দেখা চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা- ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত গৌতম ঘোষ পরিচালিত একটি বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এটি গৌতমের নবম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র; এটি ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করে। ভারতের ৪৮তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য ছায়াছবির খেতাব অর্জন করে এই চলচ্চিত্র; প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বিশেষ জুরি পুরস্কার অর্জন করেন।

দেখা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা – রেনবো প্রোডাকসন্স।
- প্রযোজক রমেশ গান্ধী।
- কাহিনি ও সংলাপ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, গৌতম ঘোষ।
- চিত্রনাটা, চিত্রগ্রহণ, সংগীত ও পরিচালনা- গৌতম ঘোষ।
- শিল্প নির্দেশনা -অশোক বসু
- সম্পাদনা – মলর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- শব্দ প্রকল্পনা – অনুপ মুখোপাধ্যায়।
দেখা চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, দেবশ্রী রায়, ইন্দ্রাণী হালদার, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, অঞ্জন দত্ত, সুমন দেব, কমল কাঞ্জিলাল, শোভা সেন, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরজিৎ ঘোষ।

দেখা চলচ্চিত্রের কাহিনি—
তথাকথিত শিক্ষিত সভ্য সমাজেও কিছু ঘটনাকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একদা অভিজাত পরিবারের সন্তান শশিভূষণ (সৌমিত্র) তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে যান তিনি শহরের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত একটি অট্টালিকায় বাস করেন, পুরোনো স্মৃতি, শব্দ গন্ধ স্পর্শ ইত্যাদির মধ্যে তিনি বেঁচে আছেন।
এক সময় সংসারে তাঁর স্ত্রী (রূপা) এবং কন্যা ছিল। স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন, মেয়েও তাঁর সাথে থাকে না। কবি হিসাবে এক সময় তাঁর খ্যাতি ছিল, এখনও লিটল ম্যাগাজিনের সাথে যুক্ত কিছু তরুণ, তরুণী পুরোনো কবিখ্যাতির জন্য তাঁর কাছে আসে, তাঁর কাছে লেখা চায়।
এক সময়কার শিক্ষকের (হারাধন) কন্যা সরমা (দেবশ্রী) তার পুত্র সুমনকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নেয় জন্মান্ধ গগন (কমল)। গগন কখনো এই পৃথিবীকে দেখতে পায় নি, সরমা গগনের জন্য সহানুভূতি বোধ করে, তাকে নিজের মধ্যে আশ্রয় দেয়।

পুরস্কার –
২০০১ সালে বাংলা ভাষায় নির্মিত শ্রেষ্ঠ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার লাভ। নানৎ চলচ্চিত্র উৎসবে সিলভার বেলুন সম্মান। এ ছাড়াও জেরুজালেম ও মাদ্রিদ চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রদর্শিত হয়।
