গণশত্রু চলচ্চিত্র

গণশত্রু চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা- গণশত্রু প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় পরিচালিত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। ১৯৮৯ সালে ছবিটি মুক্তি পায়।

সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণী নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের ধর্মবোধকে কীভাবে ব্যবহার করে, তা ছবিটিতে উঠে এসেছে। ছবিটি হেনরিক ইবসেনের An Enemy of the People অবলম্বনে তৈরি করা।

এ চলচ্চিত্রে প্রগতিশীল ডাক্তারের চরিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, তার স্ত্রী মায়ার চরিত্রে রুমা গুহঠাকুরতা, কন্যা ইন্দ্রানী চরিত্রে মমতা শঙ্কর, ভাই এবং প্রশাসনের উচ্চ পদে আসীন নিশীথ চরিত্রে ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, পত্রিকা সম্পাদক হরিদাস বাগচী চরিত্রে দীপঙ্কর দে, সাহসী সাংবাদিক বীরেশ চরিত্রে শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৮৯ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল।

 

 

গণশত্রু চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা – ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন।
  • কাহিনি— হেনরিক ইবসেনের নাটক অবলম্বনে।
  • চিত্রনাট্য, সংগীত ও পরিচালনা – সত্যজিৎ রায়।
  • চিত্রগ্রহণ – বরুণ রাহা।
  • শিল্প নির্দেশনা – অশোক বসু।
  • সম্পাদনা – দুলাল দত্ত।
  • শব্দগ্রহণ – সুজিত সরকার।

গণশত্রু চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শ্রুতিমান চট্টোপাধ্যায়, রুমা গুহঠাকুরতা, মমতাশঙ্কর, দীপঙ্কর দে, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, মনোজ মিত্র, ডী গুহঠাকুরতা, সত্তা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজারাম যাজ্ঞিক।

 

গণশত্রু চলচ্চিত্রের কাহিনি—

পশ্চিমবঙ্গের একটি ছোট শহর ‘চণ্ডীপুরের কাহিনি অবলম্বনে এই ছবির কেন্দ্রে আছেন ডাঃ অশোক গুপ্ত (সৌমিত্র)। ডাঃ গুপ্ত তাঁর পেশার প্রতি শ্রদ্ধাবান এবং তার কাছে যে সব রোগী আসেন, তিনি সর্বতোভাবে তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করেন।

চণ্ডীপুর ছোট শহর হলেও স্বাস্থ্যকর স্থান হিসাবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে শহরের বিখ্যাত ব্যবসায়ী মিঃ ভার্গব (রাজারাম) একটি মন্দির নির্মাণ করেছেন। ত্রিপুরেশ্বর মন্দির দর্শনের জন্য শহরে যথেষ্ট জনসমাগম হয়। কিছুদিন ধরে ডাঃ গুপ্ত লক্ষ করেন যে শহরে জলবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে মন্দিরের আশপাশ অঞ্চলের মানুষেরা সংখ্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ডাঃ গুপ্ত জল পরীক্ষা করার জন্য কলকাতায় পাঠান এবং রিপোর্ট থেকে জানতে পারেন জলের মধ্যেই সংক্রমণের লক্ষণ বর্তমান।

 

Google News গণশত্রু চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

ডাঃ গুপ্ত তাঁর ভাই নিশীথ গুপ্তকে (ধৃতিমান) অনুরোধ করেন কয়েক দিন মন্দির বন্ধ রেখে সংক্রমণের স্থানটিকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। নিশীথ গুপ্ত চণ্ডীপুর মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান। নিশীথ গুপ্ত এবং তার ব্যবসায়িক বন্ধু ভার্গব মানতে চান না যে মন্দির থেকে দূষণ ছড়াচ্ছে। ডাঃ গুপ্ত শহরের একমাত্র সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি জনসাধারণের গোচরে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। নিশীথ গুপ্ত এবং ভার্গব-এর দুষ্টচক্রের ভয়ে কাগজের সম্পাদক লেখা ছাপতে রাজি নন। ডাঃ গুপ্ত একটি মিটিং-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করলে ভার্গবের গুণ্ডারা মিটিং বানচাল করে দেয়।

অপমানিত ডাঃ গুপ্ত স্ত্রী মায়া (রুমা) এবং কন্যা ইন্দ্রাণীকে (মমতা) নিয়ে শহর ছেড়ে চলে। যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু তিনি সবিস্ময়ে লক্ষ করেন শহরের কিছু শিক্ষিত ছেলে মেয়ে রণেন হালদারের (ভীষ্ম) নেতৃত্বে তাঁর সাথে এই দুষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত।

হেনরিক ইবসেনের নাটকে জল দূষণের কথা থাকলেও এর সাথে মন্দিরের বিষয়টি যোগ করে সত্যজিৎ ছবিতে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি পটভূমিকা তৈরি করেন, ফলে ছবিটিতে অন্য একটি মাত্রা যোগ হয়। এর আগে দেবী ছবিতেও আমরা অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সত্যজিৎকে সোচ্চার হতে দেখেছিলাম।

 

 

পুরস্কার —

বছরের সেরা ছবি হিসাবে ১৯৮৯ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির সম্মান লাভ করে।

প্রকাশনা —

ছবির চিত্রনাট্য ১৯৯৩ এক্ষণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই চিত্রনাট্যটির সাথে। ছবির পরিচালকের ছোট প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়েছিল।

Leave a Comment