বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের ফলে বিনোদন জগতে এক নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম রিলস, ইউটিউব শর্টস ইত্যাদি প্ল্যাটফর্ম এখন অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে অভিনয় প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যম। তবে এর ফলে মূলধারার অভিনয় জগতে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে— এমনটাই মনে করেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নিশাত প্রিয়ম।

নিশাত প্রিয়ম, যিনি মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করে অল্প সময়ের মধ্যেই নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন, সম্প্রতি শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির মান ও ভিউ বাণিজ্যের প্রভাব নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন,
“মিডিয়াতে এখন নানা ধরনের কাজ হচ্ছে। সবাই নিজের জায়গা থেকে চেষ্টা করছে, এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। কিন্তু ‘ভিউ’ নামের এক ধরনের প্রতিযোগিতা এখন অনেক দক্ষ অভিনেতা ও নির্মাতাকে হতাশ করছে। কেবল ভিউয়ের হিসাবেই অনেক কাজ মূল্যায়ন করা হচ্ছে— অথচ অভিনয়ের মান, গল্পের গভীরতা বা দর্শকের সঙ্গে আবেগীয় সংযোগের বিষয়টি পিছনে পড়ে যাচ্ছে।”
প্রিয়ম আরও বলেন,
“এখন দেখা যাচ্ছে, অনেক টিকটকার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা অভিনয়ে চলে আসছেন। এটি খারাপ কিছু নয়— প্রতিভা যেকোনো জায়গা থেকেই আসতে পারে। তবে আমার মনে হয়, অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে চাইলে আগে শেখা জরুরি। অভিনয় মানে শুধু সংলাপ বলা বা ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো নয়; এখানে প্রয়োজন অনুভূতির প্রকাশ, চরিত্রের গভীরে যাওয়া এবং নিজেকে সম্পূর্ণভাবে চরিত্রে বিলিয়ে দেওয়া।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“শুধুমাত্র ভালো ভিউ বা সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার কারণে কেউ সুযোগ পেলে, তা মূলধারার দক্ষ শিল্পীদের জন্য বাধা তৈরি করে। অনেক পরিশ্রমী অভিনেতা এখন কাজের সুযোগ হারাচ্ছেন। তাই আমার পরামর্শ, নতুনরা যদি সত্যিকারের অভিনয়শিল্পী হতে চায়, তাহলে প্রথমে প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত— অভিনয়ের মৌলিক দিকগুলো শেখা, মঞ্চ নাটক দেখা, অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শিখে নেওয়া। এতে নিজের উন্নতি যেমন হবে, তেমনি পুরো ইন্ডাস্ট্রির মানও বজায় থাকবে।”
নিশাত প্রিয়ম বিশ্বাস করেন, অভিনয় শুধুমাত্র জনপ্রিয়তার খেলা নয়, বরং এটি এক ধরনের শিল্পচর্চা— যেখানে অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা, শিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। তার মতে, দর্শক সংখ্যার চেয়ে শিল্পমান গুরুত্বপূর্ণ; কারণ একটি ভালো কাজ সময়ের সীমা পেরিয়ে মানুষের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।
শেষে তিনি বলেন,
“বাংলাদেশের নাট্য ও বিনোদন শিল্পের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। আমরা যদি সবাই পেশাদারিত্ব বজায় রাখি, অভিনয়কে সম্মান করি এবং সঠিকভাবে শিখে এই পেশায় আসি, তাহলে এই শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে— আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আমাদের নাটক ও অভিনেতাদের মর্যাদা বাড়বে।”
