কণিকা মজুমদার

কণিকা মজুমদার বাংলা চলচ্চিত্র জগতের তথা টলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্বময়ী অভিনেত্রী। তার ব্যক্তিত্বই সত্যজিত রায়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র তিন কন্যার মণিহারা গল্পের মণিমালিকার ভূমিকায় অভিনয়ের পথ সুগম করে দেয়। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপ্রতীম অভিনেতা উত্তম কুমারের পছন্দের অভিনেত্রীও ছিলেন। মণিমালিকার ভূমিকায় তার অভিনয় তাকে বাংলা চল-চ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত করে দেয়।

কণিকা মজুমদার

 

জন্ম পূর্ববাংলার (বর্তমান বাংলাদেশে) ময়মনসিংহ। প্রথাগত শিক্ষা ম্যাট্রিক পর্যন্ত। প্রথাগত শিক্ষার সাথে সংগীত শিক্ষাও নিয়েছিলেন।

প্রথম চলচ্চিত্রাভিনয় সত্যজিৎ রায়ের তিন কন্যার (১৯৬১) অন্তর্গত মণিহারা ছবিতে মণিমালিকার ভূমিকায় অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র বাসস্তী (পুনশ্চ, ১৯৬১); গাধী (সঞ্চারিণী, ১৯৬২), সুজাতা (অগ্নিশিখা, ১৯৬২), কৃষ্ণা (কুমারী মন, ১৯৬২): উমা (কাঞ্চনকন্যা, ১৯৬৩); দময়ন্তী (চিড়িয়াখানা, ১৯৬৭) নায়কের বৌদি (বসন্ত বিলাপ, ১৯৭৩), নায়কের মামী (রাগ অনুরাগ, ১৯৭৫); নায়িকার মা (চাদের কাছাকাছি, ১৯৭৬) ইত্যাদি।

 

কণিকা মজুমদার । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

তিনি বিখ্যাত পরিচালকদের সাথে কাজ করার পাশাপাশি বাংলা ছবির স্বর্ণযুগে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বসন্ত চৌধুরীর মতো দাপুটে অভিনেতাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করেছেন।মঞ্চাভিনয়ে ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’, ‘বেগম মেরি বিশ্বাস’এ তাঁর অভিনয় উল্লেখযোগ্য।

সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে প্রায় তিরিশটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সত্যজিৎ রায় ছাড়া মৃণাল সেন, সুশীল মজুমদার, রাজেন তরফদার, অগ্রগামী, পীযূষ বসু, বিজয় বসু, সলিল সেন, নব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন। কিছুদিন একটি মিশনারী স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি বেতার নাটক সহ পেশাদার মঞ্চেও অভিনয় করেছেন।

 

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি —

  • ১৯৬১ তিন কন্যা (মণিহারা), পুনশ্চ,
  • ১৯৬২ সঞ্চারিণী, অগ্নিশিখা, আগুন, কুমারী মন:
  • ১৯৬৩ কাঞ্চনকন্যা,
  • ১৯৬৫ প্রথম প্রেম,
  • ১৯৬৭ চিড়িয়াখানা
  • ১৯৭০ দুটি মন, বিলম্বিত লয়,
  • ১৯৭১ নবরাগ, সোনাবৌদি,
  • ১৯৭২ জীবন সৈকতে, হার মানা হার,
  • ১৯৭৩ বসন্ত বিলাপ,
  • ১৯৭৪ জন্মভূমি,
  • ১৯৭৫ রানুর প্রথম ভাগ, শর্মিলা, রাগ অনুরাগ,
  • ১৯৭৬ চাদের কাছাকাছি, বন্দী বিধাতা,
  • ১৯৭৮ তিলোত্তমা,
  • ১৯৮০ প্রিয়তমা,
  • ১৯৮১ দুষ্টু মিষ্টি;
  • ১৯৮২ মেঘের পরে মেঘ,
  • ১৯৮৭ মন্দির।

 

Leave a Comment