ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ আজ গভীর শোকের মাঝে প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে স্মরণ করছে। ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর, সোমবার, ৮৯ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন। ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষণ দেওল হিসেবে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা প্রথম অভিনয় করেন Dil Bhi Tera Hum Bhi Tere (১৯৬০) ছবিতে। সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়েছিল এক অবিশ্বাস্য যাত্রা—সমৃদ্ধি, জনপ্রিয়তা ও অপরূপ অভিনয়শৈলীতে ভরা ছয় দশকেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ার। তাঁর টগবগে পৌরুষ, অনায়াস আকর্ষণ, এবং মমতায় ভরা ব্যক্তিত্ব তাঁকে এনে দেয় “হি-ম্যান অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা” খেতাব।
প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করা এক ক্যারিয়ার
ধর্মেন্দ্রর অভিনয়জীবন যেন হিন্দি চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের এক জীবন্ত ইতিহাস।
Phool Aur Patthar (১৯৬৬), Satyakam (১৯৬৯), Sholay (১৯৭৫) তাঁর শক্তিশালী ও গভীর অভিনয়ের মাইলফলক।
পরবর্তী সময়েও তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করতে থাকেন—
Pyaar Kiya To Darna Kya (১৯৯৮),
Life in a… Metro (২০০৭),
Yamla Pagla Deewana (২০১১)—
প্রতিটি চরিত্রে তিনি এনেছেন মানবিকতা, হাস্যরস ও হৃদয়ের স্পর্শ।
সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্প বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে—কিন্তু ধর্মেন্দ্রর আবেদন কখনও কমেনি। ২০২৩ সালে তিনি আবার বড় পর্দায় ফিরেছিলেন করণ জোহরের Rocky Aur Rani Kii Prem Kahaani ছবিতে। ২০২৪ সালে তিনি অভিনয় করেন Teri Baaton Mein Aisa Uljha Jiya ছবিতেও। এ থেকেই বোঝা যায়—প্রবীণ বয়সেও তাঁর তারকা-জ্যোতি ছিল অক্ষয়।
পর্দার বাইরের মানুষটি
রুক্ষ সৌন্দর্য, দৃঢ় অভিনয় আর স্ক্রিন উপস্থিতির বাইরে—মানুষ হিসেবে ধর্মেন্দ্র ছিলেন আরও অসাধারণ।
যারা তাঁকে কাছ থেকে চিনতেন, তারা জানেন—
- তিনি ছিলেন অবিশ্বাস্যভাবে বিনয়ী,
- শীতল-স্নেহশীল,
- উদারচিত্ত,
- এবং মানুষের ভালোর জন্য আন্তরিকভাবে নিবেদিত।
চরম জনপ্রিয়তার মাঝেও তিনি কখনও অহংকারী হননি—এই বৈশিষ্ট্য তাঁকে ইন্ডাস্ট্রির সবার কাছেই অনন্য করে তোলে।
১৯৯৭ সালে তিনি ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পান—তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পুরস্কার ছিল লক্ষ লক্ষ ভক্তের অকৃত্রিম ভালোবাসা।
ব্যক্তিগত জীবনও ছিল নাটকীয়—
১৯৫৪ সালে প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন, তাঁদের চার সন্তান—সানি, ববি, অজীতা ও বিজেতা।
১৯৮০ সালে অভিনেত্রী হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বিবাহ; তাঁদের দুই মেয়ে—ঈশা ও অহনা।
শেষ অধ্যায়
২০২৫ সালের নভেম্বরের শুরুতে তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। পরিবার ভুল তথ্য ছড়ানো সংবাদমাধ্যমকে তীব্র নিন্দা জানালেও শেষ পর্যন্ত নভেম্বরেই সত্য খবরটি নিশ্চিত হয়। করণ জোহর এক আবেগঘন বার্তায় লিখেন—
“এক যুগের অবসান। ভারতীয় সিনেমা যাকে নতুনভাবে নায়কত্বের সংজ্ঞা দিয়েছিল—
সেই মহাতারকা আজ নেই। অপরূপ সুদর্শন, সীমাহীন দয়ালু, এবং গভীর মানবিক।
চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর জ্যোতি চিরকাল অম্লান থাকবে।”
দাহক্রিয়ায় বলিউডের অসংখ্য তারকা—অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, অভিষেক বচ্চন, কাজল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কাজল বলেন—
“আজ পৃথিবী একটু দরিদ্র হয়ে গেল। সত্যিকারের ভদ্রলোকটি আর নেই।”
অজয় দেবগন লিখেন—
“তাঁর উষ্ণতা ও উদারতা প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। শান্তিতে থাকুন, ধর্মজি।”
চিরন্তন উত্তরাধিকার
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণ শুধু একজন অভিনেতার বিদায় নয়—এটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক সুবর্ণ অধ্যায়ের ইতি। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন ভারতীয় নায়কত্বের প্রতীক—
শক্তিশালী, কিন্তু সংবেদনশীল;
স্টাইলিশ, তবু গভীর মানবিক।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মুক্তি পেতে যাওয়া তাঁর শেষ ছবি Ikkis হবে ভক্তদের জন্য তাঁর শেষ উপহার।
Acting Gurukul, GOLN–এর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি
Acting Gurukul, GOLN–এর পক্ষ থেকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ধর্মেন্দ্রকে—
এক চিরন্তন শিল্পী, এক সাংস্কৃতিক আইকন,
অভিনয়জগতের সেই আলোকস্তম্ভ, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখিয়ে গেছেন।
ধর্মেন্দ্র শুধুই একজন অভিনেতা নন—
তিনি ছিলেন মানবিকতা, শক্তি ও সৌন্দর্যের অনন্য বিদ্যালয়।
দক্ষ, আন্তরিক ও সত্যবাদী অভিনয়ের যে দর্শন Acting Gurukul শেখায়—তার বাস্তব প্রতীক ছিলেন ধর্মেন্দ্র।
“দিগন্তে সূর্যাস্ত হয়, কিন্তু আলো থেকে যায়;
কিংবদন্তিরা কখনও চলে যান না—তারা কেবল পর্দা থেকে উঠে বসতি গড়েন আমাদের আত্মায়।”
তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।
ধর্মেন্দ্রজি—আপনার আলো ভারতীয় সিনেমাকে চিরদিন পথ দেখাবে।
Issued by:
Acting Gurukul, GOLN
Gurukul Online Learning Network (GOLN)**
