অভিনেত্রী পল্লবী দে’র মৃত্যুকে ঘিরে চলমান মামলায় নতুন মোড় নিল আদালতের শুনানিতে। আলিপুর আদালতে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) মামলার শুনানিতে পল্লবীর মৃত্যু প্রসঙ্গে উঠে আসে বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের নাম। সাগ্নিক চক্রবর্তীর আইনজীবী সুব্রত সর্দার, তাঁর জামিনের আবেদন জানাতে গিয়ে সুশান্তের মামলার উদাহরণ টেনে আনেন।

সুব্রত সর্দার বলেন, “যেভাবে সুশান্তের মৃত্যু প্রথমে সন্দেহজনক ছিল এবং তদন্তে বহুজনের নাম জড়িয়েছিল, পরে জানা যায় সেটি আত্মহত্যার ঘটনা ছিল। পল্লবীর মৃত্যুতেও একইভাবে ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। তাহলে সাগ্নিক কেন জামিন পাবেন না?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাগ্নিক ইতিমধ্যেই ১৯২ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে ছিলেন, এবং নতুন কোনও তথ্য তদন্তে উঠে আসেনি।

অন্যদিকে, পল্লবীর আইনজীবী বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় আদালতে সাফ জানান, এটি একটি খুনের মামলা। তিনি দাবি করেন, পল্লবীকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে তাঁর অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পল্লবীর ও সাগ্নিকের আর্থিক লেনদেন, নিউটাউনের একটি ব্যয়বহুল ফ্ল্যাট বুকিং এবং ফিক্সড ডিপোজিট মিলিয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মামলার তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, এবং আরও এক সন্দেহভাজন অভিযুক্ত এখনো পলাতক, যিনি হলেন ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায়—পল্লবী ও সাগ্নিকের ‘কমন ফ্রেন্ড’।

পল্লবীর পরিবার অভিযোগ করেছে, সাগ্নিকের আয়ের তুলনায় তাঁর সম্পদ অনেক বেশি, যা পল্লবীর অর্থ থেকেই এসেছে। ১৫ মে গড়ফার গাঙ্গুলিপুকুরের ফ্ল্যাট থেকে পল্লবীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিছানার চাদর দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে।
আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর, সাগ্নিককে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত পুনরায় পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সাগ্নিকের জামিন দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না।

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত ২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বাইয়ের বান্দ্রার নিজের ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। শুরুতে তার মৃত্যু ঘিরে আত্মহত্যা ও মাদক সংক্রান্ত তদন্তে বলিউডের একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীর নাম উঠে এসেছিল। শেষ পর্যন্ত, আইনি প্রক্রিয়ায় আত্মহত্যার দিকেই ইঙ্গিত মেলে। এই উদাহরণ পল্লবীর মামলায় তুলে ধরায়, আদালতের মনোযোগ তদন্তের গভীরতা ও বাস্তবতায় নিবদ্ধ হয়েছে।
