থিয়েটার পত্রিকা , নাট্যপত্র – আশিস গোস্বামী

থিয়েটার পত্রিকা , নাট্যপত্র [ আশিস গোস্বামী ] ‘থিয়েটার’—এই নাট্য পাক্ষিকের প্রথম প্রকাশ ১৫ জুন ১৯৬৬। এবং শেষতম সংখ্যাটি ১ মে ১৯৬৭-তে প্রকাশিত হয়। এই সময়কালের মধ্যে পত্রিকাটির কুড়িটি সাধারণ সংখ্যা এবং একটি শারদীয় সংখ্যা মিলে মোট একুশটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

আশিস গোস্বামী [ Ashish Goswami ] থিয়েটার পত্রিকা , নাট্যপত্র - আশিস গোস্বামী
আশিস গোস্বামী [ Ashish Goswami ]
এই স্বল্প স্থায়িত্বের মধ্যেই পত্রিকাটি এখনও পর্যন্ত বিশেষত্বের দাবিদার হয়ে আছে, এর আগে বহুরূপী, গন্ধর্ব-র মতো নাট্যপত্র প্রকাশিত হয়ে গেছে। সেগুলিও নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছিল; তার মধ্যে ‘থিয়েটার’ পত্রিকাটিও অতি অল্প সময়েই সুদূর পথপ্রদর্শক হয়ে উঠতে পেরেছিল। প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যায় ‘পূর্বরঙ্গ’ শিরোনামের সম্পাদকীয় নিবন্ধে লেখা হল—“নাটকে পাক্ষিক কেন?

বাংলা নাট্য আন্দোলনের বিষয়ে অন্য যে সব মাসিক, ত্রৈমাসিক বা ষাণ্মাসিক পত্র পত্রিকা আছে তাদের সঙ্গে ‘থিয়েটার’-এর তফাত কোথায় ? এই সব প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই স্বীকার করে নেওয়া ভালো যে, একটা স্পষ্ট তফাত তৈরি করার জন্য আমরা খুব ব্যস্ত নই। উদ্দেশ্য সকলেরই এক, প্রযত্ন সকলেরই আছে। তবু পাক্ষিক হিসেবে ‘থিয়েটার’-এর প্রকাশের মূলে আমাদের একটি সজ্ঞান পরিকল্পনা আছে।…

আমাদের পত্রিকার একটি বিভাগের নাম থাকছে ‘সর্বতোভদ্র’। আমাদের পত্রিকার ভিতরকার কথাও তাই। জানিই তো, বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে শিল্পের আদর্শ, বক্তব্য বা রূপের ভিন্নতা নিয়ে কিছু বিরোধ আছে। এই বিরোধ একদিক থেকে দারুণ স্বাস্থ্যকর। কে বলতে পারে যে, শিল্পের সিদ্ধান্ত একটি মাত্র, তার একটি মাত্রই নির্ভুল ধ্রুব চেহারা? কে বলতে পারে যে, একদল যত আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান, অন্যদল তত নয়।

নাটকের মতো একটি সচল, উন্মত্তরূপে বেগবান শিল্পের একটি মাত্র অনিবার্য গাণিতিক প্রকরণ আছে কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। অথচ বিচিত্র অবস্থা এই যে, ঐ বিরোধে যাঁরা জড়িত, তাঁদের সব পক্ষের নাটকই আমাদের কম বেশি ভালো লাগে, কারো পরিশীলিত প্রখর সৌন্দর্য, কারো ভীষণ দুর্দান্ত তেজ, কারো অভিনব পরীক্ষার স্পর্ধা, কারো বহু বাধার সঙ্গে নিয়ত লড়াই করে যাওয়া। এই পত্রিকা তাঁদের সকলকেই আমন্ত্রণ করুক না।

সম্ভবত একটি জায়গায় সকলেরই মিল আছে—নাটকের মধ্য দিয়ে সকলেই মানুষের কাছেই পৌঁছুতে চান। তাই যদি হয়, তবে আলোচনায় বা তত্ত্বের ক্ষেত্রেই কি কেবল বিরোধ থাকবে? এক সঙ্গে দাঁড়ানোর মতো সামান্য একটু শক্ত জমির সন্ধান করবার কোনো তাগিদই কি থাকবে না? সশ্রদ্ধভাবে ঐ জমিটুকুর সন্ধান করাই ‘থিয়েটার’-এর লক্ষ্য।”

এই লক্ষ্যেই থিয়েটারের পাতায় কোনো নাটকের সমালোচনা প্রকাশিত হলে তার পরবর্তী সংখ্যায় সেই নাটকের নাট্যকার বা পরিচালক এমনকি সাধারণ দর্শকের মতামতকেও যথেষ্ট গুরুত্ব সহ প্রকাশ করা হত। প্রথম থেকেই নাট্য সমালোচনার ওপর জোর দেয়া হচ্ছিল। সেই কারণে উপযুক্ত মানুষদের দিয়ে সমালোচনাগুলি লেখানোও হত। প্রথম সংখ্যাতেই অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত ‘বহুরূপী’ প্রযোজিত ‘রাজা’ নাটকের সমালোচনা লেখেন, ‘ঘর কৈনু বাহির বাহির কৈনু ঘর’ শিরোনামে।

এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী দুটি সংখ্যায় আরও দুটি আলোচনা প্রকাশিত হয়। ‘আঁধার ঘরের রাজা’—প্রেক্ষক, (প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা) ও নাট্যবিচার প্রসঙ্গে ‘ঘরে-বাইরে ও রাজা’—– ধ্রুব গুপ্ত (প্রথম বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা) এই আলোচনা দুটি করেন। তবে এই পত্রিকার আরও একটি সফল ইতিহাস হল সে নাট্যচর্চার বিশেষ এক সময়কে আলোচনা যোগ্য করে তুলেছিল।

বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে এই সময়ে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল কিমিতিবাদী নাটক নিয়ে। নাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের দুটি কিমিতিবাদী নাটক ‘মৃত্যু-সংবাদ’ এবং ‘নীলরঙের ঘোড়া’ নাটক দুটির সমালোচনা এই পত্রিকার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। কিমিতিবাদী নাটকগুলি বাংলায় নতুন আমদানি এবং দর্শক-সমালোচকেরা

তাকে পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারছেন না অথবা প্রযোজনার মধ্যেই থেকে যাচ্ছে এক ধরনের দূরত্ব—যে সীমা লঙ্ঘন করতে পারছেন না নাট্যকার-পরিচালক কিংবা দর্শক সমালোচক। প্রথম বর্ষ চতুর্থ সংখ্যায় (১ আগস্ট ১৯৬৬) নক্ষত্র গোষ্ঠীর প্রযোজিত ‘মৃত্যু-সংবাদ’ নাটকের সমালোচনায় শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন, “প্রচুর বেলুন বুকে ঝুলিয়ে মৃত্যু সংবাদের সুবোধ চরিত্রটি যখন মঞ্চে আসছে, দর্শক হিসেবে কয়েকটি ক্রমিক অস্বস্তি তখন মনে মনে তৈরি হতে পারে।

অভিনেতা ঐ টলমলে ছোট্ট পরিসর দিয়ে ঠিকমতো ঢুকতে পারবেন তো। অতো বেলুন সুদ্ধ? কিন্তু রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় চমৎকার চলে এলেন, পরের দৃশ্যে দেখা যাবে তারও চেয়ে নিপুণভাবে স্পোর্টস বিজয়ী নায়ককে কাঁধে বয়ে আনছে বড়ো সড়ো এক যুবাদল। দ্বিতীয় ভাবনা, ওগুলি এখন কোন কাজে লাগাবেন পরিচালক।

নীরেনকাকুর অনারব্ধ মিশন বিষয়ে তাঁর গম্ভীর উচ্চাশা উচ্চারিত হবার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল শব্দে ফেটে যায় নানা রঙের সবকটি বেলুন, অতএব একটা উত্তর পাওয়া গেল। কিন্তু এ উত্তর মূল নাটকের কোন কাজে লাগল? তখন দেখা দেয় তিন নম্বর সমস্যা : নাট্যকার যে একটি একটি করে বেলুন ফাটানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন তাঁর নায়ককে দিয়ে তার সঙ্গে এই দৃশ্যরূপের সংগতি তৈরি হবে তো?

নক্ষত্র গোষ্ঠীর ‘মৃত্যু-সংবাদ’ অভিনয় শেষ পর্যন্ত এই সংগতির দুর্ভাবনাকে ভিতর থেকে টানতে থাকে বলে মনে হয়। এখানে আছে নাটকের আভ্যন্তরীণ সংগতির সমস্যা। এবং সেই কারণেই হয়তো, নাটকের সঙ্গে অভিনয় ঈষৎ ব্যবধানের সমস্যা। একে বলা হয়েছে কিমিতিনাট্য বা অ্যাবসার্ড ড্রামা। অতএব ‘সংগতি’ কথাটিকে আর পাঁচটা নাটকের অর্থে নিশ্চয় ভাবব না। বরং সেই অর্থে ‘মৃত্যু-সংবাদে’র রচনা পরিচালনা আর অভিনয়ে স্বাভাবিকতার চেহারাই বেশি।

এতোটাই কেন বেশি, এইটেই বরং অভিযোগ হতে পারে। কখনো কখনো। ঘটনায় কয়েকটি চমকপ্রদ মুহূর্ত থাকলেও সত্যিকারের অবিশ্বাস্যতা নেই, কাহিনীর নির্মাণ এবং বিন্যাসে (রচনা/পরিচালনায়) একটি সুডৌল ভঙ্গি রাখা আছে, চরিত্রগুলিও যশই স্বাভাবিক। নাট্যকারের একটি রচনা থেকে জানতে পারছি এসব তার স্বেচ্ছাপ্রণোদিত। কিন্তু কেন? কেন এই ইচ্ছে? যদি এই নাট্যগোষ্ঠী প্রথম বাঙলা অ্যাবসার্ডের কথাই ভাবছিলেন, তাহলে কেন তাঁরা আরও একটু ভেঙে দিলেন না চরিত্র নির্মাণ রীতি, অভিনয় রীতি?”

এই সমালোচনা নিয়ে নাট্যকার বা অন্য কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেননি। প্রথম বর্ষ পঞ্চম সংখ্যায় প্রকাশিত (১৫ আগস্ট ১৯৬৬-তে প্রকাশিত কিন্তু নিত্যপ্রিয় ঘোষের নীল রঙের ঘোড়া’ প্রযোজনাটির সমালোচনার উত্তর দিয়েছিলেন নাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়। এই সমালোচনা ও উত্তরের বিষয়টি বাংলা নাটক সমালোচনার ক্ষেত্রে অভিনব। তাই দুটি আলোচনাই উল্লেখ করা হল।

“নাটকটির প্লট নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন আছে। প্রথম প্রশ্ন নীল রঙের ঘোড়া নাটকে এর দাম কতটুকু? ভদ্রলোক চরম জিতছেন নিছক বাচ্চার দৌলতে। তিনি প্রায়ই নীল রঙের ঘোড়ার স্বপ্ন দেখেন এবং শুক্রবার তার টকাটক খুরের আওয়াজ পান। কিন্তু তাতে কিছু এসে যেত না, যদি না বাচ্চাটি সময় মতো আসত। সুতরাং নাটকের অন্তিম দৃশ্যে যখন নীল রঙের ঘোড়াটি খোয়া গেল, তখন তাঁর আর্তনাদ আমাদের বিশেষ বিচলিত করতে পারে না।

নীল রঙের ঘোড়ার চাইতে আমাদের কাছে বাচ্চাটির দামই বেশি এবং বাচ্চাটি যখন শেষ কাগজটি দিল তখনই আমাদের, দর্শকদের উঠে পড়া উচিত ছিল। নীল রঙের ঘোড়ার কথা ভদ্রলোকটি বারকয়েক বলেছেন বটে, কিন্তু সে বিষয়ে আমাদের কোনো উৎসাহ হয়নি। এবং শেষ বিলাপ, A horse, a horse my kingdom for a horse.’ আমাদের কাছে নিরর্থক তো বটেই, হাস্যকরও লেগেছিল।

তাঁর রাজ্য কেন, জীবনও তো গেছে এবং সে বিষয়ে তিনি অবহিত, এবং তৈরিও, সেক্ষেত্রে নীল রঙের ঘোড়া নিয়ে তিনি কোন রাজ্য জয় করতে চান? এবং ইংরেজি ইতিহাস ও সাহিত্যের এই উক্তিটি আওড়ানোর জন্যে যে কণাটুকু অনুকম্পা মোহিতবাবুর গল্পের প্রতি অবশিষ্ট ছিল, সেটা টিকিয়ে রাখাও দুষ্কর হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন, ভদ্রলোকের আত্মা। নাটকে এর সঙ্গতি কোথায়? …. আত্মাকে দিয়ে মোহিতবাবু কী কী বলতে চেয়েছেন, পরিষ্কার হল না। বরং তাসের মালা গলায় দিয়ে হ্যা হ্যা করে মধ্যে মধ্যে হেসে, গলা কাঁপিয়ে দুয়েকটি কবিতা কবিতা বাক্য আউড়ে আত্মাটি দস্তুর মতো অস্বস্তিতেই ফেলেছিলেন।

তৃতীয়ত, ভদ্রলোকের দুই পুরোনো প্রেয়সী। গল্পে তাঁদের সংগতি কোথায়? রেসের মাঠে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে ভদ্রলোকের মনে প্রচুর দ্বিধা এবং নাটকে এই রেসের মাঠটিই প্রধান অবলম্বন। সেক্ষেত্রে ভদ্রলোকের প্রাচীন প্রেমকথা অত্যন্ত অবান্তর। এবং অবাত্তর অংশ স্রেফ থিয়েটারির জোরে উৎরোতে পারত, যদি ওই দুই চরিত্রের অভিনেত্রীদ্বয়ের বাচনভঙ্গি, চেহারা, চলন বলন বিন্দুমাত্র আকর্ষক হত।

উদ্ভট নাটক, যাকে মোহিতবাবু কিমিতিবাদী আখ্যা দিয়েছেন; মানে এই হয় যে আখ্যান বস্তুর অভিনেতাদের বিচিত্র সাজসজ্জায় বিচিত্র অঙ্গভঙ্গিতে বিচিত্র মুদ্ৰায় অভিনয় করতে হবে। মোহিতবাবু শুনলে দুঃখিত হবেন, তার ‘নীল রঙের ঘোড়া’র যেটুকু কিমিতিবাদী নয়, সেইটুকু শুধু দুঃসহ নয়, তার কারণ হয়ত সেই অংশের অভিনেতৃবর্গের সহজ সাবলীল অভিনয়।…

এই রচনায় কিছু মাস্টারিয়ানার ছাপ পড়ে গেল, তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ মোহিতবাবুর এবং চতুর্মুখের, কারণ তাঁরাই এই সুযোগ দিয়েছেন। অসীম চক্রবর্তী সম্পর্কে ভালো ধারণাই হত কিন্তু তিনি কী ভেবে কিসের আশায় ‘নীল রঙের ঘোড়া’ মঞ্চস্থ করার উৎসাহ পেলেন তা কল্পনার বাইরে।

এই নাটকের অভিনয়ের সময় স্টেজে যে ঢিল পড়ে না তার একমাত্র কারণ কলকাতার কিছু লোকের ধারণা হয়েছে, বাংলাদেশে ভালো নাটক নেই, ভালো নাটক হয় না, সুতরাং সাপ ব্যাং যা কিছু হোক মঞ্চস্থ হলেই তাকে নিঃশব্দে Patronise করে যাওয়াই চরম দেশপ্রেম। নাহলে নাটকের প্রথম দৃশ্যেই যেখানে আগডুম বাগডুম স্টেজ সাজিয়ে, কতকগুলো তাসের মালা পরে ক্ষুদ্র স্টেজের ক্ষুদ্রতম অংশে ক্রিকেট খেলার নকশা করে, মোহিতবাবু বলেছেন, দ্যাখ দ্যাখ কুড়ি বছর দূর থেকে বল আসছে, সেখানেই মুক্ত অঙ্গন শূন্য হয়ে যেত। “(থিয়েটার : প্রথম বর্ষ পঞ্চম সংখ্যা, ১৫ জুন ১৯৬৬)

সমালোচনাটি তীব্রভাবে আক্রমণাত্মক, সমালোচকের এই আক্রমণকারী ভূমিকাটি কতখানি সঠিক তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু বাংলা নাট্যে নতুন করে। আমদানীকৃত ‘কিমিতাবাদী’ থিয়েটার প্রবলভাবে ধাক্কা খেয়েছিল। শঙ্খ ঘোষ আক্রমণ করেন নি কিন্তু প্রশ্ন তুলেছেন, নিত্যপ্রিয় ঘোষ আক্রমণ করলেন। এর ফল স্বরূপ নাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায় সমালোচনার সমালোচনা করলেন বেশ রুষ্ট ভঙ্গীতেই। থিয়েটারের প্রথম বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যায় (১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬)

“পঞ্চম সংখ্যা “থিয়েটারে নীল রঙের ঘোড়া নাটকটির নিত্যপ্রিয় ঘোষ কৃত সমালোচনা পড়ে সর্বসময়ে মনে হল, নাটকটি লিখে আমি কি নিন্দনীয় অপরাধ করেছি। নাটকে চিন্তার গুরুত্ব, সাহিত্যের লাবণ্য এবং নব্য রীতির চারুত্ব আসুক—এই পিপাসা থেকে কয়েকটি রচনার প্রয়াস করেছিলাম। সার্থকতার জয়নিনাদে নিজের ধৃষ্টতা প্রকাশ করতে চাইনি কখনো, তবে এই প্রচেষ্টার মূল্য কিছু নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু নিত্যপ্রিয় বাবু কোন প্রকার মূল্য স্বীকারেই নারাজ। অসম্মানসূচক কণ্ঠস্বর, তরল ও অমার্জিত বিদ্রুপ এবং মূল নাটক সম্পর্কে তাঁর অমনোযোগী মন্তব্যে সমস্ত আলোচনাটি ঘোলাটে কোলাহলে অস্বস্তিকর।

সমালোচক যদি নিজ চরিত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে শিক্ষক হয়ে উঠতে চান তাহলে তাঁর সমালোচনা কিংবা শিক্ষকতা কোনটাই হয়ে ওঠে না, বিশেষ করে শিক্ষকের পদবী যদি আত্মঘোষিত অনর্থক প্রলোভন থেকে আসে।… শিক্ষকতা গ্রহণে আমার বিন্দুমাত্র দ্বিধা ঘটতো না যদি তিনি প্রকৃতই নাটকটির গঠন ও ভাববৃত্ত সম্পর্কে সুচিন্তিত উন্নয়ণমূলক এবং যথার্থ ত্রুটি নির্দেশিত বক্তব্য রাখতেন। অন্যথায় পণ্ডিতমন্য শিক্ষকের শিষ্যত্ব গ্রহণে পরাম্মুখ হলে আমার পক্ষে সম্ভবত সুবিবেচনাই হবে।

মুক্তঅঙ্গন মঞ্চে যে দর্শক সমাজ এই নাটক দেখেছেন, তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধেয় কটাক্ষ করে সমালোচক এক জাতীয় দর্পিত সাহসীর মুকুট পরতে চেয়েছেন বলে মনে হোল।… নির্দোষ শ্রদ্ধেয় দর্শক সমাজের প্রতি এই অসৌজন্যমূলক কটাক্ষ এবং মঞ্চে অভিনয় কালে ঢিল ছুঁড়ে তা বন্ধ করে দেবার নির্বিবেক এবং মুঢ় প্রস্তাব কি দুঃসাহসে একজন সমালোচক লিখতে পারেন এবং একটি অভিজাত পত্রিকা নিৰ্দ্ধিতায় তা প্রকাশে পরাখে না হন ব্যক্তিগত ভাবে তা আমি ভাবতে পারি না।

সম্ভবত বাংলাদেশের পত্রিকায় এ জাতীয় অশোভন দৃষ্টান্ত এই প্রথম। নাটকটি সম্পর্কে সমালোচকের বিরূপতা এমন একটা উৎকট ও অসহিষ্ণু ক্রুদ্ধতায় আবর্তিত হয়েছে যে নিত্যপ্রিয় বাবু নাট্যকারকে নিন্দিত করে, দর্শকদের বিদ্রুপ করেও স্বস্তি পাননি। প্রযোজক-পরিচালক অসীম চক্রবর্তীকেও উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘অসীম চক্রবর্তী সম্পর্কে ভালো ধারণাই হোত কিন্তু কীভাবে কিসের আশায় ‘নীল রঙের ঘোড়া’ মঞ্চস্থ করার উৎসাহ পেলেন কল্পনার বাইরে’। অসীম বাবুর ব্যক্তিগত উৎসাহের বিচারক পর্যন্ত যদি সমালোচক হতে চান, তা হলে কোথায় যেন সীমা লঙ্ঘনের অপরাধ লক্ষ্য গোচর হয়।

নীলরঙের ঘোড়ার গল্পগত একটি কাঠামো সমালোচক সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু কাহিনীর মূল বক্তব্য বিন্দুমাত্র পাঠকদের কাছে পরিবেশন না করে গল্পে যে বিভ্রান্ত রূপটি তিনি উপস্থিত করেছেন তাতে একজন চরম খেলোয়াড়ের মনস্তাত্ত্বিক আবর্তই প্রধান হয়ে উঠেছে।

যে নাটকে লেখকের একটি বিশেষ ‘আইডিয়া’ প্রকাশের চেষ্টাই মুখ্য এবং উপলক্ষ্য স্বরূপ একটি গল্পের অনুকূল নির্ভরতা মাত্র দরকার সেখানে সমালোচক যদি বক্তব্যের তাৎপর্য বিন্দুমাত্র অনুধাবনে কিংবা বিচারে অগ্রসর না হন তাহলে বেদনাজনক বিস্ময় ছাড়া পথ নেই।

সোমনাথের জীবনের স্বপ্ন প্রেম ও স্পন্দন ‘নীল রঙের ঘোড়া’র প্রতীকে উচ্চারিত হতে চেয়েছে। … কিন্তু বর্তমান সমালোচক রেসের আপাত গল্পটির বাইরে কিছু ভাবতেই নারাজ। তাই বলেন…. ‘নাটকে রেসের মাঠটিই প্রধান অবলম্বন। সেক্ষেত্রে ভদ্রলোকের প্রাচীন প্রেমকথা অবান্তর। সমালোচক যদি নাটকের মূল বক্তব্যে একটু মনোযোগী হতেন এবং মুদ্রিত নাটকটির মূল পাঠটি একবার দেখে নেবার প্রয়োজনীয় পরিশ্রমে ঘর্মাক্ত বোধ না করতেন তাহলে বিচারের ভাষা হয়ত পরিবর্তিত হত।”

মূল নাট্য সমালোচনার সঙ্গে নাট্যকারের এই বক্তব্য পাশাপাশি থাকায় দর্শক এবং পাঠক হিসেবে ঋদ্ধ হবার সুযোগ মেলে। “থিয়েটার’ পত্রিকা এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি শুরু করেছিলেন। কেবলমাত্র নাট্য সমালোচক-নাট্যকার-পরিচালকদের মতামতই তাঁরা প্রকাশ করে ক্ষান্ত হননি, সেই সঙ্গে নাট্যদর্শকদের আলোচনাও প্রকাশিত করেন। ‘নীলরঙের ঘোড়া’ নাটকেরই বিভিন্ন দর্শকদের-আলোচনা প্রকাশিত হয়েছিল।

উদাহরণ হিসেবে প্রথম বর্ষ সপ্তম সংখ্যায় প্রকাশিত একটি আলোচনা এখানে তুলে ধরা হল, “নিত্যপ্রিয় বাবু, নাটকের যে বিচার করেছেন, তাতে আমার অবাক না হয়ে সত্যিই কোনো উপায় নেই। ‘এই গল্প মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের নীল রঙের ঘোড়া নাটকের কাঠামো’ বলে তিনি যে গল্পটি উপস্থাপিত করেছেন, সেটা আসলে বর্তমান নাটকের গল্পই নয়।

প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দ্বিব্যক্তিত্ব, পরিভাষায় যাকে বলে Dual personality বা split self কাজ করে— একটি জাগ্রত রূপ, অপরটি সুপ্ত রূপ। জাগ্রত রূপ পরিগ্রহ করে চেতন মনে (Conscious mind) সুপ্ত রূপ পরিগ্রহ করে অবচেতন মনে (Sub conscious mind) বর্তমান নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সোমনাথের এই চেতন এবং অবচেতন মনকে দুটি স্বতন্ত্র বস্তুর মত পৃথক পৃথক ভাবে উপলব্ধি করার দৃশ্য—একথা নিত্যপ্রিয় বাবুর বোঝা উচিত ছিল এবং বুঝলেও তা লেখাও উচিত ছিল।

এখানে নীল রঙের ঘোড়া অবশ্যই রেসের মাঠের কোন ঘোড়া নয়—এ ঘোড়া জীবনের যাবতীয় সুস্থ আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিমূর্তি এবং প্রৌঢ় ভদ্রলোক নায়ক সোমনাথের অবচেতন মনের প্রলম্ব বা অবচেতন সত্তার শরীরীরূপ।… স্থূল অস্তিত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ সোমনাথ পিছনে পড়ে থাকে, আর তার পলায়নাকাগুফী ক্লান্ত কল্পনাপ্রবণ সূক্ষ্ম আত্মা প্রৌঢ়ের মধ্যে সংবাহিত হয়ে পালিয়ে যায়। সোমনাথ চিৎকার করে ওঠে ‘আমার আত্মা আমার নীলরঙের ঘোড়ায় চেপে পালাচ্ছে। আমি যাব কি করে? মাই ব্লু হর্স, এ হর্স, এ হর্স, মাই কিংডম ফর এ হর্স।’

একটু বিশ্লেষণী মন নিয়ে নিত্যপ্রিয় বাবু নাটকটির সমালোচনা করতে বসলে স্বভাবতই নায়কের এই শেষ আর্ত চিৎকারকে তাঁর বিলাপ বলে মনে হত না। কোন রকম বিশ্লেষণের ধার তো তিনি ধারেনই নি, বরং কতকগুলো দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে বিজ্ঞ সমালোচকদের ভূমিকা নিয়েছেন। অভিনয়ের সময় স্টেজে যদি ঢিল পড়ে তো তা নাটকের জন্য নয়, জোলো প্রযোজনার জন্যে।”

শেষের বাক্যটি অত্যন্ত জরুরি। নাটকের সমালোচনা মানে শুধু Text নয় প্রযোজনার সমালোচনা। সেই প্রযোজনা যদি ভালো লাগার জায়গায় পৌঁছোতে না পারে তাহলে অত্যন্ত ভালো Text-ও ভালো লাগবে না। নিত্যপ্রিয়বাবুর প্রযোজনাটি ভালো লাগেনি, জনৈক দর্শকের সমালোচনাতেও ওই এক কথা আছে এবং নাট্যকারও প্রযোজনা সম্পর্কিত মন্তব্যের কোনো বিরোধিতা করেননি।

সুতরাং ধরে নেওয়া যেতে পারে মূল নাটকের অনেক কথাই প্রযোজনার মাধ্যমে প্রকাশক্ষম হয়ে উঠতে পারেনি, যা নিত্যপ্রিয়বাবুর কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর বলে মনে হয়েছে। এইভাবে পারষ্পরিক মত বিনিময় ভবিষ্যৎ চিন্তাধারাকে যথেষ্ট প্রভাবিত করতে পারে, থিয়েটার’ পত্রিকা নাট্য সমালোচনার ক্ষেত্রে সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটি নিয়েছিল। ‘থিয়েটার’ পত্রিকার এটা যে একটা লক্ষ্য হিসেবেই ছিল তার প্রমাণ পাই প্রথম বর্ষ ১৫সংখ্যার ‘পূর্বরঙ্গ’ রচনায়

“…মাঝে মাঝে উড়ো কথা কানে আসে, অমুক লেখাটা অমুকের খারাপ লেগেছে, অমুককে বলেছেন, অথচ আমরা তো বারে বারেই বলেছি, যে কোনো মতান্তর বা প্রতিবাদ যুক্তিনিষ্ঠ হলেই আমরা তা প্রকাশে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে কেন এইসব খারাপ লাগার কথা কেবল হাওয়াতেই রটবে? ‘থিয়েটার’ প্রকাশের সূচনাতেই এই প্রত্যাশা ছিল।

আমরা লক্ষ্য করছিলাম বাংলা দেশের থিয়েটারে নতুন নাটক ও নতুন নাট্যরীতি, নতুন নাট্যচিন্তা ও পরীক্ষার বিপুল আয়োজনের অবশ্যম্ভাবী ফল স্বরূপ যে বিরোধের জন্ম হয়েছে, তা সুষ্ঠু প্রকাশের কোনো সুযোগ না থাকায় তা ক্রমেই রুচিবিকারের চোরাপথে প্রবেশ করে কুৎসিত বিকৃতির চেহারা নিচ্ছে। ‘থিয়েটার’-এর পাতায় ভদ্র সমাজের রুচি ও আচারের সীমার মধ্যে যে কোনো মতের প্রকাশ ঘটবে, তারপর অন্যমত আসবে, তর্ক চলবে, এতে সমগ্র পরিবেশটা স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে পারে।”

এই দৃষ্টিভঙ্গির ফসল হিসেবেই বহুরূপীর ‘রাজা’, নান্দীকারের ‘শের আফগান’, সম্পর্কে বহু আলোচনা হয়েছে এই পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যায়। প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যায় ‘আঁধার ঘরের রাজা’ শিরোনামে প্রথম রাজা নাটকের সমালোচনা করেন ‘প্রেক্ষক’ ছদ্মনামধারী সমালোচক। তারপরের সংখ্যায় ধ্রুব গুপ্তর লেখা ‘ঘরে বাইরে ও রাজা’ শিরোনামে প্রেক্ষকের মতামতের প্রতি কিছু মতান্তরের কথা লেখেন।

আবার প্রথম বর্ষ চতুর্থ সংখ্যায় ‘নাট্য বিচার প্রসঙ্গে রাজা’ শিরোনামে ধ্রুব গুপ্তর মতামতের প্রতি উত্তর দেন প্রথম সমালোচক ‘প্রেক্ষক’। পুনরায় প্রথম বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যায় প্রেক্ষকের উত্তর দেন ধ্রুব গুপ্ত। ‘শের আফগান’ সমালোচনা নিয়েও এ ধরনের বাদানুবাদ চলেছিল। এই নাটকের প্রথম সমালোচনা লেখেন অরুণ সেন প্রথম বর্ষ সপ্তম সংখ্যায়।

প্রথম বর্ষ একাদশ সংখ্যায় মিনু রায় এই সমালোচনা প্রসঙ্গে তার অভিমত জানান। এরপর, প্রথম বর্ষ দ্বাদশ সংখ্যায় জগন্নাথ গুহ; প্রথম বর্ষ চতুর্দশ সংখ্যায় বীরেন বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রথম বর্ষ অষ্টদশ সংখ্যায় তপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে নিজস্ব মতামত দেন।

এই প্রচেষ্টার পিছনে আরও একটা কারণ ছিল। প্রথম বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যায় সম্পাদকীয় ‘পূর্বরঙ্গ’ শিরোনামে সেই কারণের কথা বলা আছে— “স্বীকার করে নেওয়া ভালো, বাংলাদেশে নাট্য সমালোচনার কোনো মান আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই পত্রিকা প্রকাশের সময়ে এই ক্ষোভ আমরা অনুভব করেছিলাম। নাট্য দর্শকের মধ্যে যাদের মতামতে আমরা মুক্ত বুদ্ধি রসবোধের পরিচয় পেতে অভ্যস্ত, তাঁদেরই আমরা আহ্বান করেছিলাম, আমাদের পত্রিকায় নাট্য সমালোচনার দায়িত্ব পালনে।

আমরা স্থির করেছিলাম, প্রতি সংখ্যায় একটি মাত্র সম্প্রতি প্রযোজিত নাটকের সমালোচনা প্রকাশ করব, এই সমালোচনা যাতে নাটক ও প্রযোজনার পূর্ণাঙ্গ সুচিন্তিত যুক্তি নির্ভর বিশ্লেষণে প্রবেশ করে, সেদিকে লক্ষ্য থাকবে। এই সমালোচনার পরিপূরক বা পরিপন্থী যে কোনো সুচিন্তিত মতামত প্রকাশেও আমরা আগ্রহী। প্রকাশিত সমালোচনার সঙ্গে এইসব ভিন্ন মত যুক্ত হলে একটি প্রযোজনার সর্বাঙ্গীন মূল্যায়নের দিকে বোধ হয় অনেক দূরে এগোনো যায়।

সমালোচনায় সমালোচকের বিশেষ দৃষ্টিকোণের প্রকাশ ঘটবে, এটাই স্বাভাবিক; কখনও হয়তো ঝাঁঝও থাকতে পারে, উচ্ছ্বাসও লাগতে পারে। সমালোচকের এই স্বাধীনতা না মানলে সকলের মন রাখা জোলো কথার তোড়ে সমালোচনা বুদ্ধিহীন নির্জীব কঙ্কাল মাত্রে পরিণত হবে। আমরা তা ঘটতে দেব না। প্রত্যয়ের দৃঢ়তা বুদ্ধিবৃত্তির সজীবতারই পরিচয়।

তার প্রকাশ ঘটলে আমরা খুশী হব। আর মতান্তরের স্বাধীনতাও তো স্বীকৃত রইল ‘সর্বতো ভদ্র’-এর আলোচনায়।… সম্ভবত এ পথেই যথার্থ নাট্য সমালোচনার কতকগুলি নির্দিষ্ট সূত্র বেরিয়ে আসবে যেগুলিকে পরবর্তীকালে সমালোচকেরা তাদের রচনার ভিত্তিরূপে গ্রহণ করতে পারবে।”

এই মহৎ উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা তাঁরা করেছিলেন। তাই সেই সময়ের উল্লেখযোগ্য প্রযোজনাগুলির সমালোচনা কৃতি মানুষদের দিয়ে করাবার চেষ্টা করেছেন।

তাই উল্লেখিত আলোচনাগুলি ছাড়াও অজিষ্ণু ভট্টাচার্যের ‘বহুরূপী প্রযোজিত রাজা অয়াদিপাউস’ (প্রথম বর্ষ অষ্টম সংখ্যা) কেয়া চক্রবর্তীর ‘অচলায়তন’ (প্রথম বর্ষ অষ্টম সংখ্যা) ও ‘দাবী’ (প্রথম বর্ষ বিংশ সংখ্যা); ‘অজেয় ভিয়েতনাম’ (প্রথম বর্ষ নবম সংখ্যা) : প্রেক্ষকের আলোচিত চারটি সমালোচনা ‘অ্যান্টনি কবিয়াল’ (প্রথম বর্ষ দ্বাদশ সংখ্যা); ‘কৃষ্ণচূড়ার মৃত্যু’ (প্রথম বর্ষ ত্রয়োদশ সংখ্যা), বিশ্বরূপায় ‘জাগো’ (প্রথম বর্ষ ষষ্ঠদশ সংখ্যা) ‘থিয়েটার ওয়ার্কশপের ললিতা’ (প্রথম বর্ষ ঊনবিংশ সংখ্যা) ইত্যাদি সমালোচনাগুলি উল্লেখের দাবি রাখে।

পত্রিকাটি কুড়িটি সংখ্যা প্রকাশের পরই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তাঁরা যে কাজটি শুরু করেছিলেন তা দৃষ্টান্ত হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে থাকল ঠিকই কিন্তু কোনো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারল না। ধারাবাহিকতা গড়ে তোলার জন্য যে সময়ের প্রয়োজন ছিল এই পত্রিকা সেই সময় পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। তবুও তাঁদের কাজটা বাংলা নাট্য সমালোচনার ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।

[ থিয়েটার পত্রিকা , নাট্যপত্র – আশিস গোস্বামী ]

আরও পড়ুন:

 

“থিয়েটার পত্রিকা , নাট্যপত্র – আশিস গোস্বামী”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন