চোখ চলচ্চিত্র ১৯৮২ সালের একটি ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র যা উৎপলেন্দু চক্রবর্তী পরিচালিত এবং এখানে প্রধান চরিত্রগুলিতে অভিনয় করেছেন ওম পুরী, অনিল চ্যাটার্জি, শ্যামানন্দ জালান ও শ্রীলা মজুমদার প্রধান। ১৯৭৫ সালে কলকাতার পাট মিলের শ্রমিকদের নিপীড়ন ও অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ৩০ তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি সেরা ফিচার চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং পরিচালনার জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছিলেন।
চোখ চলচ্চিত্র

- প্রযোজনা — পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংগীত এবং পরিচালনা — উৎপলেন্দু চক্রবর্তী।
- চিত্রগ্রহণ—শক্তি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- সম্পাদনা – বুলু ঘোষ।
- শিল্প নির্দেশনা – সুরেশচন্দ্র – চন্দ।
অভিনয়:
ওম পুরী, শ্যামানন্দ জালান, অনিল চট্টোপাধ্যায়, শ্রীলা মজুমদার, মাধবী মুখোপাধ্যায়, অসিত মুখোপাধ্যায়, দীপক সরকার, চন্দন সেনগুপ্ত, ক্ষুদিরাম ভট্টাচার্য, সমীর মুখোপাধ্যায়, নিমাই ঘোষ, নীহার দাশগুপ্ত, মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায়।
কাহিনি:
যদুনাথ (ওম পুরী) একজন শ্রমিক নেতা, জেঠিয়ার (শ্যামানন্দ) কারখানায় কাজ করত। তার নেতৃত্বে শ্রমিকরা দাবি আদায়ের জন্য হরতাল করে। জেঠিয়ার ভাই কিছু গুণ্ডাদের সাহায্যে হরতাল ভাঙার চেষ্টা করে, বহু শ্রমিক আহত হয় এবং সংঘর্ষে জেঠিয়ার ভাই মারা যায়। জেঠিয়া ভাইয়ের মৃত্যুর দায়িত্ব যদুনাথের ওপর চাপায় এবং মূলত তার চক্রান্তেই যদুনাথের ফাঁসির হুকুম হয়।
ফাঁসির আগে যদুনাথ তার চোখ দান করে যায় কোনো অন্ধ শ্রমিকের জন্য। অপর দিকে চোখের দাবিদার ছেদীলাল একজন শ্রমিক এবং অপেক্ষারতদের তালিকায় তার নাম প্রথমে থাকা সত্ত্বেও জেঠিয়া উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে হাত করে তার অন্ধ মিঃ মুখার্জী শ্রমিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে যদুনাথের শেষ ইচ্ছেপত্রটি দেখতে চান। ছেলের চোখের দৃষ্টি ফেরানোর জন্য হাসপাতালের সুপারকে ব্যবহার করে।
চোখের ডাক্তার অন্যায় সহযোগিতায় সে যে চোখ জোগাড় করেছে সেগুলির দাতা যদুনাথ তখন সে শ্রেণি সুপার ডঃ মুখার্জীর বিরোধিতা করেন। জেঠিয়া যখন জানতে পারে যে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের বিরোধিতার কারণে চোখ দুটি নষ্ট করে দিতে চায়।
যদুনাথের প্রতি তার বিরোধিতা এতটাই প্রবল যে তার দান করা চোখ দিয়ে অন্য কেউ দৃষ্টি ফিরে পাক তাও সে চায় না। তার পোষা গুণ্ডারা যখন চোখ দুটি নষ্ট করছে তখন ঘনশ্যামের নেতৃত্বে শ্রমিকরা সংগঠিত হচ্ছে এই বিষয়টির প্রতিবাদে। ছবির শেষে আমরা সারা পর্দা জুড়ে অসংখ্য শ্রমিকের মুখ দেখতে পাই।
ছবির গঠন, দৃশ্য পরিকল্পনা, সংলাপ, অভিনয় ইত্যাদির মধ্য দিয়ে পরিচালক ছবিটির বক্তব্যকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যটির পরিকল্পনা অসাধারণ।

পুরস্কার:
সেরা ছবির জাতীয় পুরস্কার স্বর্ণকমল ১৯৮২, সেরা পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার, বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে ১৯৮৩ সালে International Forum for Young Cinema পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে ভারতে, ৯ম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে, স্পেশাল জুরি এ্যাওয়ার্ড।
