আত্মজ চলচ্চিত্র

আত্মজ চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা- চলচ্চিত্রটি শিল্প ইন্টারন্যাশনাল প্রযোজনায় নব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত। চলচ্চিত্রটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন গৌরী ঘোষ। ছবিটি ১৯৯১ সালে ইন্ডিয়ান প্যানোরামায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

সুজাতা তার অসুস্থ স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। সুজাতার দুই সন্তান অজয় এবং বিজয়। অজয় ছিল রাজনৈতিক কর্মী আর বিজয় কলকাতায় চলে আসে। কিছুদিনের মধ্যেই পুলিসের গুলিতে অজয় মারা যায়, বিজয় মাকে নিজের কাছে নিয়ে আসে, কিন্তু তাদের অতিমাত্রায় উচ্চাশা সুজাতার ভালো লাগে না। তার সাথে পরিচয় হয় ট্রেডইউনিয়ন কর্মী বিদ্যুতের। সুজাতা বিদ্যুৎকে নিজের সন্তানের মতোই মনে করে। নিজের গর্ভের সন্তান অপেক্ষা পুত্রপ্রতিম বিদ্যুৎ এবং অজয়ের বাগদত্তা রত্নাকে সুজাতার আপন মনে হয়।

 

 

আত্মজ চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা—শিল্প ইন্টারন্যাশনাল।
  • প্রযোজক — রাজকুমার জৈন।
  • কাহিনি— সেবাব্রত চৌধুরী।
  • চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – নব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায়।
  • সংগীত পরিচালনা — খোকন চৌধুরী।
  • চিত্রগ্রহণ—গৌর কর্মকার।
  • শিল্প নির্দেশনা—প্রসাদ মিত্র।
  • শব্দগ্রহণ – সঞ্জয় মুখার্জী।
  • সম্পাদনা – নিকুঞ্জ ভট্টাচার্য।

আত্মজ চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —

গৌরী ঘোষ, অর্জুন চক্রবর্তী, সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থসারথি দে, রত্না সরকার মণ্ডল, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মেঘনাদ ভট্টাচার্য, মহাশ্বেতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

Google News আত্মজ চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

আত্মজ চলচ্চিত্রের কাহিনি—

সুজাতা (গৌরী) একসময় তার অসুস্থ স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্ট করে সংসার চালাত। সুজাতা তখন স্কুলে শিক্ষয়িত্রী হিসাবে কাজ করত। সুজাতার দুই সন্তান অজয় এবং বিজয়। অজয় ছিল রাজনৈতিক কর্মী, প্রায়ই তাকে আত্মগোপন করে থাকতে হয়। বিজয় বাড়ি থেকে কলকাতায় চলে আসে, বাড়ি বা অসুস্থ বাবার বিষয়ে সে কোনো দায়িত্ব নেয় নি, বরং অজয় আত্মগোপন করা অবস্থা থেকেও বাড়ির খোঁজ রাখত, যথাসম্ভব সাহায্য করারও চেষ্টা করত।

দীর্ঘ অসুস্থতার পর সুজাতার স্বামীর মৃত্যু ঘটে। কিছুদিনের মধ্যেই পুলিসের গুলিতে অজয় মারা যায়, সুজাতা তার বড় ছেলে অজয়ের স্মৃতি হিসাবে তার একটি রক্তমাখা সার্ট নিজের কাছে রেখে দেয়।

 

 

ছোট ছেলে বিজয় মাকে নিজের কাছে নিয়ে আসে, কিন্তু তাদের জীবন যাপন এবং অতিমাত্রায় উচ্চাশা সুজাতার ভালো লাগে না। তার সাথে পরিচয় হয় ট্রেডইউনিয়ন কর্মী বিদ্যুতের। বিদ্যুতের রাজনৈতিক মতের সাথে অজয়ের রাজনৈতিক মতের সাযুজ্য আছে। সুজাতা বিদ্যুৎকে নিজের সন্তানের মতোই মনে করে, আহত বিদ্যুতের রক্তমাখা শরীরকে সন্তান স্নেহে নিজের কোলে তুলে নেয়।

অন্যদিকে অজয়ের প্রাক্তন প্রেমিকা রত্না সুজাতাকে নিজের কাছে নিয়ে যেতে চায়, ছেলের নিশ্চিন্ত আশ্রয় ছেড়ে সুজাতা রত্নার সাথে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে পা বাড়ায়। নিজের গর্ভের সন্তান অপেক্ষা পুত্রপ্রতিম বিদ্যুৎ এবং অজয়ের বাগদত্তা রত্নাকে সুজাতার আপন মনে হয়।

Leave a Comment