আদালত ও একটি মেয়ে চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা- চলচ্চিত্রটি ডি. কে. ফিল্মস এন্টারপ্রাইজ প্রযোজিত। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন তপন সিংহ। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তনুজা, নির্মলকুমার, মনোজ মিত্র, পতঞ্জলী গুহঠাকুরতা, ভীষ্ম গুহঠাকুরতা প্রমুখ।
ঊর্মিলা এবং তার দুই সহকর্মী বান্ধবী ছুটিতে গোপালপুর যাওয়ার পথে ট্রেনে কয়েকজন মদ্যপ যুবকের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়। এক পুলিস অফিসারের উপস্থিতির কারণে ট্রেনে উর্মিলারা রক্ষা পেলেও পরবর্তী সময়ে গোপালপুরে ঊর্মিলা ঐ যুবকদের দ্বারা ধর্ষিতা হয়। পুলিস অফিসার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যান এবং ধর্ষকদের গ্রেফতার করেন।
উর্মিলা ঐ পুলিস অফিসারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠায়। ঐ পুলিস অফিসার ঊর্মিলার চিঠিটিকেই নিজের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসাবে গ্রহণ করেন।
আদালত ও একটি মেয়ে চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা—ডি. কে. ফিল্মস এন্টারপ্রাইজ।
- প্রযোজক — ধীরেশকুমার চক্রবর্তী।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংগীত ও পরিচালনা — তপন সিংহ।
- চিত্রগ্রহণ – বিমল মুখোপাধ্যায়।
- শিল্প নির্দেশনা—বুদ্ধদেব ঘোষ।
- সম্পাদনা— সুবোধ রায়।
আদালত ও একটি মেয়ে চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —
তনুজা, নির্মলকুমার, মনোজ মিত্র, পতঞ্জলী গুহঠাকুরতা, ভীষ্ম গুহঠাকুরতা, দেবীকা মুখোপাধ্যায়, উজ্জ্বল সেনগুপ্ত, কুমকুম ভট্টাচার্য, যীশু দাশগুপ্ত, স্মিতা সিংহ, মন্টু বন্দ্যোপাধ্যায়, দুলাল লাহিড়ী।
আদালত ও একটি মেয়ে চলচ্চিত্রের কাহিনি—
ঊর্মিলা (তনুজা) এবং তার দুই সহকর্মী বান্ধবী ছুটিতে গোপালপুর যাওয়ার পথে ট্রেনে কয়েকজন মদ্যপ যুবকের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়। এক পুলিস অফিসারের (মনোজ) উপস্থিতির কারণে ট্রেনে উর্মিলারা রক্ষা পেলেও পরবর্তী সময়ে গোপালপুরে ঊর্মিলা ঐ যুবকদের দ্বারা ধর্ষিতা হয়।
কোনোমতে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেও ঐ ঘটনায় ঊর্মিলার মানসিক বিপর্যয় ঘটে। খবর পেয়ে ঊর্মিলার বাবা (নির্মলকুমার) গোপালপুরে যান, এবং মধ্যবিত্ত মানসিকতার কারণে এবং লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে চাইলেও তদন্তকারী পুলিস অফিসার (ঘটনাচক্রে তিনিই ঊর্মিলাদের ট্রেনে রক্ষা করেছিলেন) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যান এবং ধর্ষকদের গ্রেফতার করেন।
বিচার চলাকালীন অভিযুক্তদের আইনজীবী বহু ভাবেই ঊর্মিলাদের হেনস্থা করার চেষ্টা করলেও লোয়ার কোর্ট অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে। অভিযুক্ত যুবকদের এক অভিভাবক তাঁর ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অন্য একটি কারণে ঐ পুলিস অফিসারকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করেন।

ঊর্মিলার ভাবী স্বামী তার সাথে সব সম্পর্ক ত্যাগ করে, আবার ঊর্মিলার স্কুলের কার্যকরী কমিটি কয়েকজন অভিভাবকের চাপে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দিলেও ছোট ছোট ছাত্র ছাত্রীরা তার পাশে এসে দাঁড়ায়। উর্মিলা ঐ পুলিস অফিসারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠায়।
একান্ত অসুবিধার মধ্য দিয়ে চলা সত্ত্বেও ঐ পুলিস অফিসার ঊর্মিলার চিঠিটিকেই নিজের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসাবে গ্রহণ করেন। ছবিটি ঐ বছরে বাংলা ভাষায় নির্মিত সেরা ছবি হিসাবে ভারতের রাষ্ট্রপতির সম্মান (সার্টিফিকেট অব মেরিট) লাভ করে।
