অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় জন্ম বিহারের মনিহারিতে। বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল) তাঁর অগ্রজ। ছোটবেলা মনিহারি থেকে ভাগলপুর চলে যান এবং ১৯৩৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৩৯এ শান্তিনিকেতনে পড়তে যান, সেখান থেকে আই.এসসি. পাস করে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৫ সালে শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখে কলকাতা চলে আসেন চলচ্চিত্র শিল্পে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।

অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়
অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় বিমল রায় পরিচালিত উদয়ের পথে (১৯৪৪) ছবিটি ছিল চলচ্চিত্র শিল্পে যোগ দেওয়ার অনুপ্রেরণা। প্রথমে ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে (পূর্বতন ম্যাডান থিয়েটার্স) চিত্রপরিচালক কালীপ্রসাদ ঘোষের অধীনে শিক্ষানবিশ ছিলেন, পরে নিউ থিয়েটার্সে যোগ দেন সহকারী হিসাবে। ১৯৫e সালে এম.পি. স্টুডিওতে যোগ দেন অগ্রদূতের সহকারী হিসাবে। পরবর্তী কালে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-এর সহকারী হিসাবেও কাজ করেছেন।
স্বাধীন পরিচালক হিসাবে প্রথম ছবি কিছুক্ষণ (১৯৫৯) সানরাইজ ফিল্মএর প্রযোজনায় তৈরি হয়। ছবিটিতে রীল টাইম এবং রীয়েল টাইম কাছাকাছি আনার চেষ্টা করেছিলেন। এই ধরনের পরীক্ষা আমরা সত্যজিতের কাঞ্চনজা (১৯৬২) দেখেছি। পরের ছবি আহ্বান (১৯৬১) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি। এটিও একটি পরীক্ষামূলক এবং একই সাথে পরিচ্ছন্ন ছবি। এই ছবিতে রোহিণীর মায়ের ভূমিকায় হেমাঙ্গিনী দেবী এবং বিমলের ভূমিকায় অনিল চ্যাটার্জী ভালো অভিনয় করেন।
পরের কয়েকটি ছবি মানের দিক থেকে ভালো হলেও দর্শক সমাদর লাভ করতে ব্যর্থ হয়। তাঁর প্রথম বাণিজ্যসফল ছবি নিশিপদ্ম (১৯৭০)। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে এই ছবিতে উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও অনুপকুমার, জহর রায়, গঙ্গাপদ বসু, গীতা দে, রাজলক্ষ্মী দেবী ইত্যাদি অভিনয় করেন। পরবর্তী কালে বেশ কয়েকটি সিরিও কমিক ছবি করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলি হল ধন্যি মেয়ে (১৯৭১), মৌচাক (১৯৭৫), অগ্নীশ্বর (১৯৭৫), অজস্র ধন্যবাদ (১৯৭৭), এই পৃথিবীর পান্থনিবাস (১৯৭৭), মানুদ্ধ (১৯৭৭) ইত্যাদি। তাঁর পরিচালনায় শেষ ছবি মনোজ মিত্রের লেখা মঞ্চসফল নাটক অবলম্বনে কেনারাম বেচারাম (১৯৮৬)।
প্রথম দিকে তিনি ছবি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেও পরের দিকে সাংসারিক এবং পারিবারিক বিষয়বস্তুকেই তাঁর ছবিতে প্রাধান্য দিয়েছেন। এর সাথে ছিল কমেডির মিশ্রণ। পরিচ্ছন্ন এবং সৎ বিনোদনমূলক ছবির পরিচালক হিসাবে সত্তরের দশকে তিনি পরিচিত ছিলেন।

চলচ্চিত্রপঞ্জি—
- কিছুক্ষণ (১৯৫৯),
- আহ্বান (১৯৬১),
- বর্ণচোরা (১৯৬৩),
- কষ্টিপাথর (১৯৬৪),
- নতুন জীবন (১৯৬৬),
- জীবনসংগীত (১৯৬৮),
- পিতাপুত্ৰ (১৯৬৯),
- নিশিপদ্ম (১৯৭০),
- শীলা (১৯৭০),
- ধন্যি মেয়ে (১৯৭১),
- নায়িকার ভূমিকায় (১৯৭২),
- দুরন্ত জয় (১৯৭৩),
- মৌচাক (১৯৭৫),
- অগ্নীশ্বর (১৯৭৫),
- অজস্র ধন্যবাদ (১৯৭৭),
- এই পৃথিবীর পান্থনিবাস (১৯৭৭),
- মুগ্ধ (১৯৭৭),
- নদী থেকে সাগরে (১৯৭৮),
- নন্দন (১৯৭৯),
- পাকা দেখা (১৯৮০),
- সংসারের ইতিকথা (১৯৮৩),
- অর্পিতা (১৯৮৩),
- প্রায়শ্চিত্ত (১৯৮৪),
- হুলুস্থুল (১৯৮৫),
- অজান্তে (১৯৮৫),
- কেনারাম বেচারাম (১৯৮৬)।
প্রাসঙ্গিক প্রকাশনা :
বৈশাখী, ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, ১৪০৮।