চাওয়া পাওয়া চলচ্চিত্র ১৯৫৯ সালের ভারতীয় বাংলা ভাষায় কমেডিজাতীয় চলচ্চিত্র, যেটি পরিচালনা করেন যাত্রিক। এর মুখ্যভুমিকায় অভিনয় করেন উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন।
চাওয়া পাওয়া চলচ্চিত্র

- প্রযোজনা- টাইম ফিল্মস।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ – নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়।
- পরিচালনা – যান্ত্রিক।
- সংগীত পরিচালনা- নচিকেতা ঘোষ।
- চিত্রগ্রহণ – অনিল গুপ্ত, জ্যোতি লাহা।
- শিল্প নির্দেশনা— সুবোধ।
- শব্দ- সত্যেন চট্টোপাধায়।
- সম্পাদনা – দুলাল দত্ত
- গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, শ্যামল গুপ্ত
- পরিচয় লিখন — পূর্ণেন্দু পত্রী।
অভিনয়:
উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, ছবি বিশ্বাস, জীবেন বসু, ভারতী দেবী, অমর মল্লিক, তুলসী চক্রবর্তী, রাজলক্ষ্মী দেবী, শুভেন মুখোপাধ্যায়, অনিল চট্টোপাধ্যায়, ধীরাজ দাস, শান্তা দেবী, ভানু ঘোষ, সুধীর বসু, শান্তি ভট্টাচার্য। নেপথ্য সংগীত – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।
কাহিনি:
রিপোর্টার রজত সেনের (উত্তম) কাজে তাদের সংবাদপত্রের মালিক (ছবি) মোটেই খুশি নন, প্রায়ই রজতকে মালিকের মুখঝামটা শুনতে হয়। বিরক্ত রজত চাকরি ছেড়ে অজানা উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে।
অন্যদিকে মঞ্জু (সুচিত্রা) বাবার মনোনীত পাত্রকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে রাগের মাথায় টাকা পয়সা না নিয়েই বাড়ি ছাড়ে। টিকিট না কেটেই মঞ্জু ট্রেনে উঠে পড়ে। রজতের সাথে মঞ্জুর প্রথম পরিচয় হয় ট্রেনেই এবং ঘটনাচক্রে রজত মঞ্জুর ফাইন সহ ট্রেনের ভাড়া দিতে বাধ্য হয়।

পাটনায় একটি হোটেলে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ঘর ভাড়া নেয়। মঞ্জুর বাবার পুরস্কার ঘোষণা করে কাগজে দেয়া বিজ্ঞাপন রজতের চোখে পড়ে এবং রজত মঞ্জুকে তার বাবার হাতে তুলে দিয়ে পুরস্কারের টাকা হাতে পাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পাটনায় হোটেল থেকে তারা রজতের এক বন্ধুর বাড়িতে যায় এবং সেখানেও স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে কিছুদিন বাস করে। তারা পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করলেও রজত মঞ্জুর বাবার আর্থিক অবস্থার সাথে নিজের আর্থিক অবস্থার ফারাক বিবেচনা করে মঞ্জুর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
মঞ্জুর কথামতো রজত তাকে নিয়ে তার বান্ধবীর বাড়ি জাহানাবাদে যায়। রজত আগেই গোপনে মঞ্জুর বাবাকে তাদের জাহানাবাদে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল এবং তিনি মঞ্জুর বান্ধবীর বাড়িতেই তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মঞ্জু সেখানে বাবাকে দেখতে পেয়েই সব বুঝতে পারে এবং রজতকে তার লোভের জন্য তিরস্কার করে। অন্য দিকে রজত নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং লক্ষ করে মঞ্জুর বাবাই তার ভূতপূর্ব মনিব। সে টাকা নিতে অস্বীকার করে। মঞ্জুর সাথে রজতের মিলনে ছবি শেষ হয়।

ছবিটি তৎকালীন সময়ে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
