কাঞ্চনজঙ্ঘা চলচ্চিত্রটি ১৯৬২ সালের সত্যজিৎ রায় পরিচালিত একটি বাংলা চলচ্চিত্র।
চলচ্চিত্রটি কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতটির কাছাকাছি অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, দার্জিলিঙে স্বপরিবারে ছুটি কাটাতে যাওয়া একটি উচ্চ শ্রেণীর বাঙালি পরিবার সম্পর্কে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা – এন সি এ প্রোডাকসন্স।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংগীত ও পরিচালনা —সত্যজিৎ রায়।
- চিত্রগ্রহণ – সুব্রত মিত্র।
- শব্দগ্রহণ – দুর্গাদাস মিত্র।
- সম্পাদনা – দুলাল দত্ত।
- গীতিকার- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- কণ্ঠসংগীত — অমিয়া ঠাকুর, ইন্দ্রবাহাদুর থাপালিয়া, গোপাল তামাং, গুইয়ে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —
ছবি বিশ্বাস, করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাহাড়ী সান্যাল, অনিল চট্টোপাধ্যায়, অনুভা গুপ্তা, অলকানন্দা রায়, এন. বিশ্বনাথন, অরুণ মুখোপাধ্যায়, সুব্রত সেন, ইন্দ্রাণী সিংহ, হরিধন মুখোপাধ্যায়, বিদ্যা সিংহ, নীলিমা রায়চৌধুরী, লীলা।

কাঞ্চনজঙ্ঘা চলচ্চিত্রের কাহিনি—
রায়বাহাদুর ইন্দ্রনাথ চৌধুরী (ছবি), স্ত্রী লাবণ্যপ্রভা (করুণা), শ্যালক জগদীশ (পাহাড়ী), পুত্র অনিল (অনিল), বড় মেয়ে অনিমা (অনুভা), জামাই শঙ্কর (সুব্রত), ছোট মেয়ে মনীয়া (অলকানন্দা), এবং নাতনি টুকলুকে নিয়ে দার্জিলিং বেড়াতে এসেছেন। পরিবারে ইন্দ্রনাথের কথাই শেষ কথা গণ্য হয়। চান ছোট মেয়ে কলেজ পড়ুয়া মনীষা, সদ্য বিলেত ফেরত ইঞ্জিনিয়র প্রণবের (এন. বিশ্বনাথন) বিবাহ প্রস্তাবে মত দিক। আজ তাদের দার্জিলিং ভ্রমণের শেষ দিন, এই দিন বিকেল বেলার ঘটনাবলি নিয়ে কাঞ্চনজঙ্ক্ষার কাহিনি নির্মাণ করা হয়েছে।
বড় মেয়ে অনিমার সাথে তার স্বামীর মতবিরোধের ফলে তাদের সম্পর্ক ভাঙনের মুখে এই দিন মেয়ে টুকলুর মুখের দিকে তাকিয়ে তারা মতবিরোধ ভুলতে রাজি হয়। লাবণ্যপ্রভা এই প্রথম বার স্বামীর মতের বিরুদ্ধে গিয়ে মনীষাকে স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেন। মনীষার বিশ্বাস প্রণবকে বিয়ে করে সে সুখী হবে না। সে প্রণবকে প্রায় না বলে দেয়।
অনিল হালকা প্রকৃতির যুবক, সে সাময়িক প্রমোদের জন্য বান্ধবীর অন্বেষণে রত। এছাড়াও আছেন মধ্যবিত্ত স্কুল শিক্ষক শিবশঙ্কর (হরিধন) এবং তাঁর ভাইপো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী অশোক (অরুণ)। শিবশঙ্কর ইন্দ্রনাথের প্রভাব সম্পর্কে অবহিত, তিনি ইন্দ্রনাথের কাছে ভাইপোর চাকরির জন্য অনুরোধ জানান। অশোক ইতিমধ্যেই মনীষার সাথে পরিচিত হয়েছে, সে এই প্রস্তাবে কুণ্ঠিত বোধ করে। শেষ পর্যন্ত ইন্দ্রনাথের চাকরির প্রস্তাবে অশোক তার অসম্মতি জানায়। অপর দিকে মনীষা ভবিষ্যতে কলকাতায় অশোকের সাক্ষাৎ পেতে আগ্রহী বলে তাকে জানাতেও দ্বিধা করে না।
ছবির শেষে আমরা দেখতে পাই ইন্দ্রনাথের পরাজয়। স্ত্রী লাবণ্য, কন্যা মনীষা তাঁর ইচ্ছাকে অমান্য করে। অশোকের চাকরির প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সে তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এই পরাজয় তাঁকে এতটাই ক্ষুব্ধ করে যে সারা দিন মেঘাবৃত কাঞ্চনজঙ্ঘা যে দৃশ্যমান হয়েছে সে দিকেও তিনি তাকিয়ে দেখেন না।
এই ছবি সত্যজিতের প্রথম মৌলিক চিত্রনাট্য অবলম্বনে তৈরি এবং একই সাথে সত্যজিতের প্রথম রঙিন ছবি। এই ছবিতে তিনি রীল টাইম এবং রিয়েল টাইমকে এক করার চেষ্টা করেছেন। দার্জিলিংএর ম্যালে একটি বিকালের কাহিনি প্রায় ১০০ মিনিট সময়কাল ধরে দেখানো হয়েছে। ছবির সংলাপে সত্যজিতের রসবোধের সাথে সাথে, পারমাণবিক পরীক্ষা এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব এবং সমসাময়িক সামাজিক অবস্থাও বিবৃত হয়েছে।
প্রকাশনা—
ছবির চিত্রনাট্য মিত্র ও ঘোষ থেকে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
