কৃষ্ণধন মুখোপাধ্যায়

কৃষ্ণধন মুখোপাধ্যায় এর জন্ম কলকাতায়। তিনি বাংলা নাট্যজগতের একজন বিশিষ্ট অভিনেতা ছিলেন।  প্রথাগত শিক্ষা শুরু হয় মিত্র ইনস্টিটিউশনে এবং পরে বঙ্গবাসী কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই চলচ্চিত্র ও নাটকের সাথে অভিনেতা হিসাবে যুক্ত হন। প্রথম চলচ্চিত্রাভিনয় ম্যাডান থিয়েটার্স প্রযোজিত এবং প্রিয়নাথ গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত জনা (১৯২৭) ছবিতে।সবাক যুগে প্রথম অভিনয় জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত কৃষ্ণকান্তের উইল (১৯৩২)-এ।

 

অভিনেতা কৃষ্ণধন মুখোপাধ্যায়

 

কৃষ্ণধন মুখোপাধ্যায়

সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে ৭০টিরও বেশি ছবির অভিনেতা কৃষ্ণধন বহু পরিচালকের সাথেই কাজ করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন পরিচালক হলেন, সুশীল মজুমদার, নরেশ মিত্র, প্রফুল্ল রায়, চারু রায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, শিশির ভাদুড়ী, নিরঞ্জন পাল, তপন সিং, মৃণাল সেন প্রভৃতি। খলনায়ক চরিত্রে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। অভিনয়ের পাশাপাশি নরেশ মিত্র পরিচালিত বাংলার মেয়ে (১৯৪১) ছবিতে নেপথ্য সংগীত পরিবেশন করেন। চলচ্চিত্র ছাড়াও পেশাদার রঙ্গমঞ্চে নিয়মিত অভিনয় করতেন।

 

পেশাদার মঞ্চে তার অভিনীত বহু নাটকের মধ্যে ‘পতিব্রতা’, ‘প্রলয়’, ‘পথের দাবী’, ‘দেবদাস’, ‘শ্যামলী’, ‘শ্রীকান্ত’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
খলচরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় তার অভিনয় সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘প্রতিরোধ’ ছবিতে তার অভিনয় হলিউড ভিলেনের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি, ‘বাংলার মেয়ে’ (১৯৪১) ছবিতে নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে গান গেয়েছেন তিনি।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি —

  • ১৯২৭ জনা;
  • ১৯৩২ কৃষ্ণকান্তের উইল,
  • ১৯৩৫ রাতকানা, মন্ত্রশক্তি,
  • ১৯৩৬ মহানিশা, তরুবালা, পরপারে, সোনার সংসার, বেজায় রগড়, সরলা, আবর্তন,
  • ১৯৩৭ মুক্তিমান;
  • ১৯৩৯ পরশমণি,
  • ১৯৪০ স্বামী স্ত্রী;
  • ১৯৪১ বাংলার মেয়ে,
  • ১৯৪২ পতিব্রতা, শেষ উত্তর, অভয়ের বিয়ে, জীবন সঙ্গিনী,
  • ১৯৪৩ সমাধান, দম্পতি, স্বামীর ঘর,
  • ১৯৪৪ ছদ্মবেশী, প্রতিকার,
  • ১৯৪৫ পথ বেঁধে নিল, বন্দিতা,
  • ১৯৪৬ তুমি আর আমি, নতুন বৌ, নৌকাডুবি, রাত্রি,
  • ১৯৪৮ জয়যাত্রা, সর্বহারা, মহাকাল,
  • ১৯৪৯ রাঙামাটি, সমর্পণ,
  • ১৯৫০ দিগ্‌ভ্রান্ত, কাকনতলা লাইট রেলওয়ে, রক্তের টান,
  • ১৯৫১ গাঁয়ের মেয়ে, অনুরাগ, সে নিল বিদায়, সংকেত, সম্পদ, রত্নদীপ, চীনের পুতুল,
  • ১৯৫২ সিরাজদ্দৌলা, পল্লী সমাজ
  • ১৯৫৪ সদানন্দের মনের ময়ূর:
  • ১৯৫৫ আত্মদর্শন, অনুপমা,
  • ১৯৫৬ সাহেব বিবি গোলাম, মহানিশা, রাজপথ,
  • ১৯৫৭ শেষ পরিচয়, কাবুলিওয়ালা, নীলাচলে মহাপ্রভু, নতুন প্রভাত;
  • ১৯৫৯ পার্সোনাল এ্যাসিস্ট্যান্ট,
  • ১৯৬০ রাজাসাজা:
  • ১৯৬২ বন্ধন, নব দিগন্ত,
  • ১৯৬৩ অবশেষে
  • ১৯৭৫ ফুলু ঠাকুরমা।
  • ১৯৭৬ সুদূর নীহারিকা, শঙ্খবিষ,
  • ১৯৭৭ মন্ত্রমুগ্ধ,
  • ১৯৮২ রুদ্রবীণা।

 

google news , গুগল নিউজ
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

Leave a Comment