দীপ জ্বেলে যাই চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমদের আজকের আলোচনা- এটি ১৯৫৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতীয় বাংলা ভাষার একটি সামাজিক-নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন অসিত সেন ও প্রযোজনা করেছেন বাদল পিকচার্স। চলচ্চিত্রটির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অনিল চট্টোপাধ্যায়, সুচিত্রা সেন ও বসন্ত চৌধুরী।
গল্পটি একটি মানসিক হাসপাতালের সেবিকা দেবাশিষকে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব নেন। অভিনয় করতে গিয়ে রাধা দেবাশিষকে ভালোবেসে ফেলে। সুস্থ হওয়ার পর দেবাশিষ ও তার পরিবারের লোকেরা রাধাকে ধন্যবাদ জানায় এবং হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়। রাধা কান্নায় ভেঙে পড়ে।শেষ পর্যন্ত অভিনয় করতে করতে রাধা নিজেই মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

দীপ জ্বেলে যাই চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা – বাদল পিকচার্স।
- প্রযোজক – রাখালচন্দ্র সাহা।
- কাহিনি ও সংলাপ – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা — অসিত সেন।
- সংগীত পরিচালনা – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
- চিত্রগ্রহন – অনিল গুপ্ত, জ্যোতি লাহা।
- শিল্প নির্দেশনা – প্রীতিময় সেন, বিজয় বসু।
- শব্দগ্রহণ – বাণী দত্ত, মিনু কাত্রাক, মৃণাল গুহ।
- সম্পাদনা — তরুন দত্ত।
- গীতিকার — গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার।
দীপ জ্বেলে যাই চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —
সুচিত্রা সেন, বসন্ত চৌধুরী, পাহাড়ী সান্যাল, দিলীপ চৌধুরী, তুলসী চক্রবর্তী, শাম লাহা, অনিল চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রাবতী দেবী, নমিতা সিংহ, কাজরী গুহ, অপর্ণা দেবী, অনুরাধা গুহ, অজিত চট্টোপাধ্যায়। নেপথ্য সংগীত — লতা মঙ্গেশকর, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে।

দীপ জ্বেলে যাই চলচ্চিত্রের কাহিনি—
রাধা মিত্র (সুচিত্রা) একটি মানসিক চিকিৎসার হাসপাতালের সেবিকা। সেবাই তার কর্ম, সেবাই তার ধর্ম। হাসপাতালে ভর্তি হয় দেবাশিষ (বসন্ত)। দেবাশিষকে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয় রাধাকে। হাসপাতালের অধ্যক্ষ কর্নেল মিত্রর (পাহাড়ী) অনুরোধে রাধাকে দেবাশিষের প্রেমিকার ভূমিকায় অভিনয় করতে হয় তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য।
অভিনয় করতে গিয়ে রাধা দেবাশিষকে ভালোবেসে ফেলে, দেবাশিষ সে কথা জানতেও পারে না। সুস্থ হওয়ার পর দেবাশিষ ও তার পরিবারের লোকেরা রাধাকে ধন্যবাদ জানায় এবং হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়। রাধা কান্নায় ভেঙে পড়ে।

আবার নতুন রুগি মানসিক রোগে আক্রান্ত তাপস (অনিল) হাসপাতালে ভর্তি হয়। কর্নেল মিত্রর অনুরোধে রাধাকে আবার তাপসের প্রেমিকার ভূমিকায় অভিনয় করতে হয়। রাধা তাপসের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু কর্নেল মিত্রর অনুরোধে সে কাজ করে যেতে বাধা হয়। শেষ পর্যন্ত অভিনয় করতে করতে রাধা নিজেই মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
মুক্তির পর ছবিটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসা অর্জনেও সমর্থ।
