দেবদাস চলচ্চিত্র

দেবদাস চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা- প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত ১৯৩৫ সালের বাংলা ভাষার ভারতীয় চলচ্চিত্র। অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেবদাস উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন প্রমথেশ বড়ুয়া। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন প্রমথেশ বড়ুয়া, পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করেছেন যমুনা বড়ুয়া এবং চন্দ্রমুখী চরিত্রে অভিনয় করেছেন চন্দ্রাবতী দেবী। পরবর্তীতে ছবিটি ১৯৩৬ সালে হিন্দি ভাষায় এবং ১৯৩৮ সালে অসমীয়া ভাষায় মুক্তি পায়।

জমিদার নারায়ণ মুখার্জির পুত্র দেবদাসের বেড়ে ওঠে এবং তার শৈশব কাটে তার খেলার সাথী প্রতিবেশী পারুর সাথে। দেবদাস ও পারুর সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। পারুর পরিবার পারুকে তার থেকে বয়সে অনেক বড় জমিদার ভুবনের সাথে বিয়ে দেয়। অন্যদিকে, তার বন্ধু চুনীলালের পাল্লায় পড়ে দেবদাস মদ আর চন্দ্রমুখীতে আসক্ত হয়ে পড়ে।পারু তার সংসারিক কর্তব্য পালনে মনোযোগী হয়ে পড়ে। দেবদাসের ভাগ্যে অন্য কিছু লেখা ছিল। দু’জন নারী প্রেম পাওয়া সত্ত্বেও কেউ তার নয়। একজনকে সে কখনো ভালবাসতে পারবে না আর একজনকে সে কখনো ভালো না বেসে থাকতে পারবে না।

 

দেবদাস চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

দেবদাস চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা — নিউ থিয়েটার্স।
  • কাহিনি – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
  • চিত্রনাট্য প্রমথেশচন্দ্র বড়ুয়া, ফণী মজুমদার।
  • পরিচালনা – প্রমথেশচন্দ্র বড়ুয়া।
  • সংগীত পরিচালনা — রাইচাদ বড়াল, পঙ্কজকুমার মল্লিক।
  • চিত্রগ্রহণ — নীতিন বসুর তত্ত্বাবধানে ইয়সুফ মূলজী, দিলীপ গুপ্ত, সুধীন মজুমদার।
  • শব্দগ্রহণ – লোকেন বসু, শ্যামসুন্দর বিশ্বাস, ননী মিত্র।
  • সম্পাদনা— সুবোধ মিত্র।
  • গীতিকার-বাণীকুমার।

দেবদাস চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —

প্রমথেশ বড়ুয়া, যমুনা দেবী, চন্দ্রাবতী দেবী, ক্ষেত্রবালা, অমর মল্লিক, দীনেশরঞ্জন দাস, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, কৃষ্ণচন্দ্র দে, নির্মল দাশগুপ্ত, কুন্দনলাল সায়গল, শৈলেন পাল, অহি সান্যাল, প্রভাবতী দেবী, লীলা দেবী, কিশোরী দেবী। নেপথ্য সংগীত – কুন্দনলাল সায়গল, কৃষ্ণচন্দ্র দে, অহি সান্যাল।

 

দেবদাস চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

দেবদাস চলচ্চিত্রের কাহিনি—

তালসোনাপুর গ্রামের জমিদার নারায়ণ মুখার্জীর ছেলে দেবদাস (প্রমথেশ) এবং পড়শি নীলকণ্ঠ চক্রবর্তীর মেয়ে পার্বতী (যমুনা) ছেলেবেলার খেলার সাথী, তারা পরস্পরকে ভালোবাসে। জমিদারির দত্তে বেচাকেনা ঘরের মেয়ের সাথে নিজ পুত্রের বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করেন নারায়ণ মুখার্জী এবং দেবদাসকে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠিয়ে দেন।

বর্ধমান জেলার জমিদার ভুবন চৌধুরী (দীনেশ) নামে এক দোজবরে পাত্রের সাথে পার্বতীর বিয়ে হয়। পার্বতীর বিয়ের সংবাদে দেবদাস মদের নেশায় পার্বতীকে না পাওয়ার দুঃখ ভোলার চেষ্টা করে। দেবদাসের বন্ধু চুনীলাল (অমর) তাকে বারবনিতা চন্দ্রমুখীর (চন্দ্রাবতী) বাড়ি নিয়ে যায়। চন্দ্রমুখী বারবনিতা হলেও দেবদাসের দুঃখে বিচলিত হয় এমনকী দেবদাস অসুস্থ হয়ে পড়লে অক্লান্ত সেবায় তাকে সুস্থ করে তোলে। আপাতসুস্থ দেবদাস আবার মদ খাওয়া শুরু করে।

 

দেবদাস চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

এক সময় পার্বতীর অনুরোধে দেবদাস তাকে কথা দিয়েছিল অসুস্থ হয়ে পড়লে সে পাবতীর বাড়িতে আশ্রয় নেবে। মৃত্যু সন্নিকটে বুঝতে পেরে দেবদাস পার্বতীর সাথে দেখা করার জন্য তার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করে। পার্বতীর শ্বশুরবাড়ি পর্যন্ত পৌঁছতে পারলেও পার্বতীর সাথে তার দেখা হওয়ার আগেই সে মারা যায়।

শরৎচন্দ্রের লেখা এই কাহিনি অবলম্বনে এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ছবি তৈরি হয়েছে। নির্বাক যুগে ১৯২৯ সালে নির্মিত প্রথম দেবদাস পরিচালনা করেছিলেন নরেশচন্দ্র মিত্র। ইষ্টার্ন ফিল্ম সিন্ডিকেটের প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিতে ফণি বর্মা দেবদাসের ভূমিকায় এবং নরেশচন্দ্র নিজে চুনীলালের ভূমিকায় অভিনয় করেন।

নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত ১৯৩৫ সালের এই ছবি বাংলা ও হিন্দী দুটি ভাষায় নির্মিত হয়, বাংলা ছবিতে দেবদাসের ভূমিকায় প্রমথেশ বড়ুয়া এবং হিন্দীতে কুন্দনলাল সায়গল অভিনয় করেন। হিন্দী ভার্সনে পার্বতীর সৎ ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেন প্রমথেশ।

 

Google News দেবদাস চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

পরবর্তী কালে বাংলায় ১৯৭৯ এবং ১৯৮৯ সালে দেবদাস কাহিনির চলচ্চিত্রায়ণ হয়। ছবি দুটি পরিচালনা করেন দিলীপ রায় ও শক্তি সামন্ত, এবং দেবদাসের ভূমিকায় অভিনয় করেন যথাক্রমে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং প্রসেনজিৎ। বিমল রায় পরিচালিত ১৯৫৫ সালে নির্মিত হিন্দী দেবদাস ছবিতে নাম ভূমিকায় দিলীপকুমারের অভিনয় প্রশংসা পেয়েছিল।

হিন্দীতে আবার দেবদাস কাহিনির চলচ্চিত্রায়ণ হয়। এবং এই ছবিতে দেবদাসের ভূমিকায় অভিনয় করেন শাহরুখ খান ও ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন সঞ্জয় লীলা বনসালী। বাংলা, হিন্দী ছাড়াও অন্যান্য কয়েকটি ভারতীয় ভাষায় এই ছবি তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment