কালবেলা চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা- চলচ্চিত্রটি ২০০৯ সালে পরিচালক গৌতম ঘোষের পরিচালনায় তৈরী হয়। এই চলচ্চিত্রে মূখ্য ভূমিকা গুলিতে অভিনয় করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পাওলী দাম, সন্তু মুখোপাধ্যায়, সুনীল মুখোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। নকশাল আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত সমরেশ মজুমদার-এর কালবেলা উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্রটি বানানো হয়েছে।
অনিমেষ (পরমব্রত) স্কুল জীবন কাটিয়েছে জলপাইগুড়ি শহরে। স্কুল জীবন শেষে অনিমেষ কলকাতায় আসে উচ্চশিক্ষার জন্য। ষাটের দশকের শেষ দিকে কলকাতা ছাত্ররাজনীতিতে উত্তাল, বামপন্থী দলগুলির মধ্যে মতাদর্শের লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে।অনিমেষ তাদের সাথে যুক্ত হয় এবং ষাটের দশককে মুক্তির দশকে পরিণত করার স্বপ্ন দেখে। বিপ্লবী আন্দোলন করা এবং অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার অপরাধে তার জেল হয়।সত্তর দশকের শেষে কংগ্রেস শাসনের অবসান এবং রাজবন্দীদের মুক্তি হয়, অনিমেষও জেল থেকে ছাড়া পায়।

কালবেলা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা – প্রসারভারতী (দূরদর্শন কেন্দ্র, কলকাতা)।
- কাহিনি – সমরেশ মজুমদার।
- চিত্রনাট্য, সংলাপ, সংগীত ও পরিচালনা — গৌতম ঘোষ।
- চিত্রগ্রহণ — ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়।
- অতিরিক্ত চিত্রগ্রহণ— গৌতম ঘোষ, বিজয় আনন্দ।
- শিল্প নির্দেশনা – সমীর চন্দ।
- সম্পাদনা- – শুভ্র রায়।
- শব্দগ্রহণ—অনুপ মুখোপাধ্যায়, জে. ডি. বাবু, গৌতম নাগ।
কালবেলা চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পাওলি দাম, সপ্ত মুখোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, ব্রাত্য বসু, মৌসুমী সাহা, আনন্দী ঘোষ, অনির্বাণ গুহ, পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়, ছন্দা চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

কালবেলা চলচ্চিত্রের কাহিনি –
অনিমেষ (পরমব্রত) স্কুল জীবন কাটিয়েছে তার ঠাকুরদা সরিৎশেখরের (সৌমিত্র) কাছে জলপাইগুড়ি শহরে। তার ছেলেবেলা কেটেছে স্বৰ্গছেঁড়া চা বাগানে। স্বর্গছেঁড়ায় তার পিতা মহীতোষ (সপ্ত) এখনও চা বাগানে চাকরি করেন। স্কুল জীবন শেষে অনিমেষ কলকাতায় আসে উচ্চশিক্ষার জন্য। ষাটের দশকের শেষ দিকে কলকাতা ছাত্ররাজনীতিতে উত্তাল, বামপন্থী দলগুলির মধ্যে মতাদর্শের লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে।
ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলন, ভিয়েতনামে আমেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুবসমাজের প্রতিবাদ, মাওবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ ছাত্রসমাজের একাংশ সশস্ত্র বিপ্লবের পক্ষে হাতে অস্ত্র তুলে নেয়। অনিমেষ তাদের সাথে যুক্ত হয় এবং ষাটের দশককে মুক্তির দশকে পরিণত করার স্বপ্ন দেখে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার আলাপ মাধবীলতার সাথে, ভালোবেসে দুজন দুজনের কাছে এসেছিল।

বিপ্লবী আন্দোলন করা এবং অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার অপরাধে তার জেল হয়, মাধবীলতা তখন অন্তঃসত্ত্বা। সত্তর দশকের শেষে কংগ্রেস শাসনের অবসান এবং রাজবন্দীদের মুক্তি হয়, অনিমেষও জেল থেকে ছাড়া পায়, মাধবীলতা তাকে নিতে আসে। মাধবীলতার স্বার্থত্যাগের গুরুত্ব অনিমেষ উপলব্ধি করে। একটি স্কুলের দিদিমণির চাকরি নিয়ে মাধবীলতা সন্তান সহ বস্তিতে থাকতে বাধ্য হয়েছে শুধুমাত্র তার ভালোবাসাকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য।
প্রসারভারতী ও কলকাতা দূরদর্শন ১০টি এপিসোডে কালবেলা প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নেন, পরবর্তীকালে এটির কিছুটা সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বিভিন্ন হলগুলিতে মুক্তির বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয় এবং ১৬৫ মিনিটের ডিজিটাল ভারসন কলকাতা সহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।
