বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক শান দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁর সুরের জাদুতে মুগ্ধ করে চলেছেন লাখো অনুরাগীকে। সাধারণত বিতর্ক থেকে দূরে থাকা এই শিল্পী এবার সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের খ্যাতনামা পরিবেশবিদ আসিফ ভামলার আয়োজিত একটি ইফতার পার্টিতে উপস্থিত হওয়ায় কিছু নেটিজেন শানকে ‘কাফের’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

ইফতার পার্টিতে শানের উপস্থিতি
ইফতার পার্টিতে শান শুধুমাত্র উপস্থিতি দিয়ে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি রমজানের শুভেচ্ছা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছিলেন।
তার পোশাক এবং আচরণ অনুরাগীদের নজর কাড়ে।
শানের পোশাক ও পরিবেশনা:
পোশাক: সাদা কুর্তা-পাজামা, গলায় সবুজ উত্তরীয়, মাথায় সাদা কাশ্মীরি টুপি
গান: ২০০৬ সালের ফানা সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘চাঁদ সিফারিশ’
অন্যান্য শিল্পী: স্টিবেন বেন
অনুরাগীদের সঙ্গে: হাসিমুখে আলাপ, সেলফি তোলা, শুভেচ্ছা বিনিময়
এই উপস্থিতি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেক অনুরাগী শানের সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাবের প্রশংসা করেন, তবে নেটিজেনদের একাংশ কড়া সমালোচনা শুরু করেন।
নেটিজেনদের সমালোচনা
সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য দেখা যায়, যার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য:
“হিন্দু হয়ে ইফতারে কেন?”
“কাফের!”
“কোনো মুসলিমকে হিন্দু উৎসবে দেখেছেন?”
“মৌলানা শান!”
“রমজানে গান গেয়ে ইসলাম নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে!”
তবে সমালোচনার পাশাপাশি শানের সমর্থকরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এটি কেবল শান্তিপূর্ণ সৌহার্দ্য ও সংস্কৃতি বিনিময়-এর একটি অংশ।
শানের সংগীত ক্যারিয়ার
দীর্ঘ কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে শান বহু সুপারহিট গান উপহার দিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠ আজও সমান জনপ্রিয়।
সম্প্রতি তিনি ‘সিকান্দার’ সিনেমায় ‘ব্যোম ব্যোম ভোলে’ গানটি গেয়ে প্রশংসিত হয়েছেন।
২০০৬ সালের ফানা, জাব তুমহেরে, ছুপকে ছুপকে, ওম শান্তি ওম প্রভৃতি সিনেমার গান আজও শ্রোতাদের মনে প্রাণবন্ত।
শান যেখানেই গানের মাধ্যমে আবহ তৈরি করেন, তা সবসময় সাধারণ মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: শানের লক্ষ্য
শান সবসময় বিশ্বাসী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তায়। এই ইফতার পার্টিতে অংশ নেওয়াকে তার ভক্তরা দেখতে পাচ্ছেন ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে।
একজন সমর্থক লিখেছেন—
“শান সবসময় মানুষের মধ্যে মিলন এবং ভালোবাসার বার্তা দিতে বিশ্বাসী। তার ক্যারিয়ার, গান ও ব্যক্তিত্ব সবই সেই বার্তাকে প্রমাণ করে।”
শান নিজে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানালেন না। তবে তাঁর ভক্তরা আশাবাদী যে, এই ঘটনার মধ্যেও তিনি শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বজায় রাখবেন।
শান কেবল একজন গায়ক নন, তিনি এক সাংস্কৃতিক প্রতীক।
রঙিন পোশাক, মঞ্চে উপস্থিতি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ—সবকিছুতেই তিনি যে বার্তা দিতে চান তা হলো ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও মিলন।
যদিও নেটিজেনে বিতর্ক চলছে, শানের অনুগামীরা মনে করেন এটি শুধু সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টার অংশ।
“গান আর সুর কখনোই ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ফাঁদে বাঁধা নয়—এটি মানুষের অন্তরের ভাষা।”
#শান #Shan #BollywoodSinger #IftarParty #CommunalHarmony #MusicForPeace #নেটিজেন #বিনোদন #Bollywood #চাঁদসিফারিশ #Fana #সাম্প্রদায়িকসম্প্রীতি #CulturalHarmony
