খলনায়কের চরিত্রে আর নয়, নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজছেন ববি দেওল

মুম্বাই, ২ মার্চ ২০২৫: ‘লাভ হোস্টেল’ থেকে ‘রেস থ্রি’, ‘আশ্রম’ থেকে ‘অ্যানিমেল’—এই চারটি কাজেই দর্শক দেখেছেন এক নতুন ববি দেওলকে। বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা যেন পুনর্জন্ম নিয়েছেন এক ভয়ঙ্কর অথচ রহস্যময় খলনায়ক হিসেবে। তার প্রতিটি চরিত্র দর্শকদের মনে এমন ছাপ ফেলেছে যে, আজ তাকে অন্য ভূমিকায় কল্পনা করা অনেকের কাছেই কঠিন। তবুও, এই বহুল প্রশংসিত অন্ধকার জগত থেকে নিজেকে এখন সরিয়ে নিতে চাইছেন ববি।

খলনায়কের চরিত্রে আর নয়, নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজছেন ববি দেওল

খলনায়কের চরিত্রে আর নয়

খলনায়কের চরিত্রে সাফল্যের উজ্জ্বল অধ্যায়

ববি দেওলের অভিনয়জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। ২০২০ সালে প্রকাশ ঝা পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘আশ্রম’-এর ‘নিরালা বাবা’ চরিত্রে তিনি শুধু অভিনয় করেননি, বরং চরিত্রটির মধ্যে এক ভৌতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দেন। দর্শক ও সমালোচকরা তাকে বলেন “দ্য মেসমারাইজিং ভিলেন”—যিনি simultaneously ঘৃণিত ও আকর্ষণীয়।

এরপর ‘লাভ হোস্টেল’-এ ববি রূপ নেন এক নির্দয় শিকারিতে, যার চোখে কোনো দয়া নেই; আবার ‘রেস থ্রি’-তে তিনি বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য এনে দেন সালমান খানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী চরিত্রে অভিনয় করে।
কিন্তু প্রকৃত বিস্ফোরণ ঘটে ২০২৩ সালের সিনেমা ‘অ্যানিমেল’-এ। সেখানে তার সংলাপবিহীন খলচরিত্র দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়। সীমিত পর্দা উপস্থিতি সত্ত্বেও তার ‘ভয়ংকর নীরবতা’ সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

ববি দেওল 3 খলনায়কের চরিত্রে আর নয়, নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজছেন ববি দেওল

খলনায়কের চরিত্রে আর নয়

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ববি দেওল অকপটে স্বীকার করেছেন যে, একঘেয়ে চরিত্রে অভিনয় করতে করতে তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত। তিনি বলেন—

“আমি বুঝতে পারছি, আমি বারবার একই রকম চরিত্রে অভিনয় করছি। দর্শকরা আমাকে ভালোবেসেছেন, কিন্তু আমিও তো নতুন কিছু করতে চাই। এখন এমন চরিত্র খুঁজছি, যা আমাকে আবার চ্যালেঞ্জ করবে, নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।”

তিনি আরও যোগ করেন—

“প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতেই হবে এমন কোনো শর্ত আমার নেই। আমি এমন চরিত্রে কাজ করতে চাই, যা গল্পের ভিতকে শক্তিশালী করবে, আর দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলবে।”

ববি দেওল 1 খলনায়কের চরিত্রে আর নয়, নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজছেন ববি দেওল

‘আশ্রম’ থেকে ‘অ্যানিমেল’: ববির আত্মবিশ্বাসের যাত্রা

ববি দেওল তার অভিনয়জীবনের শুরু করেছিলেন ১৯৯৫ সালে, রাজকুমার সন্তোষীর ‘বারসাত’ সিনেমা দিয়ে। নব্বইয়ের দশকে তিনি ছিলেন এক রোমান্টিক হিরো—‘গুপ্ত’, ‘সোলজার’, ‘বিচ্ছু’, ‘হামরাজ’-এর মতো সিনেমা তাকে দিয়েছিল তারকা খ্যাতি। কিন্তু ২০০০-এর পর তাঁর ক্যারিয়ারে আসে দীর্ঘ নিম্নগতি।

সেই সময়েই তিনি নিজের অভিনয়ধারায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ বিরতির পর ‘আশ্রম’ তার ক্যারিয়ারে এক মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি বলেন,

“আমি জানতাম, যদি ফিরে আসি, তাহলে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে হবে। নিরালা বাবার চরিত্র আমাকে নিজের অজানা দিক চিনতে সাহায্য করেছে। আমি বুঝেছি, নায়ক বা খলনায়ক—এগুলো শুধু লেবেল। আসল বিষয় হলো, চরিত্রটি দর্শকের মনে কত গভীর ছাপ ফেলছে।”

দর্শক ও সমালোচকদের প্রত্যাশা

‘অ্যানিমেল’-এর পর ববির জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বলা হচ্ছে “ববি দ্য রিডিমড স্টার” — যিনি নিজের অতীত ব্যর্থতাকে পরিণত করেছেন নতুন শক্তিতে।
বলিউড বিশ্লেষক রজত শর্মা বলেন,

“ববি দেওল আজ ভারতের অন্যতম বহুমাত্রিক অভিনেতা। তার চোখ, শরীরী ভাষা এবং সংলাপের অর্থবহ নীরবতা তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।”

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: চরিত্রের বৈচিত্র্যের খোঁজে

ববি দেওল জানিয়েছেন, আগামী দিনে তিনি এমন কিছু চরিত্রে অভিনয় করতে চান যা মানুষের আবেগ, সম্পর্ক ও মানসিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে।

“এখন আমি এমন কিছু গল্প করতে চাই, যেখানে মানুষ নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পাবে। আমার বয়স, অভিজ্ঞতা—সবকিছুই এখন এমন চরিত্রের জন্য উপযুক্ত, যেখানে জীবনের সত্য প্রকাশ পায়।”

শোনা যাচ্ছে, তিনি বর্তমানে দুইটি আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনার সঙ্গে কথা বলছেন, যার মধ্যে একটি ঐতিহাসিক পটভূমির থ্রিলার এবং আরেকটি মানসিক নাটক।

ববি দেওলের এই রূপান্তর বলিউডের এক আকর্ষণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি প্রমাণ করেছেন—একজন অভিনেতা যদি নিজের সীমাবদ্ধতা ভেঙে নতুন পথে হাঁটতে সাহস পায়, তবে দর্শকের ভালোবাসা পুনরায় অর্জন করা সম্ভব। আজকের দিনে ববি দেওল শুধু এক ‘ভিলেন’ নন, বরং তিনি এক চরিত্রাভিনেতা, যিনি অভিনয়কে নিজের পুনর্জন্মের ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।