গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করলেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল

ঢাকা, ১ মার্চ ২০২৫: জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল শুধুমাত্র রূপালি পর্দার পরিচিত মুখ নন, বরং তিনি একাডেমিক জগতেও প্রমাণ করেছেন নিজের মেধা ও নিষ্ঠা। অভিনয়ের ব্যস্ত সময়সূচির মাঝেও তিনি চালিয়ে গেছেন তাঁর শিক্ষাজীবন। অবশেষে সেই প্রচেষ্টার ফসল মিলেছে—সম্প্রতি রাজধানীর সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ৮ম সমাবর্তনে অংশ নিয়ে কেয়া পায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

 

কেয়া পায়েল
কেয়া পায়েল

 

সমাবর্তনের উচ্ছ্বাস ও পারিবারিক আবেগ

সমাবর্তনের দিনটি ছিল কেয়া পায়েলের জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা-মা—যাদের চোখে ছিল গর্বের ঝিলিক ও আনন্দের অশ্রু। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে পায়েল বলেন,

“এটি আমার জন্য অত্যন্ত আবেগপূর্ণ দিন। অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাটা চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বড় একটা অংশই কেটেছে করোনা মহামারির অচলাবস্থায়, অনলাইন ক্লাসে, সীমিত যোগাযোগে। তারপরও আজ যখন ডিগ্রি হাতে পেলাম, মনে হচ্ছে পরিশ্রমটা সার্থক হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন,

“আজ আমি যতটা খুশি, তার থেকেও বেশি খুশি আমার বাবা-মা। তারা সবসময় বলতেন, পড়াশোনা শেষ না করলে জীবনের এক বড় অধ্যায় অপূর্ণ থেকে যাবে। তাদের সেই স্বপ্নই আজ পূর্ণ হলো।”

কেয়া পায়েল
কেয়া পায়েল

 

ছাত্রজীবনের স্মৃতি ও হাস্যরস

কেয়া পায়েল পর্দার চরিত্রের মতোই বাস্তব জীবনেও প্রাণবন্ত ও চঞ্চল। নিজের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি হাসতে হাসতে বলেন,

“আমি ক্লাসে বেশ দুষ্টুমি করতাম! সহপাঠীদের অনেক বিরক্ত করেছি। কখনও দেরি করে ক্লাসে ঢোকা, কখনও গ্রুপ প্রজেক্টে সবাইকে হাসানো—এসব আমার নিয়মিত ঘটনা ছিল। তবে শিক্ষকদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, যা শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, জীবনের শিক্ষা।”

একাডেমিক ও অভিনয়ের ভারসাম্য

অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা করা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কেয়া পায়েল। শুটিং স্পট থেকে ক্লাস, ক্লাস থেকে সেট—এভাবে এক ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও তিনি কখনো হাল ছাড়েননি।

“অনেক সময় শুটিংয়ের পর রাত জেগে পড়েছি, আবার ভোরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি। কখনও কখনও পরীক্ষার সময় শুটিংয়ের সময়সূচি বদলাতে হয়েছে। কিন্তু আমি চেয়েছি—দুই জগতেই সেরাটা দিতে,” বলেন পায়েল।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

কেয়া পায়েল শুধুমাত্র অভিনয় নয়, নিজের একাডেমিক ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের দিকেও মনোযোগী। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন,

“পড়াশোনা নিয়ে আমার আরও কিছু স্বপ্ন আছে। আমি চাই, ভবিষ্যতে হয়তো মাস্টার্স বা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে। শিক্ষা এমন এক বিনিয়োগ, যা আজীবন সঙ্গে থাকে।”

তিনি আরও বলেন,

“শিক্ষা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। আমাদের বিনোদন জগতেও শিক্ষিত শিল্পী বাড়লে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

কেয়া পায়েল: মডেল থেকে অভিনেত্রী, তারপর গ্র্যাজুয়েট

রাজশাহীর মেয়ে কেয়া পায়েল ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও নাটকের মাধ্যমে তাঁর মিডিয়ায় আগমন। ২০১১ সালে নাটক ‘অলৌকিক প্রেম’ দিয়ে তিনি অভিনয়ে পা রাখেন এবং পরবর্তীতে ‘ফিফটি ফিফটি’, ‘মনপুরা এক্সপ্রেস’, ‘বেডরুম’, ‘জলপাই ভালোবাসা’-সহ বহু নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। বর্তমানে তিনি একাধিক সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন এবং দর্শকদের কাছে ধারাবাহিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন।

অনুপ্রেরণার প্রতীক

কেয়া পায়েলের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে কেউই জীবনের দুটি চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্র—শিক্ষা ও ক্যারিয়ার—একসাথে সামলাতে পারে।
তরুণ প্রজন্মের প্রতি তাঁর বার্তা,

“ক্যারিয়ারের সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাও। শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট নয়—এটি চরিত্র গঠনের অন্যতম মাধ্যম।”

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন মঞ্চে গাউন ও টুপি পরা কেয়া পায়েল ছিলেন যেন সাফল্যের প্রতীক। অভিনয় জগতে যেমন তিনি নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন, তেমনি একাডেমিক জগতেও তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের সক্ষমতা।