চিত্রগ্রাহক জ্যোতি লাহা

প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক অনিল গুপ্তের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে পদার্পণ করেন জ্যোতি লাহা। তাঁর কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল এম. আর. প্রোডাকসন্সের প্রযোজনায় এবং সুশীল মজুমদার পরিচালিত ‘মর্মবাণী’ (১৯৫৮) ছবিতে, যেখানে তিনি অনিল গুপ্তের সহযোগী হিসেবে চিত্রগ্রহণের দায়িত্ব পালন করেন।

 

জ্যোতি লাহা

 

 

জ্যোতি লাহার চলচ্চিত্র জীবনকে বলা যায় অনিল গুপ্তের সঙ্গে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে ওঠা। মোট ৪৫টি ছবির মধ্যে চুয়াল্লিশটি ছবিতেই তিনি অনিল গুপ্তের সহকারী হিসেবে চিত্রগ্রহণে অবদান রেখেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কেবল সহকারী হিসেবে নয়, পরবর্তীতে একক দায়িত্বেও কাজ করেছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অমল রায় ঘটক পরিচালিত ‘উজান’ (১৯৯৫), যেখানে তিনি প্রধান চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন।

 

google news , গুগল নিউজ
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

যাত্রিক গোষ্ঠী পরিচালিত বারোটির মধ্যে নটি ছবির চিত্রগ্রহণের দায়িত্ব তিনি অনিল গুপ্তের সাথে যুগ্মভাবে পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবনে কাজ করা পরিচালকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন চিত্ত বসু, অসিত সেন, পিনাকী মুখোপাধ্যায়, সলিল সেন, বিকাশ রায়, গুরু বাগচী প্রভৃতি। এই বিশিষ্ট পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার ফলে জ্যোতি লাহার চিত্রগ্রাহক হিসেবে দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।

জ্যোতি লাহার কর্মজীবনের চলচ্চিত্রপঞ্জি একটি বিস্তৃত ধারাপাত। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হলো:

  • ১৯৫৮: মর্মবাণী

  • ১৯৫৯: চাওয়া পাওয়া, দেড়শো খোকার কাণ্ড, অগ্নিসম্ভবা

  • ১৯৬০: স্মৃতিটুকু থাক

  • ১৯৬২: কাঁচের স্বর্গ, শুভদৃষ্টি

  • ১৯৬৩: উত্তর ফাল্গুনী

  • ১৯৬৪: তাহলে, মোমের আলো, সন্ধ্যা দীপের শিখা

  • ১৯৬৯: কমললতা, অগ্নিযুগের কাহিনী

  • ১৯৭১: চৈতালী

  • ১৯৭২: আলো আমার আলো, ছিন্নপত্র, হার মানা হার

  • ১৯৭৩: নতুন দিনের আলো, রাতের রজনীগন্ধা

  • ১৯৭৪: যদি জানতেম, আলোর ঠিকানা

  • ১৯৭৫: নগর দর্পণে, কাজললতা

  • ১৯৭৬: চাঁদের কাছাকাছি, মোমবাতি, হোটেল স্নো ফক্স

  • ১৯৭৭: রামের সুমতি, বাবা তারকনাথ

  • ১৯৭৮: করুণাময়ী, টুসি

  • ১৯৭৯: যত মত তত পথ, কৃষ্ণ সুদামা

  • ১৯৮০: সীতা

  • ১৯৮১: স্বামী-স্ত্রী

  • ১৯৮২: সোনার বাংলা

  • ১৯৮৪: দুজনে, সমর্পিতা

  • ১৯৮৬: জীবন

  • ১৯৮৯: মহাপীঠ তারাপীঠ

  • ১৯৯০: ভাঙাগড়া

  • ১৯৯১: রাজনর্তকী

  • ১৯৯২: পেন্নাম কলকাতা, নবরূপা

  • ১৯৯৩: কাঁচের পৃথিবী

  • ১৯৯৫: উজান

জ্যোতি লাহার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একজন দক্ষ চিত্রগ্রাহকই নন, বরং চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্যও তিনি নিবেদিতপ্রাণ। তাঁর কাজ দর্শক এবং সমালোচকদের কাছেই সারা জীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Comment