিসাবে পরিচিতি এনে দেয়।
হিন্দি চলচ্চিত্রাঙ্গণে স্বভাবসুলভ অভিনয় করে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন অশোক কুমার। প্রথম মহাতারকা হিসেবে খলনায়ক চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। ভারতীয় চলচ্চিত্রে বেশকিছুসংখ্যক তারকা ব্যক্তিত্বের প্রতিষ্ঠা লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বোম্বে টকিজের পরিচালক হিসেবে ১৯৪৮ সালে দেব আনন্দকে প্রথমবারের মতো জিদ্দি চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণ করান। এছাড়াও, দেশ বিভাজনের পর ভারতে চলে আসা অভিনেতা প্রাণকে ঐ সময়ের সফলতম খলনায়ক হিসেবে পুনর্বাসন ঘটান।
প্রধানত হিন্দী ছবির অভিনেতা অশোককুমারের বাংলা ছবিতে প্রথম অভিনয় পাইযোনীয়ার ফিল্ম প্রযোজিত এবং দেবকী বসু পরিচালিত চন্দ্রশেখর (১৯৪৭)। এই ছবিতে তিনি নায়ক সমর এবং কানন দেবী নায়িকা শৈবলিনীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে মাত্র। পাঁচটি বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত অন্যান্য চরিত্রগুলি হল অমরনাথ (সমর, ১৯৫০), শৈবাল (হসপিটাল, ১৯৬০), ডঃ সদাশিব মুখোপাধ্যায় (হাটে বাজারে, ১৯৬৭) এবং নায়কের বাবা (আনন্দ আশ্রম, ১৯৭৭)।

দেবকী বসু ছাড়াও বাংলা ছবিতে নীতিন বসু, সুশীল মজুমদার, তপন সিংহ এবং শক্তি সামস্তের সাথে কাজ করেছেন। আজীবন চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ভারত সরকার ১৯৮৮ সালে তাঁকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার দিয়ে সম্মান জানায়।২০০১ সালে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বেসামরিক সম্মান ও ২০০৭ সালে স্টার স্ক্রিন বিশেষ পুরস্কার পান তিনি।