উদয়ের পথে চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন বিমল রায় । চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিচালনা করেছেন রাইচাঁদ বড়াল। চলচ্চিত্রটির মুখ্য চরিত্রে রয়েছে রাধামোহন ভট্টাচার্য, বিনতা বসু, রেখা মিত্র, দেবী মুখোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ ভাদুড়ী প্রমুখ।
গরিব সাহিত্যিক অনুপের সাহিত্যিক হিসাবে পরিচিতি সীমিত হলেও শ্রমিকদের প্রতি তার ভালোবাসা, সততা ও দেশপ্রেম তার মজ্জায় মিশে আছে। অনুপের বোন সুমিত্রা দাদার মতের অনুসারী। কলেজে পড়ার সূত্রে তার সাথে পরিচয় হয় গোপার। অনুপ একটি কোম্পানিতে প্রচার সচিবের কাজ পায়, অনুপের ওপর দায়িত্ব বর্তায় কর্তার অর্থাৎ সৌরীন্দ্রনাথের হয়ে বিভিন্ন বক্তৃতার কপি ও প্রবন্ধ লিখে দেওয়ার। সৌরীন্দ্রনাথ আবার ঘটনাক্রমে গোপার দাদা।
অনুপের লেখা উপন্যাস নিজের নামে ছেপে সৌরীন্দ্রনাথ খ্যাতি অর্জন করলেও গোপা প্রচণ্ড লজ্জিত হয় এবং সে অনুপের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।গোপার বাবা ব্রজেন্দ্রনাথের আপত্তি অগ্রাহ্য করে, সমস্ত আভিজাত্য ত্যাগ করে গোপা অনুপের সাথে গৃহত্যাগ করে।
উদয়ের পথে চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা — নিউ থিয়েটার্স।
- কাহিনি – জ্যোতির্ময় রায়।
- চিত্রনাট্য — বিমল রায়, নির্মল দে।
- পরিচালনা ও চিত্রগ্রহণ – বিমল রায়।
- সংগীত পরিচালনা — রাইচাঁদ বড়াল।
- শিল্প নির্দেশনা— সৌরেন সেন।
- শব্দগ্রহণ অতুল চট্টোপাধ্যায়।
- সম্পাদনা – হরিদাস মহলানবীশ।
- গীতিকার-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শৈলেন রায়।
- নৃত্য পরিচালনা এম. কে. নায়ার।
- নেপথ্য সংগীত—বিনতা বসু, রেখা মিত্র।
উদয়ের পথে চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —
রাধামোহন ভট্টাচার্য, বিনতা বসু, রেখা মিত্র, দেবী মুখোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ ভাদুড়ী, জীবেন বসু, তুলসী চক্রবর্তী, পুত্র মল্লিক, বোকেন চট্টোপাধ্যায়, তারাপদ চৌধুরী, মীরা দত্ত, লীনা বসু, মায়া বসু, স্মৃতিরেখা বিশ্বাস, দেববালা, রাজলক্ষ্মী দেবী, মণিকা ভদ্র, পারুল কর, আদিত্য ঘোষ।

উদয়ের পথে চলচ্চিত্রের কাহিনি—
গরিব সাহিত্যিক অনুপের (রাধামোহন) সাহিত্যিক হিসাবে পরিচিতি সীমিত হলেও ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হিসাবে এলাকায় পরিচিতি ছিল। শ্রমিকদের প্রতি তার ভালোবাসা, সততা ও দেশপ্রেম তার মজ্জায় মিশে আছে। অনুপের বোন সুমিত্রা (রেখা) দাদার মতের অনুসারী এবং খুবই শান্ত প্রকৃতির। কলেজে পড়ার সূত্রে তার সাথে পরিচয় হয় গোপার (বিনতা) এবং গোপা তাকে তাদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে। গোপার অগোচরেই সুমিত্রাকে চোর অপবাদ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।
অনুপ একটি কোম্পানিতে প্রচার সচিবের কাজ পায়, ঐ কোম্পানির কর্তার যথেষ্ট ধনসম্পদ থাকলেও বিদ্যার ঘাটতি ছিল, ফলে অনুপের ওপর দায়িত্ব বর্তায় কর্তার অর্থাৎ সৌরীন্দ্রনাথের (দেবী) হয়ে বিভিন্ন বক্তৃতার কপি ও প্রবন্ধ লিখে দেওয়ার। অনুপের রচিত বক্তৃতা পাঠ করে তার কর্তা প্রচুর হাততালি সহ সম্মান লাভ করে। সৌরীন্দ্রনাথ আবার ঘটনাক্রমে গোপার দাদা।

অনুপ সৌরীন্দ্রনাথকে গোপার দাদা হিসাবে চিহ্নিত করতে পারে এবং চাকরি ছেড়ে দেয়। অনুপের লেখা একটি উপন্যাস ছেপে দেওয়ার জন্য সৌরীন্দ্রনাথ নিয়েছিল। সেটি পড়ে গোপার অনুপের প্রতি শ্রদ্ধা জন্মায় এবং শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে কিছু প্রশ্ন দেখা দেয়। প্রাথমিক ভাবে অনুপের রূঢ় ব্যবহারে কষ্ট পেলেও তার মনের আসল পরিচয় পেয়ে গোপা মুগ্ধ।
অন্যদিকে অনুপের লেখা উপন্যাস নিজের নামে ছেপে সৌরীন্দ্রনাথ খ্যাতি অর্জন করলেও গোপা প্রচণ্ড লজ্জিত হয় এবং সে যখন জানতে পারে তাদের কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ বানচাল করার জন্য তার দাদা অনুপকে মারতে গুণ্ডা লেলিয়ে দিয়েছে, সে অনুপের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।
গোপার বাবা ব্রজেন্দ্রনাথের (বিশ্বনাথ) আপত্তি অগ্রাহ্য করে, সমস্ত আভিজাত্য ত্যাগ করে গোপা অনুপের সাথে গৃহত্যাগ করে।
প্রকাশনা
এই ছবির চিত্রনাট্য বিভাব পত্রিকায় ৬৩তম বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।.
