রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ড: কেন, কারা, কিভাবে ঘটিয়েছিল?

রাইমা ইসলাম শিমু ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেত্রী, প্রযোজক ও পরিচালক। ১৯৯৮ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত “বর্তমান” চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি বড়পর্দায় অভিষেক করেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রায় ২৪টি চলচ্চিত্রে ও অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেন।

রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ড

 

অভিনয়শিল্পী রাইমা ইসলাম শিমু
অভিনয়শিল্পী রাইমা ইসলাম শিমু

 

নিখোঁজ হয়ে যাওয়া

শিমু ১৬ জানুয়ারি ২০২২ সকালে তার বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার ও অভাবে আশঙ্কার ভিত্তিতে।

লাশ উদ্ধার

১৭ জানুয়ারি সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার হজরতপুর ব্রিজ এলাকা থেকে একটি পলিথিন বস্তায় শিমুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দেহে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল।

তদন্ত ও স্বীকারোক্তি

পুলিশ নির্ধারণ করে যে শিমুকে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। তদন্ত চালিয়ে পুলিশ একটি প্লাস্টিকের সুতা আবিষ্কার করে, যেটি ছিল দুটি পাটের বস্তায় সেলাই করা; সেই একই সুতা তার স্বামীর গাড়িতে পাওয়া যায়। সব প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করে আদালতে টোকেন প্রস্তুত হয়। নোবেল ও তার বন্ধু এস.এম. ওয়াই. ফরহাদ তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড আর লাশ গুম চক্রের কথায় স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।

হত্যার ধরন ও কারণ

অভিযুক্ত নোবেল স্বীকার করেন, পারিবারিক মনোমালিন্য ও স্ত্রীর মোবাইল ব্যবহারের কারণে তাদের মাঝে সংঘাত হয়েছে। ঘটনার দিন সকালে মোবাইল দেখার ইস্যুতে তর্ক-হতাহতের এক পর্যায়ে তিনি শিমুর গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান। যখন তিনি একা করতে ব্যর্থ হন, তখন তার বন্ধু ফরহাদকে ডেকে আনেন এবং মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেন।

লাশ গুমের পরিকল্পনা

হত্যার পর নোবেল ও ফরহাদ পরিকল্পনা করে লাশ দুটি পাটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করেন। তারপর বাড়ির দরোয়ানকে বাইরে পাঠিয়ে নিজের গাড়িতে লাশ নিয়ে বেরিয়ে যান। প্রথমে মিরপুরে নিলেও উপযুক্ত স্থান না পেয়ে আবার ফিরে আসেন। পরে Mohammpur, Badhila ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জে পৌঁছে বিকেলে ঝোপে লাশ ফেলে চলে যান। সকালে পুলিশ সেই স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে।

 

মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া

১৮ জানুয়ারি শিমুর ভাই হারুনুর রশীদ হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায়। তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে নোবেল ও ফরহাদ বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং বিচার শুরু হয়।

 

সারসংক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
নিহতরাইমা ইসলাম শিমু (চলচ্চিত্র ও নাট্য অভিনেত্রী)
নিখোঁজ তারিখ১৬ জানুয়ারি ২০২২
মরদেহ উদ্ধার১৭ জানুয়ারি ২০২২, কেরানীগঞ্জের হজরতপুর এলাকা
হত্যাকারীস্বামী: সাখাওয়াত আলী নোবেল; সহযোগী: এস.এম. ওয়াই ফরহাদ
হত্যার কারণ (প্রাথমিক)পারিবারিক কলহ ও আস্থাভঙ্গ
হত্যার ধরণশ্বাসরোধ
লাশ গুমপ্লাস্টিক-সুতা দিয়ে বস্তায় লাশ গুম করা ছিল পরিকল্পিত
বিচার প্রক্রিয়া অবস্থাঅভিযোগপত্র দাখিল ও মামলার শুনানিতে চলমান বিচার

 

রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ড ছিল এক নির্মম ও পরিকল্পিত খুন, যা বাংলাদেশের বিনোদন শিল্পসহ সাধারণ জনগণের মাঝে গভীর потрাস্না ও শোক সৃষ্টি করে। পারিবারিক মানসিক সংহতি, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাবে ঘটে যাওয়া এই কাণ্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে। ঘটনা প্রকাশ করলে ভূলবান হয় যে, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কখনো গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে—with devastating human cost.