রোজী আফসারী, জন্মনাম শামীমা আক্তার রোজী, ১৯৪৬ সালের ২৩ এপ্রিল নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহী ছিলেন, যা পরবর্তীতে তার অভিনয় জীবনে প্রতিফলিত হয়।

চলচ্চিত্রে অভিষেক ও কর্মজীবন
রোজী আফসারী ১৯৬৪ সালে জিল্লুর রহিম পরিচালিত ‘এইতো জীবন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন। একই বছরে তিনি জহির রায়হান পরিচালিত ‘সঙ্গম’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম রঙিন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত।
পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি ‘একালের রূপকথা’ (১৯৬৫), ‘রাজা সন্ন্যাসী’ (১৯৬৬), ‘এতটুকু আশা’ (১৯৬৮), ‘চোরাবালি’ (১৯৬৮), ‘চেনা অচেনা’ (১৯৬৮), ‘রাখাল বন্ধু’ (১৯৬৮), ‘প্রতিকার’ (১৯৬৯), ‘বেদের মেয়ে’ (১৯৬৯), ‘আলোর পিপাসা’ (১৯৬৯), ‘নীল আকাশের নীচে’ (১৯৬৯), ও ‘জোয়ার ভাটা’ (১৯৬৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
১৯৭০-এর দশকে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০), ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (১৯৭৩), ‘সূর্য সংগ্রাম’ (১৯৭৪), ‘সূর্য গ্রহণ’ (১৯৭৬), ‘অশিক্ষিত’ (১৯৭৮), ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮), ও ‘এই ঘর এই সংসার’ (১৯৯৬)।

পুরস্কার ও সম্মাননা
রোজী আফসারী তার অভিনয়ের জন্য বহু পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ১৯৭৫ সালে ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি বাচসাস পুরস্কার, জহির রায়হান পদক ও নিগার পুরস্কার অর্জন করেন।
ব্যক্তিগত জীবন
রোজী আফসারী প্রথমে চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুস সামাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা মালেক আফসারীর সাথে বিবাহ করেন এবং তার নাম পরিবর্তন করে রোজী আফসারী রাখেন।

রোজীর ব্যক্তিগত জীবন:
রোজী ১৯৮৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা মালেক আফসারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৭ সালের ৯ মার্চ কিডনিজনিত রোগে ৫৭ বছর বয়সে রোজী মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
রোজী আফসারী ২০০৭ সালের ৯ মার্চ ঢাকার বারডেম হাসপাতালে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়। তার সম্মানে ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল গুগল তার ৭৩তম জন্মদিনে বিশেষ ডুডল প্রদর্শন করে।

রোজী আফসারী ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার অবদান আজও দর্শকদের হৃদয়ে জীবিত। তার অভিনয়শৈলী ও প্রতিভা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
