চুপি চুপি আসে চলচ্চিত্র হল একটি বাংলা সাদাকালো রহস্য চলচ্চিত্র যা ১৯৬০ সালে প্রেমেন্দ্র মিত্রের পরিচালনায় প্রকাশিত হয়। সংগীত পরিচালক ছিলেন নচিকেতা ঘোষ এবং মুখ্য গানটির কন্ঠশিল্পী হলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।

চুপি চুপি আসে চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান
- প্রযোজনা – অরোরা ফিল্ম করপোরেশন।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- সংগীত পরিচালনা- নচিকেতা ঘোষ।
- চিত্রগ্রহণ – বস্তু রায়।
- শব্দগ্রহণ — সমর বসু।
- শিল্প নির্দেশনা – সত্যেন রায়চৌধুরী।
- সম্পাদনা – বিশ্বনাথ মিত্র।
- গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার।
অভিনয় –
ছবি বিশ্বাস, জহর গঙ্গোপাধ্যায়, রবীন মজুমদার, তপতী ঘোষ, তরুণকুমার, প্রবীর কুমার, শশাঙ্ক সোম, ধীরাজ দাস, চন্দ্রশেখর, আশা দেবী, সুষমা ঘোষাল, নমিতা দেবী। কন্ঠসংগীত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। আবহসংগীত বীরেন্দ্রনারায়ণ।

কাহিনি—
গিরি মাঝি লেনে একটি দোতলা বাড়ির গৃহকর্ত্রী মোক্ষদা দেবী খুন হন। পুলিস তদন্ত করতে এসে জানতে পারে মোক্ষদা দেবীর সাথে দেখা করতে একজন বর্ষাতি পরা লোক এসেছিল। হত্যাকারী অসাবধানতার কারণে একটি কাগজ ফেলে যায়, সেটি কল্যাণেশ্বরী স্বাস্থ্যনিবাস নামে একটি বেসরকারি হোটেলের।
পাহাড়ের উপর এই স্বাস্থ্যনিবাস পরিচালনা করেন কণিকা দেবী (তপতী) এবং প্রাণ লাহিড়ী (রবীন), কয়েকজন ঐ স্বাস্থ্যনিবাসে থাকার জন্য আসেন, তারা হলেন মধুসুদন বাবু (প্রবীরকুমার), ডঃ বাজপেয়ী (ধীরাজ), মিস ধর (সুষমা), বেণীবাবু (ছবি) এবং রাধাশ্যামবাবু (জহর)। স্থানীয় থানা থেকে দূরভাষ মারফত খবর আসে পুলিস অফিসার মিঃ ঘোষাল (তরুণকুমার) ঐ স্বাস্থ্যনিবাসে তদন্ত করতে আসবেন।

জানা যায় মোক্ষদা দেবী ও তাঁর স্বামী একটি অনাথ আশ্রমে ম্যানেজারি করতেন, দাঙ্গার সময়ে অনাথরা ঐ আশ্রমে স্থান পেত। ম্যানেজারদের অত্যাচারে আশ্রিত একটি পরিবারের তিন ভাই ও বোন পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে, তাদের প্রচণ্ড মারধর করা হয়, এবং ছোট ভাইটি মারা যায়। মোক্ষদা স্বামীর মৃত্যুর পর গিরি মাঝি লেনে বসবাস শুরু করেন। স্বাস্থ্যনিবাসের মিস ধর মোক্ষদার নিজের বোন। মোক্ষদার মতো একই পদ্ধতিতে মিস ধরকেও খুন করা হয়।
শেষ পর্যন্ত বেণীবাবু এবং মধুসুদন বাবু এই দুই ছদ্মবেশী পুলিস অফিসারের কৃতিত্বে আসামি মিঃ ঘোষালকে শনাক্ত করা হয়, মিঃ ঘোষালের আসল নাম পানু, সে ঐ তিন ভাই বোনের সকলের বড়, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সে মোক্ষদা ও মিস ধরকে খুন করেছে। পুলিসের হাত থেকে পালাতে গিয়ে জলে ডুবে পানুর মৃত্যু হয়।

রাধাশ্যাম বাবু আসলে প্রবীরের মামা, কণিকা ও প্রবীরের ভবিষ্যৎ মধুর সম্পর্কের ইঙ্গিতে ছবি শেষ হয়। ছবিটি তৎকালীন সময়ে জনপ্রিয় হয়েছিল।
