দুই পুরুষ চলচ্চিত্র

দুই পুরুষ চলচ্চিত্র

দুই পুরুষ চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা- এটি একটি জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্র যা পরিচালনা করেন সুবোধ মিত্র। এই চলচ্চিত্রটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিখ্যাত উপন্যাস থেকে নির্মিত। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৮২ সালে  মুক্তি পেয়েছিল এবং এই চলচ্চিত্রটি সংগীত পরিচালনা করেছিলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক। চলচ্চিত্রটিতে ছবি বিশ্বাস, অহীন্দ্র চৌধুরী, নরেশ মিত্র, জহর গঙ্গোপাধ্যায়, শৈলেন চৌধুরী, তুলসী চক্রবর্তী অভিনয় করেছেন।

গল্পটি হল নুটুবিহারী মুখার্জী  একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন এবং একটি মেয়ে কল্যাণীকে ভালোবাসতেন। জেলে থাকা অবস্থায় কল্যাণীর বিয়ে হয় অন্য একজনের সাথে। নুটুবিহারী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সবকিছু জানতে পেরে পরে গ্রামের সহজ সরল মেয়ে বিমলাকে বিয়ে করে।

নুটুবিহারী জমিদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে মামলা জিতে যায়। ফলস্বরূপ, নুটুবিহারী বিখ্যাত হয়ে ওঠে এবং কয়েক বছরের মধ্যে এবং নির্বাচনে জয়ী হয়। ক্ষমতা তাকে আরও দুর্নীতিগ্রস্ত হতে সাহায্য করেছিলঅবশেষে নুটুবিহারী তার দোষ বুঝতে পেরে তার পুরানো মূল্যবোধে চলে এল।

 

 

দুই পুরুষ চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

দুই পুরুষ চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা — নিউ থিয়েটার্স।
  • কাহিনি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • চিত্রনাট্য — বিনয়  চট্টোপাধ্যায়।
  • পরিচালনা ও সম্পাদনা — সুবোধ মিত্র।
  • সংগীত পরিচালনা -পঙ্কজকুমার মল্লিক।
  • চিত্রগ্রহণ — ইউসুফ মুলজী, সুধীন মজুমদার।
  • শিল্প নির্দেশনা – সৌরেন সেন।
  • শব্দগ্রহণ— লোকেন বসু।
  • গীতিকার – শৈলেন রায়।

দুই পুরুষ চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —

ছবি বিশ্বাস, অহীন্দ্র চৌধুরী, নরেশ মিত্র, জহর গঙ্গোপাধ্যায়, শৈলেন চৌধুরী, তুলসী চক্রবর্তী, নরেশ বোস, অশোক সরকার, আদিত্য ঘোষ, হরিমোহন বোস, সাধন সেন, অর্জুন ঘোষ, পুর মল্লিক, চন্দ্রাবতী দেবী, লতিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রেখা মল্লিক।

 

দুই পুরুষ চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

দুই পুরুষ চলচ্চিত্রের কাহিনি—

আদর্শবাদী যুবক নুটুবিহারী (ছবি) ভালোবেসেছিলেন গ্রামেরই মেয়ে কল্যাণীকে (সুনন্দা)। পরাধীন দেশকে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত করার পণ নিয়ে নুটু দেশের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কল্যাণীর বাবা নুটুকে মোটেই পছন্দ করতেন না। এক জনসভায় ব্রিটিশ বিরোধী বক্তৃতার কারণে নুটুকে জেলে যেতে হয়। জেল থেকে ফিরে নুটু জানতে পারেন ইতিমধ্যেই কল্যাণীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে একটি বড়লোকের সাথে। নট দেশসেবাকেই নিজের ব্রত হিসাবে গ্রহণ করেন।

পরবর্তীকালে নটুর সাথে বিয়ে হয় বিমলার (চন্দ্রাবতী)। স্বামীর বিবাহপূর্ব প্রণয়ের কথা জানতে পারলেও বিমলা সংসারের কর্তব্যে কোনো দিন অবহেলা দেখান নি, এমনকী কল্যাণী বিধবা হয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়লে বিমলা তাকে নিজের সংসারে আশ্রয় দেন। গ্রামের অত্যাচারী জমিদারের (অহীন্দ্র) সাথে নুটুর আগে থেকেই কিছু বিরোধ ছিল।

এলাকার চাষি মহাভারতের জমি যখন জমিদার দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন তখন মহাভারতের উকিল হিসাবে নুটু আদালতে দাঁড়ান এবং মহাভারতের জয় হয়। ক্রমশ মোক্তার হিসাবে নুটু সমাজে সম্মানের আসন পান এবং ওকালতি পেশায় সার্থক হয়ে আর্থিক ভাবেও প্রতিপত্তিশালী হয়ে ওঠেন।

 

Google News দুই পুরুষ চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

ক্রমশ নুটু তাঁর আদর্শ থেকে দূরে সরে যান এবং এক সময় তিনি লক্ষ করেন সংসারে তিনি একা হয়ে গিয়েছেন, স্ত্রী, ছেলেমেয়েরা তো বটেই, অত্যাচারিত যে সব মানুষের পক্ষ অবলম্বন করে তিনি প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছেন তারাও তাঁকে আর নিজেদের লোক বলে মনে করে না। নট নিজের ভুল বুঝতে পারেন।

এই একই কাহিনি অবলম্বনে বিকাশ রায়ের লেখা চিত্রনাট্য অবলম্বনে, ১৯৮২ সালে সুশীল মজুমদারের পরিচালনায় ‘দুই পুরুষ’ ছবি মুক্তি পায়। এই ছবিতে নুটুর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *