কমললতা চলচ্চিত্র

কমললতা চলচ্চিত্রটি হল একটি জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্র যা পরিচালনা করেন হরিসাধন দাসগুপ্ত। এই চলচ্চিত্রটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়র একটি বিখ্যাত উপন্যাস থেকে নির্মিত হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৬৯ সালে চারুচিত্র ব্যানারে মুক্তি পেয়েছিল এবং এই চলচ্চিত্রটি সংগীত পরিচালনা করেছিলেন রবিন চট্টোপাধ্যায়। এই চলচ্চিত্রটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, তরুণ কুমার, পাহাড়ী সান্যাল।

কমললতা ছিলেন একজন বৈষ্ণবী। শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতেন। গহর মিয়ান একজন দরিদ্র মুসলিম গায়ক এবং শ্রীকৃষ্ণের গান লিখতেন। গহর কমললতার প্রেমে পড়েছিলেন। এই সময়ে শ্রীকান্ত যিনি গহরের শৈশবের বন্ধু ছিলেন তিনি আখড়ায় থাকতে এসেছিলেন। কমললতা শ্রীকান্তের প্রেমে পড়েন। একদিন তিনি শ্রীকান্তকে প্রস্তাব দেন এবং তাকে তার গল্প বলেন ।এরপর শ্রীকান্ত কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন। কমললতাকে গহরের সাথে সম্পর্ক থাকার জন্য দোষারোপ করা হয় এবং আখড়া থেকে দূরে পাঠানো হয়। শ্রীকান্ত ফিরে এসে সবকিছু জানতে পারে। তিনি কমললতাকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিল কিন্তু কমললতা রাজি হন নি এবং বৃন্দাবনে চলে গিয়েছিলেন।

 

 

কমললতা চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা — চারুচিত্র
  • কাহিনি — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
  • কাহিনি পরিবর্ধন ও সংলাপ-  নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়।
  • চিত্রনাট্য ও পরিচালনা — হরিসাধন দাশগুপ্ত।
  • সংগীত পরিচালনা—রবীন চট্টোপাধ্যায়।
  • চিত্রগ্রহণ – অনিল গুপ্ত, জ্যোতি লাহা।
  • শিল্প নির্দেশনা — প্রীতিময় সেন, সুজিত – দাস, সুবোধ দাস।
  • শব্দগ্রহণ — সত্যেন চট্টোপাধ্যায়, নৃপেন পাল, জে. ডি. ইরানী, বাণী দত্ত, অতুল চট্টোপাধ্যায়, সৌমেন চট্টোপাধ্যায়, অনিল দাশগুপ্ত, শ্যামসুন্দর ঘোষ।
  • সম্পাদনা – দুলাল দত্ত।
  • গীতিকার — প্রণব রায় (এছাড়াও জয়দেব, বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস-এর কয়েকটি পদ ছবিতে গান হিসাবে ব্যবহাত হয়েছে।

কমললতা চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —

উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, নির্মলকুমার, পাহাড়ী সান্যাল, জহর রায়, তরুণকুমার, ধীরেন চট্টোপাধ্যায়, সমরকুমার, বিজন ভট্টাচার্য, অজিত চট্টোপাধ্যায়, ছায়া দেবী, যুই বন্দ্যোপাধ্যায়, রমি চৌধুরী, মিতা মুখোপাধ্যায়, ইন্দু দেবী, মায়া দেবী, প্রমীলা ত্রিবেদী।

 

Google News কমললতা চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

কমললতা চলচ্চিত্রে যারা নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন –

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র।

কমললতা চলচ্চিত্রের কাহিনি—

শরৎচন্দ্রের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘শ্রীকান্ত’র চতুর্থ পর্ব অবলম্বনে এই ছবির নায়ক শ্রীকান্ত (উত্তম) তখন বার্মায় চাকরি করে। কিছুদিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে। দেখা হয় ছোটবেলার বন্ধু গহরের (নির্মলকুমার) সাথে। গহর তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়।

সেখানে গহর তার বাড়ির কাজের লোক নবীনকে (জহর) নিয়ে বাস করে। সে কবিতা লেখে, বর্তমানে নতুন করে রামায়ণ লিখছে, তার ধারণা এই কাব্য তাকে অমর করে রাখবে । গহর পৈতৃক সূত্রে অনেক টাকার মালিক, লোকজনকে অর্থ বিলিয়ে দিয়েই তার আনন্দ। একদিন শ্রীকান্ত গহরের সন্ধানে পার্শ্ববর্তী গ্রাম মুরারীপুকুরে গিয়ে বৈষ্ণবদের আখড়ায় তার সন্ধান পায়।

 

 

 

দেখা হয় কমললতার (সুচিত্রা) সাথে। তার রূপ এবং ব্যবহারে সবাই মুগ্ধ, শ্রীকান্তও মুগ্ধ হয়। কমললতার অনুরোধে সে আখড়ায় গিয়ে থাকতে বাধ্য হয়। আখড়ার শুরু দ্বারিক দাস বাবাজিও (পাহাড়ী) শ্রীকান্তকে আপন করে নেন। কমললতা তার অতীতের সব কথাই শ্রীকান্তকে জানায়। সে শ্রীকান্তকে একান্ত আপন করে নেয়।

কমললতার প্রতি গহরের নিঃশব্দ প্রেম মন্মথর প্ররোচনায় নিন্দিত হয়। এই মন্মথই একসময় কমললতাকে নষ্ট করেছিল। নিজের ভাগ্নে যতীনকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করেছিল, তখন কমললতার নাম ছিল ঊষা। কমললতার নিন্দা নবদ্বীপেও ছড়িয়ে যায়, তারা কমললতার বিচার করতে মুরারীপুকুর আসে। গহর তখন মৃত্যুশয্যায়, কমললতা তার পরম বন্ধু এবং একান্ত হিতৈষী এই বাউল মানুষটির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছে।

 

 

গহরের মৃত্যুর পর কমললতার আর মুরারীপুকুরের আখড়ায় স্থান হয় না। শ্রীকান্তও খবর পেয়ে কলকাতা থেকে আসে। গহরের লেখা অসম্পূর্ণ ‘রামায়ণ’ শ্রীকান্ত মুরারীপুকুরের আখড়ার ঘারিক দাস বাবাজির কাছে জমা দেয়। বাবাজিও সেটি সাগ্রহে গ্রহণ করেন, কারণ তিনিও গহরকে স্নেহ করতেন। কমললতা বৃন্দাবনের উদ্দেশে যাত্রা করে। শোকাহত শ্রীকান্ত তাকে ট্রেনে তুলে দেয়। ছবিটি তৎকালীন সময়ে জনসমাদর লাভ করেছিল।

 

Leave a Comment