চারুলতা চলচ্চিত্র (১৯৬৪)

চারুলতা চলচ্চিত্র সত্যজিৎ রায় পরিচালিত একটি চলচ্চিত্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় গল্প নষ্টনীড় অবলম্বনে এর চিত্রনাট্য রচিত হয়েছে। ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি ইংরেজিভাষী বিশ্বে The Lonely Wife নামে পরিচিত। সার্থক চিত্রায়নের খাতিরে এতে গল্পের কাহিনী খানিকটা পরিবর্তন করা হয়েছে।

চারুলতা চলচ্চিত্র

 

  • প্রযোজনা—আর ডি বনশল।
  • কাহিনি—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • চিত্রনাট্য, সংগীত ও পরিচালনা – সত্যজিৎ রায়।
  • চিত্রগ্রহণ – সুব্রত মিত্র।
  • শিল্প নির্দেশনা — বংশী চন্দ্রগুপ্ত।
  • সম্পাদনা— দুলাল দত্ত।
  • শব্দগ্রহণ — নৃপেন পাল, শ্যামসুন্দর ঘোষ।
  • গীতিকার – রাজা রামমোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামনিধি গুপ্ত (নিধুবাবু), তানসেন, বৈজু বাওরা।

 

অভিনয় :

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, শৈলেন মুখোপাধ্যায়, শ্যামল ঘোষাল, গীতালি রায়, সুব্রত সেন, বঙ্কিম ঘোষ, দিলীপ বসু, নীলোৎপল দে, ভোলানাথ কয়াল, সুকু মুখোপাধ্যায়, কামু মুখোপাধ্যায়, তারাপদ বসু, রমেশচন্দ্র চন্দ্র, গোপাল দাস ভট্টাচার্য, সুনীলকান্ত দাশগুপ্ত, অজিত গুপ্ত, প্রভাত সরকার, মণিবাবু।

 

 

কণ্ঠসংগীত:

কিশোরকুমার, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, শিবকুমার চট্টোপাধ্যায়, জয়কৃষ্ণ সান্যাল।

 

কাহিনি:

সত্যজিতের কথায় তাঁর শ্রেষ্ঠ ছবি। রবীন্দ্রনাথের ‘নষ্টনীড়’ অবলম্বনে তৈরি এই ছবির নায়িকা চারুলতা (মাধবী), ১৮৮০ সালে কলকাতার এক বিত্তবান পরিবারের বধূ। স্বামী ভূপতি (শৈলেন) সেন্টিনেল নামে একটি রাজনৈতিক সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক।

পত্রিকার আকর্ষণে ভূপতি স্ত্রীর বালিকা থেকে যৌবনে উত্তরণের কথাও ভালো করে জানতে পারে নি, শুধু স্ত্রীর একাকিত্ব নিবারণে শ্যালক উমাপদ (শ্যামল) এবং তার স্ত্রী মন্দাকিনীকে (গীতালি) বাড়িতে নিয়ে আসে। উমাপদ সেন্টিনেল-এর ম্যানেজার নিযুক্ত হলেও অশিক্ষিতা মন্দাকিনী চারুর যোগ্য সহচরী হয়ে উঠতে পারে নি। শিক্ষিতা চারু এবং অশিক্ষিতা মন্দার মানসিক নিল সম্ভব হয় নি। নিঃসঙ্গতা চারুর নিত্যসঙ্গী।

এই সময় ভূপতির জ্ঞাতিভাই অমল (সৌমিত্র) বাড়িতে আসে। চারুর সাহিত্যপ্রীতি অমলের সান্নিধ্যে উজ্জীবিত হয় এবং তার সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ ঘটে। অমল চারুর প্রকৃত সঙ্গী হয়ে ওঠে। অমলের আকর্ষণে চারু স্বামীর অমনোযোগকেও ভুলতে পারে।

 

Google News চারুলতা চলচ্চিত্র (১৯৬৪)
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

অকস্মাৎ ভূপতি জানতে পারে উমাপদ পত্রিকার তহবিল তছরুপ করেছে। এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার কথা সে স্বপ্নেও ভাবে নি, ভূপতি অমলকে জানায় উমাপদর প্রতি তার এই বিশ্বাসের অমর্যাদার কথা। অমল তার প্রতি চারুর মনোভাবের কথা ভেবে শঙ্কিত হয়, সেটা আরও বড় অবিশ্বাসের কাজ। অমল সেই রাতেই বাড়ি থেকে প্রস্থান করে।

নিঃসঙ্গ ভূপতি এবং চারু পুরী বেড়াতে যায়, স্বামীর সান্নিধ্য তাকে নিঃসঙ্গতা ভুলতে সাহায্য করে। চারুর সক্রিয় সাহায্যে আবার নতুন একটি পত্রিকা প্রকাশ করার সংকল্প নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে আসে।

এই সময় অমলের একটি চিঠি চারুর লুপ্ত স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে, সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। চারুর কান্না দেখে ভূপতি অমলের প্রতি চারুর মনোভাব বুঝতে পারে। দুজনেই বুঝতে পারে ভবিষ্যতে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে সংসার করে গেলেও তাদের মানসিক মিল আর সম্ভব নয়।

‘নষ্টনীড়’ নামে ছবিটি মুক্তির জন্য প্রাথমিক ভাবে বিজ্ঞাপিত হলেও একই নামে তৈরি। ১৯৫১ সালে পশুপতি চট্টোপাধ্যায়ের ছবিটির কথা মাথায় রেখে ছবিটি ‘চারুলতা’ নামে মুক্তি পায়।

 

প্রকাশনা:

ছবির চিত্রনাট্য এক্ষণ পত্রিকায় ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

 

পুরস্কার:

রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক ১৯৬৪। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে ১৯৬৫ সালে সেরা: পায়। পরিচালক হিসাবে রৌপ্য ভল্লুক এবং ক্যাথলিক এ্যাওয়ার্ড। সেরা ছবি হিসাবে ১৯৬৫ সালে আকাপুলকা পুরস্কার।

Leave a Comment