স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ( Swastika Mukherjee )

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি মডেল এবং অভিনেত্রী। তিনি অভিনেতা শন্তু মুখোপাধ্যায়ের কন্যা। তার জন্ম ১৩ ডিসেম্বর ১৯৮০। স্বস্তিকার প্রথমে টেলিভিশন ধারাবাহিক দেবদাসী অভিনয়ের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৩ সালে তিনি ঊর্মী চক্রবর্তী পরিচালিত হেমন্তের পাখি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। তার অভিনীত প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান রবি কিনাগী পরিচালিত মাস্তান চলচ্চিত্রে।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, Swastika Mukherjee
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, Swastika Mukherjee

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন:

স্বস্তিকা মুখার্জী ১৯৮০ সালের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকে তিনি তার পিতা শন্তু মুখার্জীর সাথে সাদাসিধেভাবে জীবন যাপন করছেন, সাথে আরও রয়েছেন তার ছোট বোন “অজপা” এবং তার মা “গোপা”। তার প্রিয় চলচ্চিত্র ছিল “চিটঠি চিটঠি ব্যাং ব্যাং”, “মেরী পপিনস” এবং “দ্যা সাউন্ড অব মিউজিক”। তিনি তার শিক্ষা জীবন কলকাতার কারমেল স্কুল, “সেন্ট তেরেসা স্কুল” এবং “গোখেল মেমরিয়াল স্কুল” থেকে শুরু করেছিলেন।

১৯৯৮ সালে ১৮ বছর বয়সে তিনি বিখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী সাগর সেনের পুত্র প্রমিত সেনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু তাদের বিবাহিত জীবন সুখী ছিলনা। তাদের দম্পতি জীবন পৃথক হওয়ার আগে মাত্র দুই বছর স্থায়ী ছিল। তিনি তার স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক অপব্যবহার এবং গর্ভবতী অবস্থায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন (এটা অবশ্য পরে বরখাস্ত করা হয়)। মুখার্জীর ভাষ্যমতে, সেনের সাথে ২০০০ সালে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য মামলা দায়ের করেন, কিন্তু পরবর্তীতে তার মন পরিবর্তন হয় এবং তিনি অভিনয়ে সফল হয়ে ওঠেন। তার বিবাহিত জীবন থেকে এক মেয়ে অন্বেষা ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

২০০১ সালে মুখার্জি আনন্দ শঙ্কর সেন্টারে “কালচার লার্নিং ড্যান্স”-এ ভর্তি হন, যেখানে তিনি তনুশ্রী শংকরের কাছে থেকে নৃত্যর তালিম নেন। তিনি তখন জিতের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু কোয়েল মল্লিকের কারণে তার তা বেশিদিন টিকে থাকেনী। পরবর্তীতে তিনি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সাথে “ব্রেক ফেল”-এর শ্যুটিং সেটে তার সাথে সম্পর্ক শুরু করেন। কিন্তু তিনি সেই সময়কার প্রথিত নিয়ম অনুযায়ী প্রমিত সেনের বিবাহিত স্ত্রী ছিলেন। ২০১০ সালে তারা আলাদা হওয়ার পর স্বস্তিকা লন্ডন চলে যান।

 

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, Swastika Mukherjee
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, Swastika Mukherjee

 

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবন:

যখন তিনি ইতিহাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক স্তরে পাঠরত ছিলেন তখন থেকে টিভি সিরিয়াল দেবদাসীতে অভিনয় করার সুযোগ পান। এরপন তিনি অন্যান্য টিভি সিরিয়ালেও অভিনয় করেন; যেমন আকাশের নিচে এবং প্রতিবিম্ভ। ২০০৩ সালে তিনি তার বড় পর্দায় উর্মী চক্রবর্তীর পরিচালনায় “হেমন্তের পাখি” নামক ছবির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। যদিও তিনি ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত প্রথম প্রধান চরিত্র হল রবি কিনাগী পরিচালিত “মাস্তান”। মাস্তান ছবির চিত্রগ্রহণ চলাকালে তিনি তার সহকারী তারকা জিতের সঙ্গে প্রণয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ ওঠে। তারা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন; যেমনঃ ক্রান্তি, কৃষ্ণকান্তের উইল এবং পার্টনার। মুখার্জি বর্তমানে বাই বাই ব্যাংকক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে মুম্বাই কাটিং-এ অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।

 

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় অভিনীত চলচ্চিত্রসমুহ:

স্বস্তিকা অভিনীত চলচ্চিত্রগুলি হল, হেমন্তের পাখি, মাস্তান, ক্রিমিনাল, মন্ত্র, ক্রান্তি, হ্যালো কলকাতা, পার্টনার , সবার উপরে তুমি, ব্যোমকেশ বক্সী, বাই বাই ব্যাংকক, নন্দিনী, মুম্বাই কাটিং, আবার ব্যোমকেশ, ভূতের ভবিষ্যৎ, আবর্ত, মাছ মিষ্টি মোর, বসন্ত উৎসব, আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডস, মিশর রহস্য, জাতিস্মর, টেক ওয়ান, শেষের কবিতা, এবার শবর, ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী, কীরিটি রায়, সাহেব বিবি গোলাম, ব্যোমকেশ ও অগ্নিবান, আমি আসবো ফিরে,শাহজাহান রিজেন্সি, কিয়া এ্যন্ড কসমস।

 

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, Swastika Mukherjee
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, Swastika Mukherjee

 

রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে স্বস্তিকা লিখেছেন, লিখেছেন, ‘রবি ঠাকুর বারংবার বাকি গুলোতে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। … বড়ো হয় উনি হয়েছেন আমার সুখ-দুখের সাথি। ওনাকে আঁকরে কত শত অনভূতির আভাস পেয়েছি, ভালো অভিনেত্রী হতে পেরেছি, মাটিতে পা রেখে চলতে শিখেছি। ভাগ্যিস মা রবি ঠাকুর কে এমন ভাবে আঁকরে ধরতে শিখিয়ে ছিল’।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় মাধ্যমিকে বাংলায় পেয়েছিলেন ৮৯ নম্বর। ভাবছেন, বাংলাতে এত নম্বর? হ্যাঁ, ঠিক এতটাই পেয়েছিলেন স্বস্তিকা। সৌজন্যে তাঁর মাস্টার মশাই আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ইংরাজি মাধ্যমে পড়লেও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বাংলাটাও কিন্তু তিনি মন্দ জানেন না। বরং মাতৃভাষায় বেশ ভালো দক্ষতা রয়েছে স্বস্তিকার। অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, যে তিনি মায়ের মাস্টার মশাইয়ের কাছেই বাংলা পড়তে যেতেন। তবে সাহিত্যে ভালো হলেও নিজেকে পদার্থবিদ্যা আর গণিতে ফেল করা ছাত্রীর তকমা দিয়েছেন স্বস্তিকা।

গড়িয়াতে মায়ের মাস্টারমশাইয়ের কাছে বাংলা পড়তে যাওয়া, রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন ব্যবহার করে বাংলা লেখা, এসব নিয়েই নিজের ফেসবুকে পাতায় লম্বা পোস্ট করেছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ঠিক কী লিখেছেন তিনি?

স্বস্তিকা লিখেছেন, ‘আমি বেশ উঁচু ক্লাস অবধি মায়ের মাস্টার মশাইয়ের কাছে বাংলা আর ইংরেজী পড়তাম। এই মাস্টারমশাই আমার মা এবং মায়ের বাকি সব দাদা/ভাই/ বোনদের ও মাস্টারমশাই। সব মিলিয়ে একই বাড়িতে প্রায় ৮ জন। আমার সব চেয়ে ছোট মাসি ছাড়া সবাই বাংলা মিডিয়াম। আমার মায়ের বাংলা অনার্স ও। বাবার ইচ্ছে ছিল আমিও বাংলা মিডিয়ামেই পড়ি, মা সেটা করতে দেয়নি, কিন্তু তাই বলে বাংলা জানবো না এটা হতে দেওয়া যায়না তাই দক্ষতা বাড়াতে মায়ের সেই মাস্টারমশাইয়ের দারস্থ হলাম। ওনার অনেক বয়েস, গড়িয়াতে থাকতেন তাই আমি যেতাম, প্রায় প্রত্যেক দিন। আগে একা পড়তাম, ক্লাস বাড়তে আরো অনেকের সঙ্গে।’

পরীক্ষায় বাংলা প্রবন্ধ লিখতে গিয়ে কীভাবে রবীন্দ্রনাথের সাহায্যে নিয়েছিলেন সেকথাও লিখেছেন অভিনেত্রী। জানিয়েছেন, ‘W.B বোর্ডে বাংলা পেপারে Essay আসতো দুটো। ২০ নম্বর করে। মোট ৪০ নম্বর। তাতে অন্তত ৩৫ পেতে হবেই। মাস্টারমশাই বললেন একটাই মক্ষম উপায়, কবিতা/গান দিয়ে শুরু, কবিতা/গান দিয়ে শেষ। আমার বাড়িতে সারা জীবন গান বাজনার চল, গরমের ছুটিতে গীতবিতান থেকে ৩-৪ গান শিখতেই হবে। তাই স্টক ছিল প্রচুর।পরে W.B বোর্ড পাল্টে আইসিএসই বোর্ডে গেলাম। মাস্টারমশাই তখন স্বর্গে গেছেন। ক্লাস 9 থেকে 10-এ ওঠার ফাইনালে বাংলা essay/প্রবন্ধ লেখার দুটো চয়েস ছিল।একটি গ্রীষ্মের মধ্যাহ্ন -এইটা আমি choose করি। অন্যটা কি ছিল এখন আর মনে নেই।

আমার পাশের বান্ধবী ফিশফিশ করে বললো, একটা দুপুর নিয়ে ২০ নম্বর কি লিখবি? রিস্ক নিস না। হয়তো তখন থেকেই আমার ঝুঁকি নেওয়ার অভ্যেস।আমি শুরু করেছিলাম – প্রখর তপন তাপে – এই গান টার চারটে লাইন লিখে। আর শেষ করেছিলাম ‘দারুণ অগ্নিবাণে রে, হৃদয় তৃষায় হানে রে॥ রজনী নিদ্রাহীন, দীর্ঘ দগ্ধ দিন/আরাম নাহি যে জানে রে॥’ আর এভাবেই তিনি বাংলায় পেয়েছিলেন ৮৯ নম্বর। স্বস্তিকার কথায়,২০ তে ১৮ পেয়েছিলাম, আর ক্লাস ১০ এর বোর্ডে বাংলায় পেয়েছিলাম ৮৯। আমদের বাংলা মিসকে আমরা দিদি মজুমদার বোলে ডাকতাম, ওনার তালিকায় আমি হয়ে গেছিলাম প্রিয় ছাত্রী।’

 

google news , গুগল নিউজ
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

Common Information about Swastika Mukherjee:

  • Stage Name: Swastika Mukherjee
  • Born Name: Swastika Mukherjee
  • Age in 2014: 34 years
  • Date of birth: December 13, 1980
  • Place of birth: Kolkata, India
  • Occupation: Film Actress, Model
  • Height in Feet: 5 Feet 4 Inches
  • Weight in Kilograms: 58 kg
  • Body Measurement and Figure Size:36-26-36 inches
  • Bra Size: 36C
  • Bra Cup Size: C
  • Waist Size: 26 Inches
  • Hip Size: 36 Inches
  • Feet/Shoe Size: 7
  • Dress Size: 6
  • Eye Color:Hazel
  • Hair Color: Black
  • Body Shape: Hourglass
  • Nationality/Ethnicity: Indian
  • Horoscope: Sagittarius
  • Spouse/Boyfriend/Relation: Singer Pramit Sen
  • Debut Movies: Hemanter Pakhi (2003)

 

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ( Swastika Mukherjee ) ফটো গ্যালারি:

 

 

আরও দেখুন:

Leave a Comment