ঢাকা, ৩ মার্চ, ২০২৫ – বাংলাদেশের অডিও-ভিডিও প্রযোজনা খাতের পথিকৃৎ জি-সিরিজ আজ তাদের ৪২ বছরের যাত্রা সম্পন্ন করে ৪৩ বছরে পা দিল। দেশের সংগীত ও বিনোদন জগতে বিশেষ স্থান দখল করা এই প্রতিষ্ঠানটি উদযাপন করছে নানা আয়োজনের মাধ্যমে। প্রধান কার্যালয়ে কেক কাটা, পুরনো সাফল্য স্মরণ এবং আনন্দঘন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ও শিল্পীরা একত্রিত হন।

প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল হক ভূঁইয়ার ভাবনা:
প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার নাজমুল হক ভূঁইয়া (খালেদ) বলেন,
“মনে হচ্ছে, এই তো সেদিন যাত্রা শুরু হলো, অথচ দেখতে দেখতে চার দশক পার হয়ে গেছে। বিগত দিনগুলোর মতো ভবিষ্যতেও দেশের গুণী শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করবে জি-সিরিজ, পাশাপাশি নতুন প্রতিভাবানদের সুযোগ করে দেবে।”
তিনি আরও বলেন, জি-সিরিজ শুধু একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সংগীতের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।

৪ দশকের পথচলা:
১৯৮৩ সালে শিল্প অনুরাগী নাজমুল হক ভূঁইয়া (খালেদ) জি-সিরিজের যাত্রা শুরু করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের শীর্ষ প্রযোজনা সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুরু থেকেই জি-সিরিজ দেশীয় সংগীত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রচারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে।
বাংলা সংগীত জগতের অসংখ্য খ্যাতনামা গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীর ক্যারিয়ার সূচনা এই প্রতিষ্ঠানের হাত ধরেই হয়েছে। ‘জি-সিরিজ’ নামকরণ করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ থেকে প্রথম ইংরেজি বর্ণ ‘জি’ অনুসারে। এছাড়াও, নামের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে ‘গায়া’, ‘গ্লোবাল’ ও ‘গ্রাউন্ড’—যা প্রতিষ্ঠানটির আদর্শ ও লক্ষ্য নির্দেশ করে।

প্রযোজনা ও সৃজনশীল কার্যক্রম:
জি-সিরিজ ক্যাসেট, অ্যালবাম, সিডি, মিউজিক ভিডিও ছাড়াও নাটক, টেলিফিল্ম, সিনেমা এবং ভিডিও ডকুমেন্টারির প্রযোজনা ও পরিবেশনা করে আসছে।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি চালু করে ‘অগ্নিবীণা’ নামে একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, যা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ থেকে নামকরণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রতিভা বিকাশ এবং সৃজনশীলতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া, জি টেকনোলজিস ও রেডিও জি বিডি ডটনেট এর মাধ্যমে সংগীত প্রকাশনার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম খাতেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংবাদমাধ্যমেও পদার্পণ করে ‘নিউজজি টোয়েন্টিফোর ডটকম’, যা আজ ৯ বছরে পা দিয়েছে।
সংগীত, সংস্কৃতি ও নতুন প্রজন্মের জন্য প্ল্যাটফর্ম:
জি-সিরিজের ইতিহাস কেবল প্রযোজনা বা বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং এটি সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার প্রতীক। প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক নতুন প্রতিভাবান শিল্পী প্রথমবারের মতো দেশের শ্রোতাদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন।
“আমরা সবসময় চেষ্টা করি নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দিতে, এবং দেশে সংস্কৃতি ও সংগীতের মানকে আরও সমৃদ্ধ করতে,” – বলেন নাজমুল হক ভূঁইয়া।
৪২ বছরের যাত্রা শেষে আজ জি-সিরিজ ৪৩ বছরে পদার্পণ করল। দেশের সংগীত ও বিনোদন জগতে এর অবদান চিরস্মরণীয়। কেক কাটা, আনন্দঘন অনুষ্ঠান এবং শিল্পীদের সঙ্গে স্মৃতিময় মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি অতীত স্মরণ ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা একসাথে উদযাপন করেছে।
জি-সিরিজের গল্প শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের কাহিনী নয়; এটি বাংলাদেশের সংগীত, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার ইতিহাস। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রতিভা, উদ্ভাবনী ধারনা ও আন্তর্জাতিক মানের সৃজনশীলতা নিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার করছে।
#জি_সিরিজ #GSeries #BangladeshiMusic #CulturalIcon #AudioVideoProduction #NazmulHaqueBhuiyan #AgniBina #BangladeshEntertainment #MusicProduction #BangladeshCulture #NewTalentPlatform
