চিত্ত বসু জন্ম বাংলাদেশের খুলনা জেলায় খাওরা গ্রামে, পিতা চারুচন্দ্র বসু। ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা, বঙ্গবাসী কলেজ থেকে আই.এ. এবং আশুতোষ কলেজ থেকে বি.এ. পাস করেন।
চিত্ত বসু
কমলা টকীজ প্রযোজিত এবং সুকুমার দাশগুপ্ত পরিচালিত রাজগী (১৯৩৭) ছবিতে সহকারী হিসাবে কাজের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। সুকুমার দাশগুপ্ত পরিচালিত এপার ওপার (১৯৪১) ছবির চিত্রনাট্য রচনা করেন চিত্ত বসু।
স্বাধীন পরিচালক হিসাবে প্রথম ছবি প্রেমেন্দ্র মিত্রর কাহিনি এবং চিত্রনাট্য অবলম্বনে কতদূর (১৯৪৫)। সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে উনত্রিশটি ছবি পরিচালনা করেছেন। মণি বৰ্মা, নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, নরেশ মিত্র, বিজন ভট্টাচার্য এবং জ্যোতির্ময় রায়ের চিত্রনাট্য অবলম্বনে বেশির ভাগ ছবি করলেও নিজের চিত্রনাট্য অবলম্বনে পরিচালনা করেন পূরবী (১৯৪৮), বাঁকা লেখা (১৯৪৮), বন্ধুর পথ (১৯৪৯), সহোদর (১৯৫০) এবং মেঘমুক্তি (১৯৫২)।
জ্যোতির্ময় রায়ের চিত্রনাট্য অবলম্বনে তৈরি বিকাশ রায়, অরুন্ধতী দেবী, মাঃ বাবুয়া অভিনীত ছেলে কার (১৯৫৪) ছবিটি ঐ বছরে বাংলা ভাষায় নির্মিত শ্রেষ্ঠ ছবি হিসাবে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার লাভ করে।
তার পরিচালিত উত্তমকুমার অভিনীত মন্ত্রশক্তি (১৯৫৪), কঙ্কাবতীর ঘাট (১৯৫৫), একটি রাত (১৯৫৬), পুত্রবধূ (১৯৫৬), সুরের পরশে (১৯৫৭), বন্ধু (১৯৫৮) এবং মায়ামৃগ (১৯৬০) ছবিগুলি বক্স অফিসে সাফল্য পায়। উত্তমকুমার, অসিতবরণ, মালা সিনহা অভিনীত বন্ধু (১৯৫৮) ছবিটি পরিচালনার পাশাপাশি প্রযোজনাও করেছিলেন।
তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবি হল শুভযাত্রা (১৯৫৪), নদ ও নদী (১৯৫৪), ছেলে কার (১৯৫৪), রাস্তার ছেলে (১৯৫৭), শুভদৃষ্টি (১৯৬২) ইত্যাদি।

চলচ্চিত্রপঞ্জি:
- ১৯৪৫ কতদূর,
- ১৯৪৮ পূরবী, বাঁকা লেখা:
- ১৯৪৯ বন্ধুর পথ:
- ১৯৫০ সহোদর;
- ১৯৫২ মেঘমুক্তি, বিন্দুর ছেলে,
- ১৯৫৪ শুভযাত্রা, নদ ও নদী, প্রযুম, ছেলে কার, মন্ত্রশক্তি,
- ১৯৫৫ জ্যোতিষী, কঙ্কাবতীর ঘাট, দৃষ্টি,
- ১৯৫৬ একটি রাত, পুত্রবধূ,
- ১৯৫৭ তাপসী, রাস্তার ছেলে, সুরের পরশে,
- ১৯৫৮ বন্ধু;
- ১৯৬০ মায়ামৃগ,
- ১৯৬১ মা:
- ১৯৬২ শুভদৃষ্টি, দর্পচূর্ণ,
- ১৯৬৪ গোধুলিবেলায়,
- ১৯৬৫ জয়া,
- ১৯৬৬ গৃহ সন্ধানে,
- ১৯৭২ শেষ পর্ব।
