চোখের বালি চলচ্চিত্র

চোখের বালি চলচ্চিত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চোখের বালি উপন্যাস অবলম্বনে চিত্রায়িত। ২০০৩ সালে এটি পরিচালনা করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ এবং অভিনয় করেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় রাইমা সেন। ঐশ্বরিয়া এখানে ‘বিনোদিনী’ ও রাইমা সেন ‘আশালতা’ চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে এটি হিন্দিতে মুক্তি পায় এবং এই ভাষাতেই আন্তর্জাতিক মুক্তি দেয়া হয়।

মুক্তির পরে, চোখের বালি ইতিবাচক সমালোচনা এবং ভালো ব্যবসা করে। চোখের বালি সেরা বাংলা চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। চলচ্চিত্রটি ৩৪তম ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অফ ইন্ডিয়া’-তে প্রদর্শিত হয়।

চোখের বালি চলচ্চিত্র

 

  • প্রযোজনা—ভেঙ্কটেশ ফিল্মস প্রযোজক শ্রীকান্ত মেহেতা, মহেন্দ্র সোনী।
  • কাহিনি—  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – ঋতুপর্ণ ঘোষ।
  • সংগীত পরিচালনা – দেবজ্যোতি মিশ্র।
  • চিত্রগ্রহণ অভীক মুখোপাধ্যায়।
  • শিল্প নির্দেশনা – ইন্দ্রনীল ঘোষ
  • সম্পাদনা – অর্থাকমল নির।

 

অভিনয়:

ঐশ্বর্য রাই, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রাইমা সেন, টোটা রায়চৌধুরী, লিলি চক্রবর্তী, শুচিতা রায়চৌধুরী।

 

 

কাহিনি:

বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই বিনোদিনী (ঐশ্বর্য) বিধবা হয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরে আসে। রাজলক্ষ্মী (লিলি) ছেলে মহেন্দ্রকে (প্রসেনজিৎ) নিয়ে কলকাতায় থাকে, মহেন্দ্র ডাক্তারি পড়ে। মহেন্দ্রর বন্ধু বিহারী (টোটা) কাছাকাছি একটা বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকলেও দিনের অনেকটা সময়ই মহেন্দ্রর বাড়িতে কাটায়। মহেন্দ্রর সাথে বিয়ে হয় আশালতার (রাইমা)।

বিয়ের পর স্ত্রীর সাথে মহেন্দ্রর ঘনিষ্ঠতা মায়ের চোখে দৃষ্টিকটু লাগে, আগে যে ছেলে মায়ের কথায় চলতো। এখন অনেক বিষয়েই মায়ের পরামর্শ নেয় না । রাজলক্ষ্মী তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় বিনোদিনীকে গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে, এক সময় বিনোদিনীর সাথে মহেন্দ্রর বিয়ের কথা হয়েছিল, তখন মহেন্দ্ৰ সময় নেই বলে বিষয়টিকে বাতিল করে। বিনোদিনী গৃহকর্ম নিপুণা, অল্প দিনেই সে সকলের মন জয় করে, সমবয়সি আশালতার সাথে তার সই (চোখের বালি) সম্পর্ক তৈরি হয়।

 

 

আশালতাকে দেখতে যথেষ্ট সুন্দরী হলেও মহেন্দ্র ক্রমশ বিনোদিনীর রূপে, গুণে মুগ্ধ। এক সময় সে বিনোদিনীকে বাতিল করেছিল বলে নিজের উপরই বিরক্ত। বিনোদিনীর কিন্তু মহেন্দ্রর সম্পর্কে কোনো দুর্বলতা নেই, বরং অন্তরের অনুরাগ বিহারীর জন্য।

বিনোদিনীর বিবাহ প্রস্তাব বিহারী অগ্রাহ্য করে কাশী চলে যায় এবং অপমানিতা বিনোদিনী দেশের বাড়িতে ফিরে যায়। মহেন্দ্ৰ বিনোদিনীর আকর্ষণে দেশের বাড়ি যায় এবং বিনোদিনীর শর্তে সম্মত হয়ে তাকে নিয়ে কাশী যায় বিহারীর কাছে তাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। কাশীতে বিনোদিনীর সাথে বিহারীর সাক্ষাৎ হয়। বিহারীর বিবাহ প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে বিনোদিনী নিরুদ্দেশ হয়।

 

Google News চোখের বালি চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

পুরস্কার:

ছবিটি ২০০৪ সালে বাংলা ভাষায় নির্মিত শ্রেষ্ঠ ছবি হিসাবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

 

প্রকাশনা :

ছবির চিত্রনাট্য চিত্রপট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

 

Leave a Comment