দুলিয়া চলচ্চিত্রটি ১৯৮২-৮৩ সালে ইন্ডিয়ান প্যানোরামার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। ছবিটি ভার্না চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি পুরস্কার পায়। এটি সৈকত ভট্টাচার্য পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্রটিতে দেবীকা মুখোপাধ্যায়, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, সমর মুখোপাধ্যায়, অমল বিশ্বাস, বীণা রায় অভিনয় করেছেন।
গল্পটি একটি আদিবাসী বাড়ির বৌ তার ছেলেকে ডাক্তার দেখাবার জন্য বড় হাসপাতালে আসে । প্রায় বিনা চিকিৎসায় দুলিয়ার বাচ্চাটি মারা যায়, রিপোর্টার প্রদীপ অনুসন্ধান করার সময় বুঝতে পারে শুধু কানের সংক্রমণ নয়। তার সঙ্গে আছে পেটের রোগ এবং বাচ্চাটির প্রধান সমস্যা ছিল অপুষ্টি। এজন্য আদিবাসী জীবনের সমস্যা নিয়ে তার আরও অনেক কিছ জানার জন্য সে আদিবাসীদের গ্রামে ফিরে যায় এবং নানা প্রশ্নের মধ্য দিয়ে তাদের সমস্যাগুলিকে বোঝার চেষ্টা করে।
দুলিয়া চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা – নিউ ওয়েত ফিল্মস প্রযোজক মিহির বন্দ্যোপাধ্যায়।
- পরিচালনা – সৈকত ভট্টাচার্য।
- গল্প ও চিত্রনাট্য – সৈকত ভট্টাচার্য, ধীমান দাশগুপ্ত।
- সংগীত পরিচালনা —- অলোকনাথ দে।
- চিত্রগ্রহণ – বীরেন মুখোপাধ্যায়।
- শব্দগ্রহণ – জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়।
- সম্পাদনা – বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়।
দুলিয়া চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —
দেবীকা মুখোপাধ্যায়, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, সমর মুখোপাধ্যায়, অমল বিশ্বাস, বীণা রায়, নারায়ণ মুখোপাধ্যায়, প্রদীপ মল্লিক, প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায়, গোপা সেনগুপ্ত, শিবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, তুহিন দত্ত, মাতি।
নেপথ্য পাঠ –
অনিল চট্টোপাধ্যায়, উৎপল চট্টোপাধ্যায়।
দুলিয়া চলচ্চিত্রের কাহিনি-
দুলিয়া (দেবীকা) গ্রামের একটি আদিবাসী বাড়ির বৌ, বাড়িতে আছে স্বামী শিবু (সমর), শ্বশুর আকাল (অমল), শাশুড়ি (বীণা) এবং সদ্যোজাত পুত্র, অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। শিবু কাজের সন্ধানে শহরে গিয়েছে। ছেলের কানে যন্ত্রণা, কাঁদতে কাঁদতে বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়ে- দুলিয়ার চোখে ঘুম আসে না।
পরদিন ভোরে বাড়ির লোকদের ঘুম ভাঙার আগেই দুলিয়া বাচ্চাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে থকাপুরে বড় হাসপাতালে তাকে ডাক্তার দেখাবার জন্য। রাস্তায় বাস ভাড়া না থাকার জন্য যখন সে হতোদ্যম তখন প্রদীপ (সতীনাথ) নামে এক রিপোর্টারের সাহায্যে তার জীপে করে শহরে আসার সুযোগ পায়।
প্রায় বিনা চিকিৎসায় দুলিয়ার বাচ্চাটি মারা যায়, প্রদীপ অনুসন্ধান করার সময় বুঝতে পারে শুধু কানের সংক্রমণ নয়। তার সঙ্গে আছে পেটের রোগ এবং বাচ্চাটির প্রধান সমস্যা ছিল অপুষ্টি। প্রদীপ দুলিয়াকে বাড়ি ফেরার বাস ভাড়া দেয়, বাড়িতে ফিরে দুলিয়া তার শ্বশুর ও শাশুড়ির দ্বারা লাঞ্ছিত হলেও শিবু দুলিয়ার কষ্টের অংশীদার হয়। প্রদীপ বাচ্চাটির মৃত্যুর বিষয় নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে অনুসন্ধান শুরু করে।
অন্যদিকে প্রদীপ তার অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন কাগজের অফিসে জমা দিলেও সম্পাদক সেটি ছাপতে রাজি হয় নি। প্রদীপ চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়। তার মনে হয় আদিবাসী জীবনের সমস্যা নিয়ে তার আরও অনেক কিছু জানার দরকার, সে আদিবাসীদের গ্রামে ফিরে যায় এবং নানা প্রশ্নের মধ্য দিয়ে তাদের সমস্যাগুলিকে বোঝার চেষ্টা করে।

প্রকাশনা –
দুলিয়া গল্প ও চিত্রনাট্য। ধীমান দাশগুপ্ত ও সৈকত ভট্টাচার্য। কলকাতা, – বাণীশিল্প, ১৯৮৩।
