জয় বাবা ফেলুনাথ চলচ্চিত্র সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় নির্মিত তারই রচিত একই নামের ফেলুদার গোয়েন্দা উপন্যাস নিয়ে একটি চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রে ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, এবং মগনলাল মেঘরাজের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন উৎপল দত্ত । এটা সত্যজিৎ রায় নির্মিত দ্বিতীয় ও শেষ ফেলুদা চলচ্চিত্র।
জয় বাবা ফেলুনাথ চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান
- প্রযোজনা – আর. ডি. বনশল
- কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংগীত ও পরিচালনা — সত্যজিৎ রায়।
- চিত্রগ্রহণ—সৌমেন্দু রায়।
- শিল্প নির্দেশনা – অশোক বসু।
- সম্পাদনা – দুলাল দত্ত।
- শব্দগ্রহণ- রবিন সেনগুপ্ত, মঙ্গেশ দেশাই, সমীর মজুমদার।
- কণ্ঠ সংগীত রেবা মুহুরী।
অভিনয়:
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত, সন্তোষ দত্ত, শ্রীমান জিৎ বসু, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় (P.LT), বিমল চট্টোপাধ্যায়, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, মলয় রায়, সন্তোষ সিংহ ইন্দুভূষণ গুজরাল, কানু মুখোপাধ্যায়, মনু মুখোপাধ্যায়, রাজকুমার লাহিড়ী, অবনীকুমার মুখোপাধ্যায়, সুভদ্রা দেবী, পরিণীতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমীরণ রায়, পান্নালাল যাদব।

কাহিনি:
ফেলুদা কাহিনি অবলম্বনে সত্যজিতের দ্বিতীয় ছবির পটভূমি বেনারস বা কাশী। পুজোর ছুটিতে ফেলুদা (সৌমিত্র), তোপসে (সিদ্ধার্থ) এবং জটায়ু (সন্তোষ) কাশীতে বেড়াতে আসেন। দ্বারভাঙা ঘাটে মছলি বাবাকে (মনু) দর্শন করতে গিয়ে উমানাথ ঘোষালের (হারাধন) সাথে ফেলুদার পরিচয় হয়। উমানাথের বাড়িতে কয়েক দিন আগে একটা দুর্মূল্য গণেশ মূর্তি চুরি হয়। উমানাথের ধারণা তার বাল্যবন্ধু মগনলাল (উৎপল) এটি চুরি করেছে। উমানাথের বাবা অম্বিকা ঘোষালের (বিমল) অনুরোধে ফেলুদা রহস্য সমাধানে নামে। মগনলাল ফেলুদাকে এই তদন্ত থেকে সরে দাঁড়াতে এমনকী টাকা নিয়ে তদন্ত বন্ধ করতে অনুরোধ করে। ফেলুদার প্রত্যাখ্যান মগনলালকে উত্তেজিত করে এবং তার ব্যবহারে ফেলুদা অপমানিত বোধ করে।
উমানাথের বালক পুত্র রুকুর (জিৎ) সাহায্যে ফেলুদা রহস্য উদ্ঘাটনে কৃতকার্য হয়। জানা যায় আসল গণেশ আদৌ চুরি যায় নি, মগনলাল নকল মূর্তি চুরি করেছে, অম্বিকা নাতির সাথে ষড়যন্ত্র করে আসল মূর্তি লুকিয়ে নকল মূর্তি সাজিয়ে রেখেছিলেন।

পুরস্কার:
বছরের সেরা শিশু ও কিশোরদের উপযোগী চলচ্চিত্র হিসাবে ১৯৭৮ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির সম্মান, ১৯৭৯ সালে হংকং চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবি।
