কৃষ্ণচন্দ্র দের জন্ম কলকাতায়, মাত্র চোদ্দো বছর বয়সে তাঁর দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। শশীমোহন দে মহেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, ওস্তাদ বাদল খাঁ প্রভৃতির কাছে সংগীত শিক্ষা নিয়েছিলেন। ১৯২৪ সালে আলফ্রেড থিয়েটারে তার প্রথম মঞ্চাভিনয়। পরবর্তী কালে শিশিরকুমার ভাদুড়ীর ‘সীতা’ সহ অনেক নাটকেই তিনি গায়ক অভিনেতা হিসাবে মঞ্চে অবতীর্ণ হয়েছেন, বহু নাটকে সংগীত পরিচালনাও করেছেন। বিভিন্ন ভাষায় তাঁর গাওয়া হাজারের বেশি গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে।
কৃষ্ণচন্দ্র দে
প্রথম চলচ্চিত্রাভিনয় নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত এবং দেবকী বসু পরিচালিত চণ্ডীদাস (১৯৩২) ছবিতে। এই ছবিতে তিনি গায়ক অভিনেতা হিসাবে শ্রীদামের ভূমিকায় অভিনয় করেন। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিনীত চরিত্র সুরদাস (ভাগ্যচক্র, ১৯৩৫), কৃষ্ণ ঠাকুর (দেশের মাটি, ১৯৩৮), চন্দ্রনাথ (পূরবী, ১৯৪৮) প্রভৃতি।
১৯৩২-৫৭ পর্যন্ত চলচ্চিত্র জীবনে তিনি ২৫টি ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি ১৬টি ছবির সংগীত পরিচালনা এবং ২২টি ছবিতে গায়ক অভিনেতা বা নেপথ্য সংগীতশিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন।
দেবকী বসু, প্রিয়নাথ গঙ্গোপাধ্যায়, নরেশ মিত্র, প্রমথেশচন্দ্র বড়ুয়া, নীতিন বসু, প্রফুল্ল রায়, চিত্ত বসু, মধু বসু, নীরেন লাহিড়ী, প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রভৃতি পরিচালকের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল। নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা কে.সি.দে. প্রোডাকসন্সএর ছত্রচ্ছায়ায় নির্মাণ করেন পুরবী (১৯৪৮)। ছবিটি পরিচালনা করেন চিত্ত বসু। এই ছবিতে সংগীত পরিচালনা, নেপথ্য সংগীতশিল্পীর কাজের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় চরিত্রে তিনি অভিনয়ও করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মান্না দে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র।

চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৩২ চণ্ডীদাস
- ১৯৩৩ যমুনা পুলিনে সাবিত্রী
- ১৯৩৫ ভাগ্যচক্র, দেবদাস, বিরহ, বিদ্রোহী, মন্ত্রশক্তি, বিদ্যাসুন্দর, প্রযু:
- ১৯৩৬ গৃহদাহ, বিজয়া, মায়া, পরপারে, সোনার সংসার;
- ১৯৩৭ রাঙা বৌ,
- ১৯৩৮ বিদ্যাপতি, দেশের মাটি,
- ১৯৩১ শর্মিষ্ঠা, চাণকা, নরনারায়ণ,
- ১৯৪০ আলোছায়া।
- ১৯৪১ শকুন্তলা,
- ১৯৪২ নারী, মীনাক্ষী,
- ১৯৪৮ পূরবী, দৃষ্টিদান, অনির্বাণ,
- ১৯৪৯ বামুনের মেয়ে,
- ১৯৫০ ধানতলা লাইট রেলওয়ে:
- ১৯৫২ প্রহ্লাদ
- ১৯৫৩ রাখী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য,
- ১৯৫৭ মধুমালতী, এক তারা।
