বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের পেশাদার সংগঠন ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’ সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে— শিল্পীরা জাতির সাংস্কৃতিক সম্পদ, তাই তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের নৈতিক দায়িত্ব।

ঘটনার পটভূমি
গতকাল রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেলে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে ইমিগ্রেশন পুলিশ গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিনয়শিল্পী সংঘের বিবৃতি
সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে—
“অভিনয়শিল্পীরা কেবল বিনোদন শিল্পের অংশ নন; তারা সমাজের সংস্কৃতি, মানবিকতা ও জাতীয় চেতনার ধারক-বাহক। তাই তাদের প্রতি অযথা হয়রানি বা অসম্মান শুধু একজন শিল্পীকে নয়, পুরো সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়—
“শিল্পীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার, মামলা কিংবা অযাচিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত মর্যাদাকে বিপন্ন করে তোলে। এর ফলে তাদের পরিবার, সহকর্মী এবং ভক্তসমাজের মধ্যেও ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতি সংস্কৃতিচর্চার স্বাধীনতাকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।”
সংগঠনটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে—
“ন্যায়সংগত ও বৈষম্যহীনভাবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিল্পীসমাজের সম্মান রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।”
সহকর্মী শিল্পীদের প্রতিক্রিয়া
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন,
“কী এক লজ্জা! এই পরিস্থিতি এবং সিস্টেম নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমাদের দেশে ন্যায্য অধিকার প্রায় অচেনা একটি শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
অন্যদিকে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাশার বলেন,
“একজন অভিনেত্রীর কাজ অভিনয় করা। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন। তাহলে কেন একটি সিনেমায় অভিনয়ের কারণে এমন হেনস্তা হতে হবে? এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত।”
নুসরাত ফারিয়া: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
২০১৫ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকে নুসরাত ফারিয়া বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে আশিকী, বস, হিরো ৪২০, ঢাকা অ্যাটাক, বিবাহ অভিযান, পাতালঘর প্রভৃতি।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি মডেলিং, টেলিভিশন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা এবং সঙ্গীতচর্চাতেও সক্রিয়। তাঁর জনপ্রিয়তা দেশের সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিস্তৃত।
সংস্কৃতি অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
বিভিন্ন নাট্যসংগঠন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহও এ ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁরা মনে করেন, এমন ঘটনায় শিল্পীসমাজের উপর আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ ক্ষুণ্ন হয়।
প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের (উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে, প্রয়াত হলে “প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব” বলা যায়) এক পুরনো বক্তব্যে যেমন বলেছিলেন—
“শিল্পের স্বাধীনতা মানে মানুষের কণ্ঠের স্বাধীনতা। সেই কণ্ঠ যদি ভয়ে বন্ধ হয়ে যায়, তবে সমাজ নিঃশব্দ হয়ে পড়ে।”
অভিনয়শিল্পী সংঘের এই বিবৃতি কেবল নুসরাত ফারিয়ার পক্ষে নয়, বরং গোটা শিল্পীসমাজের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সংস্কৃতি কেবল বিনোদন নয়; এটি জাতির আত্মা, যেখানে শিল্পীই সেই আত্মার কণ্ঠস্বর। তাই তাঁদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা মানে জাতির মর্যাদা রক্ষা করা।
#নুসরাতফারিয়া #অভিনয়শিল্পীসংঘ #বাংলাদেশসংস্কৃতি #শিল্পীসমাজ #ন্যায়বিচার #BangladeshEntertainment #Actress #HumanRights #CultureProtection #FreedomOfExpression
