ঘুম ভাঙার গান চলচ্চিত্র নিয়ে আজকের আলোচনা। ছবিটি প্রযোজনা করেছিল বিদুষক সংস্থা। কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেন উৎপল দত্ত। এই চলচ্চিত্রের একটি বিখ্যাত গান সলিল চৌধুরীর গণসঙ্গীত ‘ও আলোর পথযাত্রী’। সবিতা চৌধুরীর কণ্ঠে এই গানটি পরবর্তীকালে অধিক জনপ্রিয় হয়। কাল অতিক্রম করা এই গানটি আজও আমাদের বিপদে-সংকটে আলোর পথ দেখায়, থেমে না পড়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। উৎপল দত্ত অল্প কিছু ছবি পরিচালনা করেন তারমধ্যে ‘ঝড়’, ‘বৈশাখী মেঘ’, ‘ইনকেলাব কি বাদ’, ‘ঘুম ভাঙার গান’ উল্লেখযোগ্য।
ঘুম ভাঙার গান চলচ্চিত্র

- প্রযোজনা – বিদুষক সংস্থা।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – উৎপল দত্ত।
- চিত্রগ্রহণ- রামানন্দ সেনগুপ্ত।
- সংগীত পরিচালনা — রবিশঙ্কর।
- শিল্প নির্দেশনা – বি. কল্যাণ।
- সম্পাদনা— গোবিন্দ চট্টোপাধ্যায়
অভিনয়
জহর রায়, শোভা সেন, অনিল চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, শেখর চট্টোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত, অরুণ রায়, চারুপ্রকাশ ঘোষ, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, নমিতা দাস, মণি শ্রীমানী।

কাহিনি—
হরিপদ (জহর) একটি কারখানায় কাজ করে। তার পরিবারে আছে স্ত্রী গৌরী (শোভা) এবং ছেলে সুধীর (অলি)। অভাব তাদের নিত্য সঙ্গী। সুধীর ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো বাঁশি বাজায়। হরিপদ ও গৌরীর স্বপ্ন সুধীর বড় হয়ে একজন নামকরা শিল্পী হিসাবে বিখ্যাত হবে। অভাব সত্ত্বেও সুধীরের বাঁশি শেখার বিষয়ে তারা সব রকম সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করে ৷ চামেলী (মাধবী) ঐ কারখানার ক্রেন ড্রাইভারের মেয়ে। চামেলী ও সুধীর পরস্পরকে ভালোবাসে। হরিপন ও গৌরী দুজনেই চামেলীকে খুব পছন্দ করে। তাকে ভবিষ্যতে পুত্রবধূ হিসাবে ঘরে আনতে দুজনেই আগ্রহী।
হঠাৎই ঐ কারখানার মালিক তার কারখানায় লক আউট ঘোষণার চেষ্টা করে। হরিপদ এবং অন্যান্য শ্রমিকদের মিলিত শক্তির কাছে মালিককে নতি স্বীকার করতে হয়। মালিক লক আউট তুলে নিতে বাধ্য হয়।

অভাব এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে সুধীরের যক্ষ্মা রোগ ধরা পড়ে। চেষ্টা করেও তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। সুধীর ও গৌরীর স্বপ্নভঙ্গ হয়। প্রতিবেশীরা তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। ছবিটি চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করলেও জনসমাদর লাভ করতে ব্যর্থ হয়।
