কাজী নওশাবা আহমেদ বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, যিনি নাটক, বিজ্ঞাপন এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার অভিনয় দক্ষতা এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় তাকে দেশের বিনোদন জগতে একটি বিশেষ স্থান দিয়েছে। তবে তার জীবন কেবল অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তার ব্যক্তিগত জীবন এবং বিতর্কও আলোচিত হয়েছে।

জন্ম ও শিক্ষা
কাজী নওশাবা আহমেদ ১৯৮৯ সালের ৯ অক্টোবর ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব কাটে শ্যামলীর আদাবর এলাকায়। তার বাবা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, এবং মা নাহিদ সেলিম একজন গৃহিণী। নওশাবা তার শিক্ষাজীবন শুরু করেন শহীদ আনোয়ার স্কুল থেকে, এবং পরে হলিক্রস স্কুল ও কলেজে ভর্তি হন। এখানে তিনি এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে তিনি ড্রইং ও পেইন্টিং বিভাগে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তার শিক্ষাগত অর্জন ও সৃজনশীলতা তাকে অভিনয়ের দুনিয়ায় এক বিশেষ অবস্থানে নিয়ে আসে।

অভিনয় জীবন
মঞ্চে অভিনয়
কাজী নওশাবার অভিনয় জীবন শুরু হয় মঞ্চ নাটক দিয়ে। ২০১১ সালে তিনি প্রথম মঞ্চ নাটক সোনাটা তে অভিনয় করেন। মুকুল আহমেদ এর পরিচালনায় এই নাটকটি তাকে অভিনয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
টেলিভিশন
তার প্রথম নাটক ছিল ছোটবেলা বড়বেলা, তবে তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ছিল ললিতা, যা পরিচালনা করেছিলেন জুয়েল মাহমুদ। এছাড়াও, তিনি দীর্ঘ ছয় বছর সিসিমপুরে ইকরি মিকরি চরিত্রে কণ্ঠ দেন এবং পাপেট পরিচালনায় অংশ নেন। সিসিমপুরের ভূতো পাপেট চরিত্রেও তার অভিনয় ছিল উল্লেখযোগ্য।
বিজ্ঞাপন
কাজী নওশাবা প্রথমবারের মতো বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেন বাংলালিংকের লেডিস ফার্স্ট বিজ্ঞাপনটির মাধ্যমে। এরপর তিনি গ্রামীণফোন, নেসক্যাফে, ম্যারিডিয়ান চিপস, এবং টেলিটকসহ বেশ কিছু জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনেও অভিনয় করেন।
চলচ্চিত্র
কাজী নওশাবার চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয় অমিত আশরাফের পরিচালনায় উধাও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তিনি ছুঁয়ে দিলে মন চলচ্চিত্রেও অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল তার অভিনীত প্রতিরুদ্ধ চলচ্চিত্রটি, তবে এটি এখনও মুক্তি পায়নি। ২০১৭ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ভুবন মাঝি এবং পুলিশ অ্যাকশন-থ্রিলার ঢাকা অ্যাটাক তে অভিনয় করেন। ২০১৮ সালে তিনি স্বপ্নের ঘর চলচ্চিত্রে একটি ভৌতিক চরিত্রে অভিনয় করেন। বর্তমানে তার অভিনীত দুটি চলচ্চিত্র – ঢাকা ড্রিমস এবং চন্দ্রবতীর কথা নির্মাণাধীন।
টেবিল: কাজী নওশাবার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো
| চলচ্চিত্রের নাম | মুক্তির বছর | চরিত্রের ধরন |
|---|---|---|
| উধাও | ২০১৫ | প্রধান চরিত্র |
| ঢাকা অ্যাটাক | ২০১৭ | পুলিশ চরিত্র |
| ভুবন মাঝি | ২০১৭ | মুক্তিযুদ্ধ ভিক্তিক চরিত্র |
| স্বপ্নের ঘর | ২০১৮ | ভৌতিক চরিত্র |
| কসাই | ২০২১ | খুনি কসাইয়ের স্ত্রী |

ব্যক্তিগত জীবন
২০০৩ সালে, কাজী নওশাবা আহমেদ এহসানুর রহমান জিয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে প্রকৃতি নাজারিনা আহমেদ বেলা।
বিতর্ক
২০১৮ সালে, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে কাজী নওশাবাকে গ্রেফতার করা হয়। ৫ আগস্ট র্যাব তাকে আটক করে, এবং পরবর্তী সময়ে ২১ আগস্ট তিনি আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। তার গ্রেফতারির পর, একাধিক গণমাধ্যমে তার ব্যাপারে নানা আলোচনাও সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনায় তাকে একাধিকবার রিমান্ডে পাঠানো হয় এবং শেষমেশ তাকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে দেখা যায়।

কাজী নওশাবা আহমেদ একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রী, যিনি তার ক্যারিয়ারে অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। তার অভিনয়ের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য ও দক্ষতা তাকে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ দিয়েছে। তবে তার ব্যক্তিগত জীবন এবং বিতর্কও তাকে মিডিয়া এবং দর্শকদের নজরে রেখেছে।
