চারু রায় এর জন্ম মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে। স্কুলশিক্ষা সমাপ্ত করে কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক হন। অঙ্কন শিক্ষা পেয়েছিলেন বহরমপুরে ব্রজ পালের কাছে। পরবর্তী কালে ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর ওরিয়েন্টাল আর্টস-এর সাথে যুক্ত হন। এই সময়ে তাঁর আঁকা ছবি ‘ভারতবর্ষ”, ‘প্রবাসী’ ইত্যাদি পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। কিছুদিন বার্ড কোম্পানিতে চাকরি করার পর আনন্দবাজার পত্রিকায় কার্টুনিস্ট হিসাবে চাকরি নেন। ১৯২২-২৭ পর্যন্ত তার আঁকা কার্টুন আনন্দবাজার ছাড়াও ‘প্রবাসী’ এবং ‘মডার্ন রিভিউ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অবিভক্ত বাংলার প্রথম চলচ্চিত্র পত্রিকা ‘বায়োস্কোপ’-এর সাথেও যুক্ত ছিলেন।
চারু রায়
বাংলা রঙ্গমঞ্চে শিল্প নির্দেশক হিসাবে উল্লেখযোগ্য কাজ মুক্তার মুক্তি, ঋষির মেয়ে, শ্রীকৃষ্ণ এবং শিশির ভাদুড়ী পরিচালিত সীতা নাটকে। চলচ্চিত্রে স্বাধীন শিল্প নির্দেশক হিসাবে প্রথম কাজ জয়গোপাল পিয়ে পরিচালিত এবং ইন্ডিয়ান কিনেমা আর্টস প্রযোজিত নির্বাক ছবি পুনর্জন্ম (১৯২৭) ছবিতে।
হিমাংশু রায় এবং ফ্রাঞ্জ অক্টেন পরিচালিত লাইট অফ এশিয়া (১৯২৫), মুঘল রাজকুমারের প্রেম (১৯২৮), সিরাজ (১৯২৮) ছবিতে শিল্প নির্দেশক হিসাবে কাজ করেছেন। মুঘল রাজকুমারের প্রেম এবং সিরাজ ছবিতে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন। নির্বাক যুগে তিনি তিনটি ছবি পরিচালনা করেন। সেগুলি হল গ্রাফিক আর্টস প্রযোজিত বিগ্রহ (১৯৩০), ফিল্মস অফ দা ইষ্ট প্রযোজিত স্বামী (১৯৩১) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রাফ্ট প্রযোজিত চোরকাঁটা (১৯৩১)।

সবাক যুগে পরিচালক হিসাবে প্রথম ছবি পপুলার পিকচার্স প্রযোজিত কুহু ও কেকা (১৯৩৬)। চাক রায় পরিচালিত এবং স্ত্রী ভারতলক্ষ্মী পিকচার্স প্রযোজিত বাঙ্গালী (১৯৩৬) ছবিটি তৎকালীন সময়ে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, ছবিটিতে মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের রূপ যথার্থ ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তী কালে সত্যজিৎ রায়ও ছবিটির প্রশংসা করেন। চাক যায় পরিচালিত অন্যান্য ছবিগুলি হল রাজনটী বসন্তসেনা (১৯৩৪), সরলা (১৯৩৬), গ্রহের ফের (১৯৩৭), পথিক (১৯৩৯) ইত্যাদি।
চলচ্চিত্র পরিচালনার সাথে মধু বসু পরিচালিত মাইকেল মধুসূদন (১৯৫০), মণি ঘোষ পরিচালিত ভৈরব মন্ত্র (১৯৫১), দেবকী বসু পরিচালিত পথিক (১৯৫৩), এবং অর্থ (১৯৬১), শ্যাম দাস পরিচালিত বীর হাম্বীর (১৯৫৫) ছবির শিল্প নির্দেশক হিসাবেও কাজ করেছেন। সত্ত্ব সেন পরিচালিত আবর্তন (১৯৩৬) ছবির সম্পাদনাও করেছিলেন।
নিজের ছবির জন্য চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি তিনি প্রফুল্ল রায় পরিচালিত মালঞ্চ (১৯৫৩) ছবির চিত্রনাট্যও রচনা করেন। শিল্প নির্দেশক হিসাবে তিনি হলিউডকে নকল করেন নি বরং ভারতীয় ধারার প্রবর্তন করে তিনি শিল্প নির্দেশনায় একটি নতুন যুগের প্রতীক হিসাবে নিজেকে চিহ্নিত করেছেন।
প্রকাশনা:
চিত্রভাষ, ২১ বর্ষ ৩য় ও ৪র্থ সংখ্যা, জুলাই-ডিসেম্বর ১৯৮৬ ক্রোড়পত্র “বাঙ্গালী” পূঃ ১৩-৩০।
চলচ্চিত্র পঞ্জি:
- ১৯২৭ পুনর্জন্ম:
- ১৯৩০ বিগ্রহ
- ১৯৩১ স্বামী, চোরকাঁটা,
- ১৯৩৪ রাজনটী বসন্তসেনা,
- ১৯৩৬ কুহু ও কেকা, আবর্তন, বাঙ্গালী, সরলা,
- ১৯৩৭ গ্রহের ফের,
- ১৯৩৯ পথিক;
- ১৯৫০ মাইকেল মধুসুদন
- ১৯৫৩ মালঞ্চ, পথিক,
- ১৯৫৫ স্পর্শমণি, বাসবদত্তা, বীর হাম্বীর,
- ১৯৬১ অর্ঘ্য।
